ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

আই হেট পলিটিক্স কিংবা বিসিএস জেনারেশন ও মনীষার চপেটাঘাত!

হে তরুণ প্রজন্ম! তোমরা যারা বি‌সিএস বা একটা চাকু‌রি‌কে ইচ্ছে বা অ‌নি‌চ্ছায় জীব‌নের একমাত্র স্বপ্ন বা‌নি‌য়ে‌ছো অার যারা ইতিম‌ধ্যেই সেই চাকু‌রি পে‌য়ে বু‌ঝেছ এ কোন সোনার হ‌রিণ নয়! অাজ চলুন অামরা ভিন্ন এক পাঠ নেই। অাপনারা নিশ্চয়ই এতো‌দি‌নে মনীষা চক্রবর্তীর নাম জে‌নে‌ছেন বা শুনে‌ছেন। হয়‌তো তা‌কে নি‌য়ে হাসাহা‌সিও ক‌রে‌ছেন। কিন্তু ম‌নে রাখ‌বেন অাপ‌নি অা‌মি সব তরুণ য‌দি মনীষা হ‌তে না পা‌রি কখ‌নোই এই দেশ বদলা‌বে না।

কেন সেই ব্যাখায় যাবার অ‌া‌গে চলুন মনীষার গল্পটা শু‌নি। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে তরুণ তিনি। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব।

মনীষা চক্রবর্তী, রাজনীতি, নির্বাচন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল

অাপনারা যারা বি‌সিএস‌কেই জীব‌নের স্বপ্ন ম‌নে ক‌রেন তারা শুনুন ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পান মনীষা চক্রবর্তী। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে এই চিকিৎসক রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন। বিনা পয়সায় গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে থাকেন তিনি। শ্রমিকদের মধ্যে জনপ্রিয় তিনি।

বরিশাল শহরে প্রান্তিক মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজপথে কয়েক বছর ধরেই সক্রিয় মনীষা। ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত ১৯ এপ্রিল শ্রমিকেরা বরিশাল শহরে মিছিল বের করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মনীষাও। সেদিন পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ২৬ এপ্রিল জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। গত এক মাস সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণসংযোগ, পথসভা এবং অন্যান্য প্রচারে মাঠে ছি‌লেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

অাপনারা মনীষা‌কে ভোট দে‌বেন কী না দে‌বেন সেই অালা‌পে প‌রে অাস‌ছি তার অা‌গে অাপনারা যারা নি‌জে‌দের রাজনী‌তি থে‌কে দূ‌রের মানুষ ম‌নে ক‌রেন এবং ব‌লেন অাই হেট প‌লি‌টিক্স তারা একবার নি‌জে‌কে জিজ্ঞাসা করুন। কাল য‌দি অাপ‌নি অাপনার বাবা মা বা প‌রিবার‌কে ব‌লেন, অা‌মি রাজনী‌তি কর‌বো, নির্বাচন কর‌বো নিশ্চয়ই অাপনা‌কে অাপনার প‌রিবার পাগল বল‌বে। অথচ সব সমস্যার সমাধান এখা‌নেই।

মনীষা চক্রবর্তী, রাজনীতি, নির্বাচন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল

কেন জা‌নেন? অাপ‌নি হয়তো বি‌সিএস পু‌লি‌শ বা প্রশা‌স‌নের কর্মকর্তা। হয়‌তো অাপ‌নি স্রো‌তের বিপরী‌তে গি‌য়ে এখ‌নো সৎ ও মান‌বিক থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অাপ‌নি কী জা‌নেন অা‌মি অাপ‌নি য‌তো ভা‌লো পু‌লিশ, য‌তো ভা‌লো প্রশাস‌নে‌র কর্মকর্তা, য‌তো ভা‌লো ডাক্তার, ইঞ্জি‌নিয়ার বা বিচারক হই না কেন তা‌তে মান‌ু‌ষে‌র খা‌নিক উপকার হ‌লেও অামরা এই রা‌ষ্ট্রকে খুব বে‌শি বদলা‌তে পার‌বো না। কারণ রাষ্ট্র চ‌লে জনপ্র‌তি‌নি‌ধি‌দের কথায়। তারাই সব ঠিক ক‌রেন।

অাপনারা যারা কথায় কথায় পুলিশ‌কে গাল দেন ভা‌বেন এই দেশ ধ্বং‌সের জন্য পু‌লিশ দায়ী তারা নষ্ট হ‌য়ে গেছে তারা ভুল ভাবছেন। পু‌লি‌শে থাকা যারা ভাব‌ছেন প্রশাসন বা বিচার বিভা‌গের জন্য দেশ অাগা‌চ্ছে না তারাও ভুল ভাব‌ছেন। এভা‌বে অামরা সারাদিন একে অন্য‌কে দোষ দিতে পা‌রি কিন্তু অাসল কথা হ‌লো অাপনার মাথা নষ্ট হ‌লে যেমন সব নষ্ট তেম‌নি একটা দে‌শের রাজনী‌তি নষ্ট হ‌লে সে দে‌শে‌র পু‌লিশ, প্রশাসন, ‌বিচার বিভাগ, শিক্ষক এমন‌কি মস‌জি‌দের মাওলানাও নষ্ট হ‌বে সেটাই স্বাভা‌বিক। কা‌জেই দেশ ঠিক কর‌তে হ‌লে সবার অা‌গে রাজনী‌তি ঠিক কর‌তে হ‌বে।

এখন কথা হ‌লো এই নষ্ট রাজনী‌তি ঠিক কর‌বে কে? অাপ‌নি হয়তো ভাব‌ছেন কোন একজন নেতা এসে সব ঠিক করে দে‌বে। সবাই একই কথা ভাব‌ছে। অথচ কেউ নি‌জে সেই দায়িত্ব নি‌তে রা‌জি নয়। ভাবুন তো একবার বঙ্গবন্ধু কী কারও জন্য অ‌পেক্ষা ক‌রে‌ছি‌লেন? তি‌নি কিন্তু তরুণ বয়‌সেই বু‌ঝে গি‌য়ে‌ছি‌লেন এই দেশ স্বাধীন করার দা‌য়িত্ব তা‌দের নি‌তে হ‌বে।

অাপনারা কে কীভা‌বে দে‌খেন জা‌নি না কিন্তু অা‌মি বল‌বো অামা‌দের দে‌শের বড় দুই দল চাই‌ছে তরুণ মেধাবীরা রাজনী‌তি থে‌কে দূ‌রে থাকুক। য‌দি তারা অাস‌লেই তরুণ মেধাবীদের রাজনী‌তি‌তে চাই‌তো তাহ‌লে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ডাকসু নির্বাচন হ‌তো। দে‌শের সব ক‌লেজ বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ছাত্র সংসদ দি‌য়ে তরুণ‌দের রাজনী‌তি‌তে অাসার উৎসাহ দেয়া হ‌তো। কিন্তু বাস্তবতা হ‌লো অামা‌দের রাজনী‌তিবিদরা চান না তরুণ মেধাবীরা রাজনী‌তি‌তে অাসুন। তারা এলে যে তা‌দের মু‌খোশ উম্মোচন হ‌য়ে যাবে। এমনকি ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল ক‌রে তার ম‌ধ্যে থে‌কেও মেধাবী সৎ তারুণ্য চায় না দুই দল।

মনীষা চক্রবর্তী, রাজনীতি, নির্বাচন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল

কিন্তু সৎ ও তরুণরা রাজনী‌তি‌তে না এলে রাজনী‌তি তো ঠিক হ‌বে না। অাজ‌কে এই দেশটা রসাত‌লে গেল ব‌লে সারা‌দিন অাড্ডা অার ফেসবু‌কে রাজনী‌তি‌বিদ‌দের গা‌লিগালাজ না ক‌রে নি‌জেই দা‌য়িত্ব নিন। ম‌নে র‌াখ‌বেন ভা‌লো মানুষ যতো‌দিন রাজনী‌তি‌তে না অাসবে ত‌তো‌দিন রাজনী‌তি ঠিক হ‌বে না। অার য‌তো‌দিন অাপ‌নি অা‌মি বা য‌ারা নি‌জে‌দের ভা‌লো মানুষ ভা‌বি সৎ মান‌বিক ভা‌বি তারা যদি রাজনী‌তি‌তে না অা‌সি কখ‌নো রাজনী‌তি বদলা‌বে না। কা‌জেই চলুন রাজনী‌তি শুরুর কথা ভা‌বি প্র‌তিটা তরুণ তরুনী। ম‌নে রাখ‌বেন অাপনার বি‌সিএস ক্যাডার হওয়া বা না হওয়া‌তেই কিছু যায় অা‌সে না। কিন্তু মানু‌ষের জন্য, দেশের জন্য কিছু কর‌তে চাই‌লে সব‌চে‌য়ে বড় প্ল্যাটফর্ম রাজনী‌তি।

তারুণ্য‌কে বা ভা‌লো মানুষ‌কে রাজনী‌তি‌তে অানার এই ত‌ত্ত্বের অা‌মি নাম দি‌য়ে‌ছি অাপ‌নিই হন সেই নেতা। অা‌মি মনে ক‌রি সারা দু‌নিয়াকে বদলা‌তে হ‌লে একই তত্ত্ব কা‌জে লাগা‌তে হ‌বে। স্থানীয় নির্বাচন হোক, শিক্ষক নির্বাচন কিংবা জাতীয় নির্বাচন চ্যা‌লেঞ্জ করুন। প্রার্থী হ‌য়ে যান।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে এবার নতুন ভোটার হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী। নিশ্চয়ই সেখা‌নকার ভোটার‌দের অ‌র্ধে‌কের বে‌শির বয়স ত্রি‌শের অাশপা‌শে। অাপনা‌দের বল‌বো মনীষার পা‌শে দাঁড়ান। বাস‌দ দিন বদলা‌তে পার‌বে সেই বিশ্বাস অামার নেই কিন্তু মনীষা‌দের প্র‌তি অামার বিশ্বাস অা‌ছে।

অা‌মি জা‌নি অাজ‌কে হয়‌তো মনীষারা জিত‌বে না কিন্তু এভা‌বে চ্যা‌লেঞ্জ কর‌তে কর‌তে এক‌দিন অামরা জি‌তে যা‌বো নয়‌তো অামা‌দের রাজনী‌তি‌বিদরা ভা‌লো হ‌য়ে যা‌বে। অার এভা‌বে এক‌দিন রাজনী‌তি‌তে ভা‌লো মানুষের দাপট অাস‌বেই।

অাবারও ব‌লি ম‌নে রাখ‌বেন রাজনী‌তি ভা‌লো না হ‌লে কিছুই ভা‌লো হ‌বে না। অার ভা‌লো মানুষ রাজনী‌তি‌তে না হ‌লে কখ‌নোই রাজনী‌তি‌ ভা‌লো হ‌বে না। অার রাজনী‌তি ভা‌লো করার দেশ‌ ও দু‌নিয়াকে ভা‌লো করার সেই দা‌য়িত্ব অাপনা‌কে অামা‌কে নি‌তেই হ‌বে। অার সে কার‌ণেই মনীষার জন্য অামার শ‌ুভ কামনা। শুভ কামনা অামা‌দের সবার জন্য।

আরও পড়ুন- 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close