সিনেমা হলের গলি

মাহতিম শাকিব, তোমার প্রতি নিন্দার দায় তোমার প্রশংসাকারীদের

প্রিয় মাহতিম শাকিব, বয়স কত তোমার? জানি না। খুব সম্ভব ১৬-১৭ হবে। বাচ্চা একটা ছেলে তুমি। তবে এর মধ্যেই তুমি সেলিব্রেটি হয়ে গেছো। তোমাকে অভিনন্দন! কেউ বলে তুমি অবিকল অরিজিৎ, আর তোমার নিজের অনুপ্রেরণা সানাম পুরী। তুমি তার মত হতে চাও। খুব ভালো। তোমার হাসি সুন্দর, তুমি দেখতে ভালো, তাই তোমার ভক্তের সংখ্যাও অনেক। ইদানিং আবার খুব ক্রাশ খাওয়ার চল এসেছে। তোমার হাসি দেখে অনেক মেয়ে ক্রাশ খাচ্ছে খুব তিনবেলা নিয়ম করে। অনেকেই তোমাকে বলছে বাংলাদেশের মিউজিকের ভবিষ্যত, অনেকের কাছে তুমিই সেরা, এমন ভালো ভালো অনেক কথা তুমি শুনেছো নিশ্চয়ই?

তোমার ফেসবুক পেইজের রেটিং ফোর পয়েন্ট নাইন (গতকাল ছিলো। আজ অবশ্য তা ফোর পয়েন্ট এইট)। তোমার সাথে রেডিওর সুশ্রী ডিজেরা কথা বলছে। সেখানে যতটা না তোমার গান নিয়ে কথা তার চেয়ে বেশি কথা হচ্ছে তোমার জাতীয় ক্রাশে পরিণত হওয়া নিয়ে। দেশের প্রথম সারির পত্র পত্রিকাগুলোও তোমাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে। খুব ভালো কাটছে নিশ্চয়ই সময়?

তবে গতকাল রাত থেকে অতটা ভালো সময় নাও কাটতে পারে। কারণ বাংলানিউজের লাইভে শিরোনামহীন এবং লিনকিন পার্কের গানের দুর্বল কভার করে ভক্তদের চক্ষুশূল হয়েছো। আমি নিজেও তোমাকে কটূ কথা বলেছি। কিন্তু বিশ্বাস করো, এর দায় তোমার না। এই যে তোমাকে ট্রোল করা পোস্টে হাজারের বেশি শেয়ার হয়, এই দায় তোমার না, আমাদের। কীভাবে? বলছি।

মাহতিম শাকিব, তুমি দেখতে সুন্দর, ইনোসেন্ট চেহারার কিশোর, তুমি হাসিমুখে গান গাও, তোমার ভিডিও দেখে হাজারো কিশোরী ক্রাশ খায়, বিশ্বাস করো এগুলোর কোনোটাই ভালো গান গাওয়ার পূর্বশর্ত নয়। গান গেয়ে পরিচিত হতে হলে তোমাকে একটা কাজই ভালো করে করতে হবে। তা হলো, গান ভালো করে গাওয়া। আর কিছু না। তোমার তো ক্লাসিকাল ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, তুমি গান শিখেছো, শিখছো, তুমি তো নুসরাত ফারিয়ার মত হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘কন্ঠশিল্পী’ না। তুমি শিখছো, গাইছো মনের আনন্দে। তোমার এখনও অনেক পথ যাবার বাকি, পুরোনো গানগুলিকে নতুন করে গেয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাও তুমি, তোমাকে অভিবাদন। কিন্তু এই যে হঠাৎ পাওয়া এই জনপ্রিয়তা, এই যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় মাতামাতি, এমন কিছু হবার পেছনে যখন নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায় তোমার চেহারা, লুক, হাসি, পার্সোনালিটি, হাইট ইত্যাদি তখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

আর সেজন্যেই তোমাকে কেউ বলে দেয় না যে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার লাইভে এসে ভুল সুরে ভুল লয়ে গান গাওয়া যায় না। তখন কটূ কথা শুনতে হয়, তখন ট্রলের শিকার হতে হয়। অলরাউন্ডার হওয়া, সব গানে দখল রাখার দরকার আছে, বলো? যেটা তোমাকে মানায় সেটাতেই লেগে থাকা উচিত, এই কথাটা কেউ বলতে গেলে তোমার শুভানুধ্যায়ীরা তাদেরকে বানিয়ে দেবে হেটার। এখন তো আমরা সবাই খুব চরমপন্থী হয়ে গেছি। হয় এ্যাডমায়ারার, নয় তো হেটার। এর মাঝে যেন সঠিক সমালোচনা বলতে কিছু নেই।

শাকিব, তোমার গান গাওয়ার ধরণ আমার প্রথম থেকেই খুব একটু ভালো লাগে না। মনে হয় যে তুমি অরিজিতের হুবহু কপি করার চেষ্টা করছো। এই কথাটা তোমাকে পৌঁছে দিতে গেলে মাঝখানের অতি উৎসাহী ডাকহরকরাগণ আমাকে বানিয়ে দেবে হেটার, বানিয়ে দেবে শত্রু, বলবে যে “ভালো না লাগলে ইগনর করেন”। ভালো না লাগলে আমি ইগনওর কেন করবো বলো তো? ভালো না লাগটাই তো বেশি করে বলা উচিৎ, যাতে তুমি তোমার খামতিগুলো শুধরে নিতে পারো। তুমি গানের চর্চা করো, তুমি পুরোনো গানকে নতুন করে গাইতে চাও, আমার ভয় হয় চপলমতী বালিকাদের দল তোমার উচ্চতা, চেহারা আর হাসি দেখে তোমাকে সেই উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে অযথা প্রশংসায়, শুধুই প্রশংসায়।

আর তাই তোমার ভুল সুরে লিংকিন পার্ক বা শিরোনামহীনের কভার করার পেছনে দায় শুধু তোমার একার না, তাদেরও।

তোমার চর্চা সুন্দর হোক, তোমাকে নিয়ে সুন্দর চর্চা হোক। শুভকামনা রইলো।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close