মার্টিন লুথারের একটি উক্তি- “How soon ‘not now’ becomes ‘never’.”  আমাদের অনেকেরই জানা আছে হয়তো। কোনো কাজ আমরা পরে করবো বলে আর করা হয়নি কিংবা সময়ই শেষ হয়ে গিয়েছে- এমনটা আমাদের সবার সাথেই হয়। ৫ মিনিট ঘুমাবো বলে আমরা ১ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। কোনো সিরিজ কালকে দেখবো বলে আরেক মৌসুম চলে আসে। এইভাবেই জমতে থাকে একের পর এক সিরিজ, মুভি, কিংবা কাজের বোঝা। এটাকে অলসতা বলা হয়। আসছে শীতকাল, তো অলসতা আরও বেড়ে যাবে। ঠাণ্ডার কারনে বিছানা থেকেই উঠতে ইচ্ছা করবে না। কিন্তু আপনার জমে থাকা কাজ গুলো কিন্তু কমবে না বরং আরও বেড়েই যাবে। অলসতা কাটানোর সবচে বড় উপায় হচ্ছে নিজে নিজেকে অনুপ্রাণিত করা। আপনি যদি নিজে চান তাহলেই সম্ভব সময়ের কাজ সময়ে করার। এছাড়াও অন্য উপায় তো আছে বটেই। চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে অলসতা কাটিয়ে সময়ের কাজ সময়ে করা যায়।

১। ছোট ধাপ দিয়ে শুরু করুন

আমি বলছি না এক দিনেই সব কাজ শেষ করে ফেলুন। আমরা কেউই সুপারম্যান না। কিন্তু একেক ধাপ করে যদি কাজটা করেন, তাহলে কাজটা এগিয়ে থাকবে। তখন দেখবেন কাজটা তো প্রায় শেষই, শুধু ফিনিশিং দেয়া বাকি। সুতরাং আজই শুরু করে দেন।

২। গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন

যে কাজটি অন্য সব কাজের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ, সে কাজটি আগে করুন। এতে করে শেষ মুহূর্তে কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। ফলে আপনার অলস সময় দুশ্চিন্তায় কাটাতে হবে না। আর তাড়াহুড়ার কাজ কখনোই ভালো হয় না- কে না জানে!

৩। মোটিভেশনাল লেখা পড়ুন

ঘুম থেকে উঠেই আপনার দিন শুরু করুন কোনো মোটিভেশনাল লেখা দিয়ে। এতে করে আপনি নিজের মন থেকে অলসতা কাটিয়ে নিজের কাজ নিজে করবেন। আরও ভালো হয় যদি দেয়ালে আপনার প্রিয় মোটিভেশনাল লেখা লাগিয়ে রাখতে পারেন। উঠতে বসতে চোখের সামনে পড়বে, তখন আর এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

৪। একটি কাজেই ফোকাস করুন

কখনোই একসাথে দুইটা কাজে মনোযোগ দিবেন না। একটা সময়ে একটি কাজেই সব মনোযোগ দিন। ফলে আপনার কাজটি করতেও ইচ্ছা করবে এবং কাজটি ভালো হবে। কিন্তু একসাথে দুইটা কাজে মনোযোগ দিলে কাজের প্রতি আপনার একটা অনীহা ভাব সৃষ্টি হবে, যা আপনারই ক্ষতি সাধন করবে।

৫।  সুবিধার কথা চিন্তা করুন

নিরুৎসাহিতা এবং অলসতা পরিহার করে চিন্তা করুন আপনার কি সুবিধা হবে তা নিয়ে। একবার ভাবুন অলস বসে না থেকে যদি সেই সময়টি কোনো প্রোডাকটিভ কাজে ব্যয় করেন তাহলে কত ভালো হবে। অযথা সময় অপচয় না করে আপনি যদি কোনো নতুন ভাষাও শিখেন তাও কাজে আসবে। চেষ্টা করে দেখুন।

৬। সফল মানুষদের কাছ থেকে শিখুন

যুগ যুগ ধরে যত ব্যক্তি সফল হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ অলসতাকে জিততে দেয়নি। তাদের কাছ থেকে শিখুন। আপনার আশেপাশের সফল মানুষদের সাথে কথা বলুন এবং তাদের সাথে সংযুক্ত হন। কাজকে স্রেফ একটি কাজ নয়, বরং প্রতিটি কাজকে আপনার জীবনের একেকটি অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলেই দেখবেন শরীরে আর অলসতা বাসা বাধতে পারবে না।

অবশ্যই ঘুমাবেন, বিশ্রাম নিবেন। কিন্তু মনে রাখবেন ঘুমকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঘুম যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। সারা জীবন ঘুমিয়ে অলসতায় কাটিয়ে দিলে বাকি জীবন আফসোস করে কাটাতে হবে। তাই নিজের শরীরকে চাঙ্গা করে অলসতাকে শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-