প্রফেসর করুণা রাণী কর্মকার। একজন সর্বোচ্চ মানের মেধাবী মানুষ, একজন সজ্জন এবং গুনী চিকিৎসক, একজন মানবদরদী প্রফেশনাল। একজন অসাধারন শিক্ষক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় হাজার বিশেক অপারেশন করেছেন তিনি, গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যার বিশেষজ্ঞ বলে এসব অপারেশনের সিংহভাগই সিজারিয়ান সেকশন। জীবনের দুইটি যুগ পার করেছেন তিনি এই বিষয়ের উপর কাজ করে। চিকিৎসকদের কাজ অন্য সবার মত নয়, তাদের কোন বিষয়ে কাজ করা মানে সেই বিষয়ের উপর প্রথমে চার বা পাঁচ বছর ধরে পড়াশোনা, ট্রেনিং, শত শত এবং হাজার হাজার অপারেশন, কেস ডিলিং, রিপোর্টিং, হলিস্টিম ম্যানেজিং, এবং তার ইভালুয়েশন শেষে বিশেষজ্ঞ সার্টিফিকেশন পাওয়া। অন্য কোন ক্ষেত্রের প্রফেশনাল হলে তাকে একজন অথরিটেটিভ ফিগার হিসেবে মাথায় তুলে রাখা হতো। আলাদা করে ভালবাসা আর সম্মানে সিক্ত হতেন তিনি হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষার জন্যে, অন্য সব চিকিৎসকের থেকেও স্বতন্ত্রভাবে আরো বেশি মানবতার সেবা করে যাবার জন্যে।

কিন্তু তা কেন হবে, তিনি তো বাংলাদেশের চিকিৎসক। এমন এক দেশের এবং এমন এক প্রফেশনের প্রফেশনাল তিনি, যেখানে ফাইভ বা এইট পাশ সাংবাদিকও হয়ে উঠতে পারে অথরিটেটিভ ফিগার, যা নয় তা লিখে হেয় করতে পারে একজন স্বীকৃত এবং পরীক্ষিত বিশেষজ্ঞকে। লিখে দিতে পারে যা জানে না তা সম্পর্কে দিস্তা দুয়েক আর্টিকেল। সাজাতে পারে মিথ্যার বেসাতি। কমপ্লাই না করলে দাবী করতে পারে চাঁদা, কিংবা প্রতিবেশী দেশের হেলথ ট্যুরিজম বোর্ডের রুপি বা ডলারের দামে বিক্রি হয়ে যাওয়া সম্পাদকদের কাছ থেকে এসব করার দরুণ পেতে পারে প্রশংসা, প্রমোশন! এবং এসবই করতে পারে কোন ভয়, অস্বস্তি, কিংবা কৃতকর্মের জন্য শাস্তির তোয়াক্কা না করেই। কারণ এটা বাংলাদেশ। এখানে ধর্ষক ভয় পায় না, ধর্ষিতাকেই পালিয়ে বেড়াতে হয়। এখানে অপকর্মের জন্যে কারোর শাস্তি হয় না বললেই চলে। মনগড়া সাংবাদিকতা এখানে বাকি সবার চেয়ে বরং আরো বেশি দাম্ভিকতা আর অভয় নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় শিকারের সন্ধানে।

গত সতেরই মার্চ রাত আটটার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগ হয়ে গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন ছাব্বিশ বছরের এক প্রসূতি নারী। ইতিপুর্বে তিনি তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, যার কোনটিতেই চিকিৎসকের কাছে যান নি। এর মধ্যে দুটি সন্তান ছয় এবং আট মাসে মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়, এবং আরেকটি সন্তান জীবিত ও সুস্থ আছে। এবারের প্রেগন্যানসিতেও তিনি কোন চিকিৎসক দেখাননি। ঘটনার দিন দুপুর থেকে পানি ভাংগা, অল্প ব্যাথার সাথে বাচ্চার নাড়াচাড়া না পেয়ে তিনি প্রথমে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে হায়ার সেন্টার তথা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। কুমেকে ভর্তির সময় বাচ্চার হাত ও পা জরায়ু থেকে বেরিয়ে এসেছিলো এবং কোন হৃদস্পন্দন ছিলো না, অর্থাৎ বাচ্চা তখন মৃত। বাচ্চাকে রক্ষা করার ব্যাপার আর প্রযোজ্য নয় বলে চিকিৎসকরা তাকে স্বাভাবিক ডেলিভারির প্রত্যাশায় অষুধপত্র দিয়ে রাখেন। সাথে আলট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন, কিন্তু রোগীর লোকজন সেটা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। রোগীর পরিবারকে জানানো হয় যে বাচ্চা মৃত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে স্বাভাবিক ডেলিভারীর জন্য, যদি সম্ভব না হয় তাহলে অপারেশন করা হবে। পরদিন সকাল দশটা নাগাদ বাচ্চার শরীরের পুরোটাই বের হয়ে আসে, জরায়ুমুখ প্রসারিত হবার অষুধ দেবার ফলে। কিন্তু জটিলতা দেখা দেয় যখন আফটার কাম হেড এরেস্ট (বাচ্চার মাথা আটকে যায়) দেখা দেয়। নানাভাবে চেষ্টা করে যখন বাচ্চার মাথা ডেলিভারি সম্ভব হয় না, তখন লজিক্যাল নেক্সট স্টেপ হিসেবে চিকিৎশাস্ত্রের স্বীকৃত একটি পদ্ধতি এপ্লাই করা হয়। এই পদ্ধতিকে সহজ ভাষায় বলে ডেস্ট্রাকটিভ সার্জারী, যা মৃত বাচ্চার ক্ষেত্রে মা কে রক্ষার জন্যে করা হয়। এতে বাচ্চার শরীরের যে অংশ ডেইভারী হচ্ছে না সে অংশকে কেটে আলাদা করে এক অংশকে নরমালভাবে, আরেক অংশকে পেট কেটে অর্থাৎ অপারেশন করে বের করা হয়। পুরো পদ্ধতিটা রোগীর পরিবারকে জানিয়ে, বুঝিয়ে, এবং লিখিত সম্মতি নিয়ে করা হয়েছে। দীর্ঘসময় প্রসব প্রক্রিয়ায় থাকা এধরনের রোগীর অনেক ক্ষেত্রেই জরায়ু নানা জায়গায় ছিড়ে যায়, এবং সেসব ছেড়া কন্ট্রোলের বাইরে হলে সাধ্যমত রিপেয়ার করা সত্ত্বেও চুইয়ে চুইয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে, যা পেট সেলাই করে দেবার পর বোঝা যায় না। বরং রোগী ধীরে ধীরে কনসিলড বা গোপন ইন্টার্নাল হেমোরেজে কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যুবরন করে। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্যে মেডিকেল টেক্সটবুক গুলোতে হিস্টেরেকটোমি  বা জরায়ু কেটে ফেলে দেয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে, বিশেষ করে যদি রোগীর আরো সন্তান থেকে থাকে তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরনের কথা জোর দিয়ে বলা আছে। শুধু বাংলাদেশ বা উপমহাদেশে নয়, ইউরোপ বা আমেরিকায়ও হুবুহু এই একই কাজ করা হতো। গুগল ইমেজে সার্চে লিখে সার্চ করলে প্রচুর ছবি পাবেন যেখানে মৃত বাচ্চা বা ভ্রূণের কোন অংশ কিভাবে কাটতে হবে, এমনকি বাচ্চার মাথার হাড়ে ফুটো করে মগজ টেনে বের করে বাচ্চার মাথার সাইজ চুপসিয়ে ছোট করে এরপর বাচ্চা টেনে বের করারও ছবি পাবেন। বড় বাচ্চার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আট টুকরো করে বাচ্চা বের করার পর্যন্ত রেকর্ড রয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালে!

কিন্তু এসবের কি দরকার, তাই না? এদেশে কেউ মারা গেলে আধঘন্টার মধ্যে সম্পুর্ন অজ্ঞ সাংবাদিক পোর্টালে পোর্টালে নিউজ বেচা শুরু করে দেয়ায় “চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু”! কাজেই তাদের এতকিছুর ধার ধরার দরকার ছিলো না, তারা যেটা সবচেয়ে ভাল পারে সেটাই করে দিলো! নিমেষেই চাউড় হয়ে গেল, কুমেকের একজন অধ্যাপক সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারেন না, বাচ্চাকে কেটে টুকরো করে ফেলেন! আরো যারা কুনিয়োর ডাক্তার ছিলেন, তাদের সহ অধ্যাপক করুণা রানী ম্যাডাম এবং সিভিল সার্জন মহোদয়কে আদালত তলব করেন। না, কেউ কোন তথ্য প্রমান বা যুক্তি উপস্থাপন করেন নি, গনমাধ্যমে প্রকাশিত নিউজ দেখে আদালতের এই বিজ্ঞ পদক্ষেপ। কপাল বটে এদেশের চিকিৎসকদের!

মাত্র গত সপ্তাহেই সিলেটের এক প্রত্যন্ত এলাকায় সাধ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে পাচ বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাওয়া ডাক্তার যুবায়ের আহমেদকে এলাকাছাড়া করার জন্যে স্থানীয় এক ফ্যামিলি প্লানিং ভিজিটর দিলারা বেগম  সাংগপাংগ নিয়ে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালায়। দিলারার গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে রোগীদের অপচিকিৎসা দেয়ার বিরোধিতা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ডাক্তার যুবায়েরকে এই অপমান, আতংক আর অসহায়ত্বের শিকার হতে হয়। কন পত্রিকা এই ঘটনাটি প্রকাশ করে নি। কয়েকটি স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে বহু চেস্টা করেও এই ব্যাপারে কো নসংবাদ প্রকাশ করানো যায় নি! কারণ কি হতে পারে বলে পাঠক অনুমান করতে পারেন? যেখানে খবরই ছাপা হয় নি, আদালতের স্বপ্রানোদিত হয়ে কিছু একটা করার তো প্রশ্নই আসে না!

এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, অপপ্রচার, আর দুরভিসন্ধিমূলক সাংবাদিকতার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখুন-

দেশের নেতৃস্থানীয় ও প্রবাদপ্রতিম গাইনি ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাশিদা বেগম লিখেছেন-

“রোজ রোজ কোর্টে গিয়ে অবস্টেট্রিশিয়ানরা ব্যাখ্যা দেবার চেয়ে আমরা জজ ব্যারিস্টারদের পাঠ্যক্রমে অবস্টেট্রিক্সটা ঢুকিয়ে দিতে পারি। যাতে উনারা নাদান সাংবাদিকদের গাধামীটা বুঝতে পেরে অবস্টেট্রিশিয়ানদের দিনমজুরের মত হাড় ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে মাকে বাঁচানোর পরেও জবাবদিহিতার জন্য কোর্টে তলব না করেন। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের এত যে আনন্দ উৎসব, সেই উন্নতির অন্যতম সূচক স্বাস্থ্য সেক্টরের মাতামৃত্যুর হার কমানো। সিলেটের দিলারার মত অজস্র ধাত্রী বহু মায়েদের বাচ্চার হাত পা ঝুলিয়ে কিংবা মাথা যোনীপথে আটকিয়ে যখন মায়ের অবস্থা মরনাপন্ন করে, তখন অভিভাবকরা তাদের নিয়ে আসে হাসপাতালগুলোতে; যতক্ষনে বাচ্চার মৃত্যু অবধারিত হয়ে যায়!
মাকে বাঁচাতে ডাক্তাররা তখন বাচ্চার মাথা কেটে (ডিক্যাপিটেশন), নাড়িভুঁড়ি বের করে (ইভিসারেশন), অথবা মাথা ফুটো করে মগজ ঘুটে বের করে (ক্রেনিওটোমী) বাচ্চার সাইজ ছোট করে বের করে। এইসব কার্যক্রমের সময়ে দীর্ঘসময় ধরে পরিশ্রান্ত দুর্বল জরায়ু ফেটে যেতে পারে কিংবা বাচ্চা বের করার পরে পরিশ্রান্ত জরায়ু থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাকে বাঁচানোর জন্য অনেক সময়ে জরায়ু কেটে ফেলাই একমাত্র উপায়, তাতে তার একটিও বাচ্চা থাক বা না থাক। প্রফেসর করুণা রাণী কর্মকার এমনই এক মায়ের জন্য তার সহকারীদের নিয়ে যথার্থ কাজ করার পরেও এমন প্রাপ্তি নিন্দনীয়। এই পেশাগত কার্যক্রমগুলো সম্পর্কে না জেনে বা জানার ন্যূনতম চেষ্টা না করে যে খবর পরিবেশন করে মানী লোকদের মানহানী করে, তাকে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না সেই প্রশ্ন সকলের কাছে।”

অধ্যাপক করুণা রাণী কর্মকারের এক ছাত্র লিখেছেনঃ “Prof. Dr. Karuna Karmakar ম্যাডাম, ওয়ার্ডে রুগীদের কাছে মাতাজী, আর আমাদের কাছে ‘মা’ নামে পরিচিত। আজকে শুধুমাত্র হলুদ সাংবাদিকতার কবলে পড়ে ম্যাডাম এর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় পাড় করতে হচ্ছে। করুণা ম্যাডাম কেমন মানুষ বা কেমন চিকিতসক এটা কুমিল্লা শহর কেন, যারা ম্যাডামের সহচার্যে এসেছেন কোনদিন তারা জানেন । আমাদের ব্লকের সময় ডিপার্টমেন্টের কোন প্রোগ্রামে সব ম্যাডামরা ব্যাস্ত ছিলেন একদিন, করুণা ম্যাম ও অসুস্থ ছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম আজ একটা আনফিসিয়াল ছুটি পাচ্ছি। কিন্তু না, সকাল ৯ টা থেকে ২:৩০ পর্যন্ত অসুস্থ হয়েও ম্যাডাম টানা আমাদের ক্লাস নিয়েছেন ওয়ার্ডে বসে। রাত ২ টা ৩ টায় প্রায়ই ম্যাডাম রক্তের জন্য ফোন দিতেন যা কোন ভাবেই তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, কিন্তু শুধুমাত্র রোগীদের ভালোবেসেই তিনি এ কাজ করেন। তিনি রোগীদের রোগী না, বরং তার বড় আপন কেউ হিসেবেই ধরেন। এমন একজন মানুষ আন ইথিকাল কাজ করবেন তা সম্ভব নয়। একটা ব কলম সাংবাদিকের লেখার উপর ভিত্তি করে ম্যাডামকে কেনই বা আদলতে ডাকা হবে তাও আমার জানা নেই। এই ঘটনার আগে আরো দুই তিনটা ঘটনায় অনেক লেখালেখি করেছিলাম, কিন্তু তা কেবল ফেইসবুকেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার বিএমএ এর দৃষ্টান্ত মূলক একটা অবস্থান আশা করছি। যেন আমাদের দিকে এই কাদা ছুড়ার খেলা বন্ধ হয়। সবশেষে একটা কথাই আবারো বলব: WE ARE HERE TO SAVE OTHER’S LIVES, NOT TO RUN FOR OUR OWN.”

ক্রমাগত অপপ্রচার আর তথ্য নিপীড়নের শিকার আরো কয়েকজন চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়া-

“OGSB কে বলেন রীটকারীদের ও সাংবাদিক/ সংবাদপএের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যাহার, আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট,অযাচিতভাবে ও উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে চিকিৎসকদের হয়রানী, মানহানি, সরকারী কাজে বাধা প্রদান (সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান), জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ইত্যাদি বেআইনী কাজ করার জন্য পাল্টা রীট করতে। দেখবেন কয়দিন পরপর এই সখের রিট খেলাখেলী বন্ধ হয়ে যাবে। সব ঠান্ডা।এইটা দেইখা আদালতেরও এ ধরণের ঘটনায় স্ব- প্রনোদিত হয়ে রুল জারি করা বন্ধ হয়ে যাবে।”

“আজকাল internet এ search করলেই কত তথ্য পাওয়া যায়! অথচ আমাদের দেশের সাংবাদিকগণ কোন প্রকার তথ্যানুসন্ধান ব্যতিরেকেই একটা রিপোর্ট করে ফেলেন, আর বিজ্ঞ সম্পাদকগণ রিপোর্টটি প্রকাশ করেন। সবারই পরিচিত দু একজন চিকিৎসক থাকেন, net access-ও আছে। তারপরও কেন তথ্যানুসন্ধান ছাড়া এমন সংবাদ ছাপা হয়? এটা কি পেশাদারিত্বের অভাব, নাকি সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের উপায়? এটা কি সাংবাদিকদের professional negligence/misconduct নয়? পেশাজীবীদের বিষয়ে কোনো রিপোর্ট করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট পেশার গ্রহণযোগ্য কারো কাছ থেকে একটা বক্তব্য নেয়া কি বাধ্যতামূলক করা যায় না?”

“Cardiac arrest এর রোগীরে চেস্ট কম্প্রেশন (part of resuscitation ) দিলে বলে ডাক্তার বুকে চাপ দিয়ে মাইরা ফেলসে.. পি পি এইচ ( post-partum hemorrhage ) এর রোগীরে লাইফ সেভিং প্রসিডিউর বেলুন টেমপোনেড করলে বলে ডাক্তার বেলুন ঢুকায় মাইরা ফেলসে…মা কে বাঁচাইতে অবস্ট্রাক্টেড মরা বাচ্চার craniotomy করলে বলে বাচ্চার মাথা কাইটা মেরে ফেলসে..অশিক্ষিত অবুঝ মানুষ যার নিজের মানুষ মারা গেসে তারা মাথা গরম করে বললেও তাদের পরে বুঝানো যায়.. But.. এইসব হাইকোর্ট পর্যন্ত ও গড়ায়. একটা দেশের বেশির ভাগ ইডিয়ট হইলে যা হয় আর কি.. হে হে হেহ.. যারা আমারে বলে দেশে আইসা পর, পিজি কর, ** কর ** কর তাদের কোথায় জ্বলে আমি বুঝি .. আমি ভালো আছি এইটা সহ্য হয় না আর কী (এর মাঝেও যেসব ডাক্তার মানুষ বাঁচানোর জন্য দাঁত কামড়ে পড়ে আছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা)..”

“মূর্খরা যখন জনগনকেও মূর্খ বানিয়ে তোলে। এই ধরনের ভুল আর অজ্ঞতা প্রসূত খবর ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে দেশে। রোগীর জরায়ুতে মৃত সন্তান (Fetus) থাকলে তখন অপারেশন এর একটি পদ্ধতিই হচ্ছে জরায়ু কেটে জরায়ু থেকে Fetus এর মাথাসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বের করে ফেলা, এবং এ ছাড়া অন্য উপায় থাকেনা রোগীকে বিপদ মুক্ত করার। এখানে সেটাই করা হয়েছে। এবং তা মেডিকেল কলেজের মত উচ্চ স্তরের একাডেমিক হাসপাতালে। করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রীধারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চিকিৎসকগন। আমাদের দুর্ভাগ্য এইজন্য ও তাদের কে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই রিপোর্টিং আমাদের সাংবাদিকতার চরম নিম্ন মান চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়েছে, এবং তাদের ভ্রান্তি বিচার বিভাগের মত পবিত্র প্রতিষ্ঠানের কাজকেও বিভ্রান্ত করছে, ভুল পথে পরিচালিত করছে।”

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-