কেএফসি- কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন, আমেরিকান ফাস্ট ফুডের জগতে সবচেয়ে বড়, উদ্ভাবনী এবং সফল ব্রান্ডগুলোর একটি, যার রয়েছে বহু বছরের পুরনো ইতিহাস। বর্তমানে সারা বিশ্বের ১২৫ টি দেশে  কেএফসির বিশ হাজার পাঁচশ আউটলেট রয়েছে। বাংলাদেশের ঢাকা, কক্সবাজার এবং সিলেটের মানুষের কাছেও এই কেএফসি বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয়, কেননা এ শহরগুলোতেও রয়েছে কেএফসির ১৯টি আউটলেট। বুঝতেই পারছেন, বাংলাদেশে তো বটেই, সারা বিশ্বেই কেএফসির জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশ্বে কেএফসিই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকেন রেস্টুরেন্ট চেইন- এ কথা বললেও খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না।

এই যে কেএফসির এত জনপ্রিয়তা, কেন জানেন? এর ফ্রাইড চিকেনের অনন্য আর স্বতন্ত্র স্বাদের কারণে। ফ্রাইড চিকেনের রেস্টুরেন্টের তো অভাব নেই, কিন্তু কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের তুলনাই হয়না কোনটার সাথে। কেননা, এর রয়েছে এক অতি গোপন রেসিপি, যা কিনা রাখা আছে এক গোপন সিন্দুকে। আর সেই সিন্দুকের লকারের কম্বিনেশন পৃথিবীতে জানে কেবল একজন মানুষ।

ভাবছেন, ফালতু কথা- তাইতো? রেসিপি একজনের জানা থাকলে সারা বিশ্বে যে এত এত চেইন শপ এগুলো চলে কি করে? ফ্রাইড চিকেন বানানো হয় কি করে? চলুন জানা যাক কি করে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন বানানো হয়। কি করেই বা এতবছর ধরে সম্ভব হচ্ছে এর রেসিপি গোপন রাখা।

কেএফসির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স ৭০ বছর আগে ১১ রকম ভেষজ উপাদান আর মসলার   সমন্বয়ে উদ্ভাবন করেছিলেন চিকেন ফ্রাইয়ের এক নিজস্ব রেসিপি। এই রেসিপির কারণেই তিনি জীবনের বহু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়া একজন মানুষ থেকে, হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবসায়ীদের একজন। আর এ কারণেই তিনি এই রেসিপি সংরক্ষণের জন্য অতি গোপন ও জটিল এক ব্যবস্থা করে রেখে গেছেন।

সারা বিশ্বে মাত্র দু’জন মানুষ কেএফসির রেসিপি সম্পর্কে জানে। তবে দু’জনের কেউই জানে না পুরো রেসিপিটা কি, তারা জানে কেবল অর্ধেকটা। কেএফসির চিকেন ফ্রাই তৈরির জন্য রয়েছে দু’টি আলাদা আলাদা কোম্পানী। কিচেন ফ্রাই তৈরির প্রক্রিয়াটি দু’ভাগে ভাগ করে এ দুই কোম্পানির মধ্যে বন্টন করা আছে। অর্থ্যাৎ দুই কোম্পানিই রেসিপির অর্ধেকটা তৈরি করে। এরপর একটা আলাদা কম্পিউটার প্রসেসিং পদ্ধতির মাধ্যমে একত্রে মিশিয়ে তৈরি হয় কেএফসির মচমচে, সুস্বাদু ফ্রাইড চিকেন।

এখানেই শেষ নয়, কেএফসির অরিজিনাল রেসিপি, যেটা কর্ণেল স্যান্ডার্স লিখে রেখে গিয়েছিলেন মৃত্যুর পূর্বে, তা সংরক্ষিত আছে কেএফসির হেডকোয়ার্টারের ভেতরে অত্যন্ত মজবুত এক সিন্দুকে। যদি কেএফসির কোন কর্তাব্যক্তিও সেই রেসিপি জানতে চায়, বা ব্যবসার প্রয়োজনে জানার প্রয়োজন হয় কখনো, তবে প্রথমে খুলতে হবে সেই সিন্দুকের লক। আর সেই লকারের কম্বিনেশন পৃথিবীতে জানে কেবল একজনই। যে জানে, সাধারণ কোন মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয় তার পরিচয়।

ও হ্যাঁ, আপনি চাইলে ইন্টারনেটে খুঁজে বানাতে পারবেন হয়ত অনেকটা কেএফসির স্বাদের ফ্রাইড চিকেন।  কিন্তু, সেটাতে অরিজিনাল কেএফসি’র স্বাদ? অসম্ভব!

প্রথম পর্ব পড়ুন এই লিংকে

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-