ক্রমেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা মিনহাজ চৌধুরী। বছর দুয়েক আগে, ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী যে বাছাই ৩০ জনের নাম প্রকাশ করেছিল, সে তালিকায় ছিল মিনহাজের নাম। এবার সেই ধারাবাহিকতায় মিনহাজ জায়গা করে নিয়েছেন “আন্ডার থার্টি ইম্পেক্ট চ্যালেঞ্জ” পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকায়ও। উল্লেখ্য যে, মিনহাজই প্রথম কোন বাংলাদেশী তরুণ উদ্যোক্তা যিনি ফোর্বসের মতো এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে নিজের কাজের স্বীকৃতি অর্জন করে নিতে সমর্থ হলেন। মিনহাজ ‘ড্রিংকওয়েল’ নামের সামাজিক উদ্যোগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফোর্বস আন্ডার থার্টি সম্মেলনে গত সোমবার (২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে মিনহাজের এ স্বীকৃতি অর্জনের ঘোষনা দেওয়া হয়। আর সেই সুবাদে পুরস্কার হিসেবে মিনহাজের প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিংকওয়েল’কে প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ ডলার প্রদানও করা হয়। ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরস্কার হিসেবে পাওয়া পাঁচ লাখ ডলারের মধ্যে আড়াই লাখ ডলার খরচ করা হবে বিনিয়োগ খাতে এবং বাকি অর্থ ফোর্বসের মিডিয়া গ্রান্ট হিসেবে দেওয়া হবে।

এ পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোনবার মিনহাজ ফেসবুকে লেখেন, ‘চলুন আপনাদেরকে আমার আজকের দিনটার ব্যাপারে জানাই। এখনও জেটল্যাগে ভুগছি, কারণ গত রাতে ঢাকা থেকে আজ সকালেই বোস্টনে উড়ে এসেছি ফোর্বস আন্ডার ৩০ ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে। পৌঁছানোর ২০ মিনিট পর জানলাম আমরা জিতেছি! ড্রিংকওয়েলের এগিয়ে চলার পথে প্রথম পদক্ষেপটা কি অসাধারণই না হলো। আমি গর্বিত আমার দলটাকে নিয়ে!!!’

বাংলাদেশ ও ভারতের যে সব স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে, বিশেষ করে পানিতে আর্সেনিক, ফ্লুওরাইড এবং আয়রনের শিকার হচ্ছেন এমন আড়াই লাখ মানুষের জন্য প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে মিনহাজের প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিংকওয়েল’। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

আর এই মহতী উদ্যোগের জন্য ফোর্বসের স্বীকৃতি ছাড়াও মিনহাজের আছে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ জ্যাকপট প্রতিযোগিতায় মিনহাজ ও তার ‘ড্রিংকওয়েল’ প্রকল্প প্রথম স্থান অধিকার করে। ওই বছরই সাউথওয়েস্ট ইকো অ্যাওয়ার্ডসের প্রফিট সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত দ্য টেক মিউজিয়াম অব ইনোভেশনের টেক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশন ‘ড্রিংকওয়েল’কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

মিনহাজের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে। কিন্তু তার প্রকৃত শেকড় বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। বাবা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চৌধুরী আহমেদ ও মা নাজনীন আহমেদ দুজনই তরুণ বয়সে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা যন্ত্রকৌশল বিষয়ে পড়েছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে। স্কুলের পড়াশোনা শেষে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকে ভর্তি হন মিনহাজ। তখন থেকেই তিনি যুক্ত থেকেছেন একের পর এক জনকল্যানমূলক কাজে, এবং ক্রমশই গোটা বিশ্বের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য হয়ে উঠছেন একজন রোল মডেল। সেই সাথে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মাথাও উঁচু করে তুলছেন ইতিবাচক কারণে।

কৃতজ্ঞতা- দ্য ডেইলি স্টার

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-