কিম জং আন তার পাঁচ ইঞ্চি বের করে সে দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিল। কোরিয়ার হিসেবে পাঁচ ইঞ্চিকে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড়ই বলা যায়। তার আব্বার ইলের ছিল মাত্র তিন। চাচা জেঙের অবশ্য সাড়ে পাঁচ। তাকে মারার পর পুরা রাজ্যে পাঁচের উপর আর কারও থাকার কথা না। কিন্তু জেঙকে মারার পর দেখা গেল শুধু তার রাজ্য না, সমস্ত পৃথিবীতেই তার চেয়ে বড় কারও নেই। প্রথমে শুনে বিশ্বাস হয়নি। বহুবার চেক করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারপরেও খালি ঘরে তার পাঁচ ইঞ্চি হাতে নিয়ে আরও একবার আয়নার দিকে এগিয়ে যায়।

Mirror, mirror, on the wall,
Who in this land is biggest of all?

জাদু আয়না তড়িঘড়ি করে উত্তর দেয়, উস্তাদ আপনেরটা সবার চেয়ে বড়। আন ক্ষেপে গিয়ে বলেন, প্লাস্টিকের পুলা ঠিকমতো চেক করে বল। 
জাদু আয়না বিড়বিড় করে, বাপ মা তুলে গাইল দেয় খালি। ব্যবহারে বংশের ফোরিছয়।

আনের অগ্নি দৃষ্টি দেখে জাদু আয়না বিরস মুখে বলে, Recalculating! টানা দশ মিনিট ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার হয়ে থাকার পর জাদু আয়নার চোয়াল ঝুলে পরে। আন অধৈর্য হয়ে বলে , কিছু কস না কেন পলিথিনের পুত।
আয়না বলে, উস্তাদ একটু সমিস্যা।
– কি সমিস্যা?
– আমারে গুগোল বলতেছে আপনেরটা সবচেয়ে বড় না !
– কি?
– জ্বি আজ্ঞে ।
– মানে কি? গতকালকেও তো বললি আমারটা সবার বড়।
– সামান্য টেকনিক্যাল সমিস্যা হইছে বস। এতদিন বিং দিয়ে চেক করতাম। গতকালই মাত্র ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন বদলায়ে গুগল করলাম। শালার বিং এর পুতেরে আমি যদি…

আনের থমথমে মুখ দেখে জাদু আয়না কথা শেষ না করে ঢোঁক গিলে। আন জলদগম্ভীর কণ্ঠে আবৃতি করে,
Mirror, mirror, on the wall,
Who in this land is biggest of all?
জাদু আয়না কাঁচুমাচু গলায় বলে, আজ্ঞে ডোনাল্ড ট্রাম্পেরটা ।
– কি!
আয়না বলে যায়, আজ্ঞে উনারটা বিশ ইঞ্চি।
– বিশ ইঞ্চি!
– জ্বি, মানে গত মাসেই আপেল থেকে অর্ডার দিয়ে বানাইছে। পুরা এরাম লম্বা এরাম চওড়া ট্যাবলেট।

নিজের পাঁচ ইঞ্চি ট্যাবলেট মাটিতে ছুড়ে ফেলে আন চিৎকার করে, না না না , এ হতে পারে না।

দুনিয়ার অন্য প্ৰান্তে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশ ইঞ্চি ট্যাবলেটের দিকে তাকিয়ে খুশি মনে বলে, ইউজ ইউজ ! স্টীভ জবসের শেষ প্রজেক্ট ছিল এই স্পেশাল ট্যাবলেট। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে আপেল কোম্পানি স্টীভের সেই প্রোটোটাইপকে ঘষামাজা তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্যাবলেট বানিয়ে দিয়েছে। ট্যাবলেটের ভেতরের নিউক্লিয়ার লেখা লাল বাটনটা চাপ দিয়ে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে তিনি ধ্বংস করে দিতে পারেন পৃথিবীর যে কোন রাজ্যকে। চাইলে পুরা পৃথিবীকেই। উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে ট্রাম্প তার ট্যাবলেট হাতে তুলে নেয়। বিড়বিড় করে বলে, কিমের বাচ্চা আইজ তুই শেষ। লাল বোতামটার দিকে তাকিয়ে আবারও একটু বিরক্ত হন অবশ্য। বিশ ইঞ্চি ট্যাবলেটে লাল বাটনের সাইজ মাত্র এক ইঞ্চিও হবে না। বাটনটা বড় করলে কি শালাদের পয়সা বেশি খরচ হতো? বারবার অনুরোধ করার পরেও আপেল খালি বলে, আমরা সবার চেয়ে বেশি বুঝি। আমরা সবার থেকে এগিয়ে। ছোট আকারের লাল বাটনই ভবিষ্যৎ। গজগজ করতে করতে লাল বোতাম চেপেই দেয় ট্রাম্প একসময়। বোমা ফুটার বদলে স্ক্রিনে একটা হাতের ছবি আসে। ওখানে নিজের হাত বসিয়ে আইডেন্টিটি নিশ্চিত করতে হবে।

যত্তসব ঝামেলা বলে ট্রাম্প আরও গজগজ করতে করতে নিজের হাত বসায় স্ক্রিনে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করে স্ক্রিনে যেই হাতের ছবি সেই তুলনায় তার হাতটা অসম্ভব রকমের ছোট। স্ক্রিনের আঙ্গুলগুলাকে তার কাছে সাগর কলার মত মনে হয়। সেই তুলনায় নিজের চম্পা কলা সাইজের আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়, তবে কি সবাই যা বলে সেটাই ঠিক? প্রাণপণে হাতের ছবির উপর তার হাত চেপে ধরে সে। ট্যাবলেট বলে, প্লিজ এন্টার আ ভ্যালিড হ্যান্ড। হাত ডাইনে সরায়, বামে সরায়, উপর নিচ করে। কিছুতেই কিছু হয়না। ট্যাবলেট বারবার বলে, প্লিজ এন্টার এ ভ্যালিড হ্যান্ড।

ট্রাম্প রাগে তার বিশ ইঞ্চি আপেল ট্যাবলেট মাটিতে ছুড়ে উইগ ছিঁড়তে ছিঁড়তে চিৎকার করে, স্টিইইইইইইইইইইভ।

দুনিয়ার অন্য প্রান্তে বসে জাদু আয়না খবর পেয়ে খুশিতে চিৎকার দেয়। উস্তাদ সুখবর, উস্তাদ সুখবর । চম্পা কলার নিউক্লিয়ার বুতাম কাজ করে নাই। আন দৌড়ে এসে আয়নাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবার চেষ্টা করে।  আয়না সরে গিয়ে বলে বলে , আজকে না গো, আজ একটু মাথা ধরেছে। তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে যোগ করে, এরচেয়েও বড় একটা সুখবর আছে।
– আমি বাবা হচ্ছি?
– ধুর বাল। না মানে বস ঘটনা হচ্ছে আপনারটাই আসলে সবার বড়।
– সে কি করে ?
– বিষয়টা হচ্ছে চম্পা কলার ট্যাবলেট বিশ ইঞ্চি কিন্তু ঐটার লাল রঙ্গের যে নিউক্লিয়ার বাটন সেইটা একদমই ছোট। আধা ইঞ্চিও না। আর আপনার ট্যাবলেট মনে করেন মাত্র পাঁচ ইঞ্চি কিন্তু ট্যাবলেটের পুরাটাই জুড়ে লাল নিউক্লিয়ার বাটন । তাই আপনার বুতামের সাইজ মেরে কেটেও অন্তত চার ইঞ্চি!
– কস কি মমিন!
– আজ্ঞে।
– কি মানে দাঁড়ালো তাইলে? ট্যাবলেট বড় না বুতাম বড়?
– অবশ্যই বুতাম বড়।
– তাইলে দেই টিপে বুতাম ।
– দেন টিপে বস।

আন খুশি মনে ভাবেন পাঁচ মিলিয়ন ডলার তাহলে জলে যায়নি। বিদেশ থেকে স্পেশাল অর্ডার দিয়ে এই ট্যাবলেট আনা হয়েছে। পশ্চিমের প্রতি সামান্যতম বিশ্বাসও নেই, তাই পূর্বের এক দেশ থেকে আনা ট্যাবলেট। ট্যাবলেটের ভাষাও সেই দেশের। ট্যাবলেট চালানোর অনেক কষ্ট করে নতুন ভাষা, সেইসাথে নতুন দেশের কিবোর্ড শিখতে হয়েছে। শালার ব্যাটা অবশ্য ভাষার জন্য চার্জ নিয়েছে আরও পাঁচ মিলিয়ন আর কিবোর্ডের জন্য আরও দশ মিলিয়ন। কিন্তু মাত্র বিশ মিলিয়নের বিনিময়ে সমস্ত পৃথিবী আজকে তার কব্জায় আসবে এই ভেবে আনন্দে চোখে পানি এসে গেল। টার্গেট সেট করা অনেক আগে থেকেই। আর চিন্তা ভাবনা না করে চার ইঞ্চি সাইজের লাল বোতাম টিপে দেয় আন। ট্যাবলেট পাসওয়ার্ড চায়। আন পাসওয়ার্ড টাইপ করে। একবার, দুইবার, তিনবার, চেষ্টা করেই যায়।

– সমস্যা কি বস? পাসওয়ার্ডটা কি?
– বক্ষ
– কি?
– বক্ষ, বাংলা শব্দ।
– আজ্ঞে বুঝছি, গুগল ট্রান্সলেট করে দিলো এইমাত্র।
আন এই চাপে তো সেই চাপে, ক্ষ আর লিখতে পারে না। বক্য হয়, বক্ক হয় , বক্স হয়, বক্খো হয়, বক্ষ আর হয়না।

কিম জং আন রাগে তার বিজয় ট্যাবলেট মাটিতে ছুড়ে চিৎকার দেয়, কাগুউউউউউউউউ।

লিখেছেন- চরম উদাস

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-