সাইফাই মুভি দ্য ম্যাট্রিক্স দেখেছেন? দেখে থাকলে নিশ্চয়ই মনে আছে, সভ্যতার অগ্রযাত্রার এক অনিবার্য ভবিষ্যত হচ্ছে মেশিন বা যন্ত্রপ্রজাতির উত্থান এবং তার কাছে মানুষের আপাত পরাজয়। শুধু দ্য ম্যাট্রিক্স নয়, অসংখ্য সায়েন্স ফিকশন গল্প, সিনেমা, এমনকি সাম্প্রতিক কালে প্রযুক্তি দুনিয়ার বড় বড় স্তম্ভরাও বলতে শুরু করেছেন যে অদুর ভবিষ্যতে যন্ত্রই হয়তো নিয়ন্ত্রন করবে সভ্যতার সিংহভাগ।

প্রযুক্তিবিদ এবং বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক সম্প্রতি সেরকমই আশংকা প্রকাশ করলেন। দুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে মাস্ক বলেন, বায়োলজিকাল বুদ্ধিমত্তার সাথে ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তার মিশ্রন এবং সমন্বয় ঘটানো এবং তার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ ঘটাতে না পারলে একসময় বায়োলজিকাল বুদ্ধিমত্তা তথা মানুষ, অপ্রাসংগিক হয়ে উঠবে। (সোজা বাংলায়, পুরনো মাল হিসেবে বাতিল হয়ে যাবে!)

কমপিউটারের সাথে মানব বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রনের ধারনা অবশ্য খুব নতুন নয়। প্রায় ষাট বছর আগে কমপিউটার বিজ্ঞানের অগ্রদূত যোসেফ কার্ল রবনেট লিকলাইডার লিখে গিয়েছেন, ভবিষ্যতে এরকম হিউম্যান-কম্পিউটার সহাবস্থানের কথা, যার চিন্তা যেকোনো মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতার বাইরে হবে, এবং যার কমপিউটেশনাল ক্ষমতাও যে কোন কম্পিউটারের কার্যপদ্ধতির চেয়ে অসাধারণ হবে।

ইলন মাস্কের কথায়, দ্রুততম কম্পিউটার এখন সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন বিট গতিতে কাজ করে। অন্যদিকে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা যাই হোক না কেন, তা কাজ করে স্মার্টফোন বা অন্য কোন কমপিউটারে টাইপ করার বা ইনপুট দেয়ার মাধ্যমে, যার গতি সেকেন্ডে মাত্র দশ বিট! মানব মস্তিষ্কের সাথে শক্তিশালি যদি সেরকম কোন হাইব্যান্ড উইথ ইন্টারফেইস তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে মানুষের কাজ করার গতি হতে পারে কম্পিউটারের গতির সমানই!

মাস্কের ভবিষ্যত দর্শন ঠিক হলে তা আমাদের সাইফাই মুভিতে দেখা স্বপ্নের (নাকি দুঃস্বপ্নের?) খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে বলেই মনে হয়। এখন প্রশ্ন হলো ম্যাট্রিক্সের নিও এন্ডারসনের মতো আমাদের কোনো ত্রাণকর্তা থাকবে কি? আপনি কি হবেন নিও, নাকি সাইফার? অলীক স্বপ্নের জগত থেকে বেড়িয়ে যত রুঢ় হোক না কেন, বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ  করবেন? নাকি এক টুকরো রসালো তাজা ভার্চুয়াল মাংসের স্বাদ আপনাকে বেশি টানে?

তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল

Comments
Spread the love