১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে সক্ষম হলো ক্রোয়েশিয়া ফুটবল টিম। ফ্যানদের আনন্দের সীমা নেই, দেশব্যাপী চলছে উল্লাস। রাশিয়ার সাথে খেলার সময়ে উপস্থিত ছিল ক্রোয়েশিয়ার নারী প্রেসিডেন্ট, কলিন্ডা গ্রাবার-কিতারোভি। ক্রোয়েশিয়ার বিজয়ের সাথে সাথে সমগ্র স্টেডিয়ামের অর্ধাংশের সাথে উল্লাসে ফেটে পড়েন কলিন্ডাও। আনন্দে আটখানা হয়ে তিনি নেচে ওঠেন। টুইটার এবং ফেসবুকে সেই ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। এবং এর আগে আরও একবার তিনি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিলেন। সেখানে দেখা যায় তিনি বিচের পাড়ে পোজ দিচ্ছেন। একটা প্লেবয় ম্যাগাজিনের মডেলের মতো পোজ দিচ্ছে একটা দেশের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট, এটা নিশ্চয়ই অভাবনীয় এবং নতুন কিছু। ফলে তাৎক্ষনিক তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ডেনমার্কের সাথে পেনাল্টিতে জেতার পর ক্রোয়েশিয়ার টিম ড্রেসিংরুমে গোসলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের মনে স্বাভাবিক আনন্দ। তা যেন আরও বাড়িয়ে দিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা, একজন মধ্যবয়স্কা সুন্দরী নারী। তিনি কোন নোটিশ ছাড়াই প্লেয়ারদের ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করলেন। প্লেয়ারদের মতো তার গায়েও লাল-সাদা চৌকো আকৃতির জার্সি। তার উপস্থিতিতে একটা সাররিয়েল দৃশ্যের তৈরি হলো। তিনি প্লেয়ারদের প্রশংসা করছিলেন। তার মুখ ভরা ছিল হাসি। জড়িয়ে সংবর্ধনা জানালেন প্লেয়ারদের। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার জনপ্রিয় প্লেয়ার লুকা মদ্রিচ কি একটু বেশি স্নেহ পেলেন?

তার এই উপস্থিতি এবং প্লেয়ারদের সাথে সময় কাটানো অবশ্যই ক্রোয়েশিয়ার টিমের জন্য অনুপ্রেরণা। এটা তাদের জেতার ইচ্ছেটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ম্যাচে রাশিয়ার সাথে খেলার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ভিআইপি গ্যালারিতে টোল পড়া মুখের হাসি হেসে সকলের মন জয় করছিলেন। তার সাথে বসা ছিল রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং ফিফার প্রেসিডেন্ট জেয়ানি ইনফান্তিনো। হাসছিলেন, খেলা দেখছিলেন, আলাপ করছিলেন। তারপরে যেই না জিতে গেল ক্রোয়েশিয়া, কলিন্ডা আনন্দে আত্মহারা হয়ে নেচে উঠলেন। এই দৃশ্যের একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেট।

কলিন্ডা ১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কলিন্ডা ক্রোয়েশিয়ার প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান। এবং তিনি ৪৬ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্টের খেতাব পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাশালী মহিলাদের তালিকায় তিনি ৩৯ তম হয়েছিলেন। তিনি একই লিঙ্গের বিয়েতে সমর্থন দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন যে তার কিছু যায় আসেনা যদি তার সন্তান একজন সমকামী হয়। পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে তিনি বেশ সচেতন। প্রায়ই তিনি এই প্রসঙ্গে আলাপ তোলেন এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি বদ্ধপরিকর। ১৯৯৬ সালে তিনি বিয়ে করেন। তার দুই সন্তান। একটি ছেলে, একটি মেয়ে।

বেশ কিছুদিন আগে বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়ে গেল। অধিকাংশ পোর্টাল সেইসব ছবিকে কলিন্ডার ছবি হিসেবে প্রচার করেছিল। সেখানে দেখা যায় একজন মধ্যবয়স্কা নারী, বিচের পাড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। আপাত মনেহয় এগুলো কলিন্ডারই ছবি বস্তুত আসলে তা নয়। এগুলো আমেরিকান মডেল কোকো অস্টিনের ছবি।

তবে কোকো অস্টিনের সেই ছবিগুলো কলিন্ডার নামে এত ব্যাপক ভাইরাল হয় যে সেগুলো কলিন্ডার পরিচয়েই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়। এর ফলে একটা লাভ হয় যে কলিন্ডার বিশ্বব্যাপী একটা ফ্যানবেইজ তৈরি হয়। অগুনিত ভক্ত বাড়ে তার টুইটার এবং ফেসবুকে। ছবিগুলো এতটাই ভাইরাল হয় যে, এর কাউন্টারে সেসকল সংবাদ এবং ফ্যাক্ট চেকিং পোষ্ট পরে করা হয় সেগুলো কোন পাত্তাই পায় না। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। শনিবার রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া খেলার পর এই ছবিগুলো পুনরায় ভাইরাল হয়ে গেল। এগুলো একটিও ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কলিন্ডার ছবি নয়। অধিকাংশ কোকো অস্টিনের ছবি এবং আরও বেশ কিছু ছবির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে সেগুলো একজন পর্নস্টারের ছবি।

Comments
Spread the love