সিনেমা হলের গলি

‘আপনার রাশি’ বলার মানুষটা ভালো নেই…

আমার বাড়িতে পত্রিকা রাখা হতো না তখন। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে কোচিং করতে বের হতাম। সেখান থেকে ফিরবার পথে আমি কোনো না কোনো পত্রিকা কিনতাম। যেদিন একেবারেই টাকা থাকত না সেদিন কিনতাম বাংলাদেশ প্রতিদিন। দুই টাকা না তিন টাকা যেন ছিল তখন। এমনিতে প্রথম আলো কেনা হতো। পত্রিকায় আমি দুইটা সেগমেন্ট খুব মন দিয়ে পড়তাম আগে। পয়লা নম্বর খেলার পাতা, আর অন্যটা হলো রাশিচক্র! হ্যাঁ, রাশিচক্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম, এমন না রাশিচক্রে আমার খুব বিশ্বাস, বরং খানিকটা অনাস্থাই আছে। তবুও পড়তাম কারণ, এই ব্যাপারটা খুব উপভোগ্য লাগত। কোনোদিন রাশিচক্রে যদি টাকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে এমন লেখা থাকত আমার অকারণেই খুশি লাগত। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া পেতে পারেন টাইপ কথা পড়লেও কেমন কেমন মজা লাগত।

প্রথম আলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ট্যাবলয়েড কিংবা ঈদসংখ্যার কোনো ম্যাগাজিনের ভেতরেও রাশিচক্র থাকে এবং সেগুলো একটু স্পেশাল হয়। আমি সেগুলোও পড়তাম মন দিয়ে। এই সংখ্যাগুলোর রাশিচক্রর খুব স্পষ্ট কিছু লেখা থাকে না, কিছু ইংগিত থাকে এবং রাশিচক্রের ভাষাটা বেশ চমৎকার হয়। এই সুন্দর ভাষাশৈলীর রাশিচক্রগুলো লেখেন কাওসার আহমেদ চৌধুরী। যারা টুকটাক রাশিচক্র পড়েছেন, তারা অবশ্যই চিনবেন এই মানুষটাকে। না চেনার কারণ নেই, চিরকালই তার ট্রেডমার্ক- গালে কিছু দাঁড়ি, মাথায় একটু ক্যাপ, চুলগুলো কিছুটা লম্বা। আমরা যারা রাশিচক্র পড়েছি, তারা সবাই প্রায় এই মানুষটারই রাশিচক্র পড়ে বড় হয়েছি। তার সাথে আমাদের চেনাজানাটা ঐ রাশিচক্র পাঠের সূত্রেই৷ তার রাশিচক্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে, আমি খেয়াল করে দেখেছি উনি রাশিচক্রে বেশ পজিটিভ কথা লেখেন। আমার ধারণা রাশিচক্র আসলে মূল উদ্দেশ্য না, মানুষের ভেতর অবচেতনে কোনোভাবে একটু খানি আত্মবিশ্বাস ঢুকিয়ে দেয়াটাই তার পরোক্ষ উদ্দেশ্য। এজন্যেই ভাল ভাল কথা দিয়ে একটা “ফিল গুড” ভাব আনার চেষ্টা করেন লেখায়।

তবে শুধু রাশিচক্র পড়ে এই মানুষটাকে পুরোপুরি চেনার কিংবা মূল্যায়নের উপায় নেই। সারাজীবন তিনি এতো কাজ করলেন, অথচ তার জ্যোতিষী পরিচয়টাই সবচেয়ে বড় হয়ে গেল। লোকে তাকে দেখলেই হাত দেখাতে চায়, ভবিষ্যৎ জানতে চায়। তিনি অবশ্য মনে করেন হাতে কিছু নেই, মানুষের বিশ্বাসটাই মূল কথা।

আপনি কি হাত দেখেন না?
দেখি।
আমার হাতটা একটু দেখেন।
দেখলাম।
কেমন দেখলেন?
আপনার হাতটা সুন্দর…

একবার এক মহিলার সাথে এমন কান্ড হয়েছিল। মানুষ নিজেরাও পুরোপুরি বিশ্বাস করে না, তবুও হাত দেখানো চাই। কাওসার আহমেদ চৌধুরী মাঝে মধ্যে বিপাকে পড়েন। তবে মানুষটার উপস্থিত বুদ্ধি বেশ তীক্ষ্ণ, সেন্স অফ হিউমারও ফাটাফাটি। তাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে চান। কারণ, এই রাশিচক্র যে ভবিষ্যৎ বলতে পারে না সেটা তিনি নিজেই স্বীকার করেন। তার মতবাদ হলো, ভবিষ্যৎ কেউ বলতে পারে না। যা চলে গেছে তা ভালই যায়, যা চলছে তাও ভালই যাচ্ছে আসলে, কিন্তু যা আসবে কাল তা কি ভাল? সেটা কে বলতে পারে? কেউ না।

অথচ, কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে দেখে মানুষের চিনে ফেলা দরকার অন্য কারণে। তাকে দেখেই মানুষ যদি বুঝে ফেলত, আরেহ উনিই তো আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া বিখ্যাত রুপালি গিটার গানের গীতিকার, আরেহ থাম থাম, উনাকে চিনতে পারছো না? উনিই তো কুমার বিশ্বজিৎয়ের গাওয়া যেখানে সীমান্ত তোমার, সেখানে বসন্ত আমার গানের গীতিকার। হ্যাঁ, এই কালজয়ী গানগুলো উনি লিখেছেন। কিন্তু অনেকেই জানে না, এই মানুষটার হাতে লেখা যে কত অসাধারণ কিংবদন্তীতুল্য কিছু গান আছে!

একবার হলো কি, এক দোকানে একটা খুব বিখ্যাত গান বাজছে। উনি দোকানে গিয়ে নিজের লেখা গান শুনলেন। হালকা গর্ব নিয়েই বললেন, জানেন এই যে গানটা বাজতেছে, এটা আমার লেখা। দোকানদার তার দিকে আপাদমস্তক তাকিয়ে, ‘ধুর ধুর হেহ হেহ আইসে’- টাইপ একটা দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। আসলে গানের কথা কে লিখেছে সেটা নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই। স্বাভাবিকভাবে কেউ জানতেও চাইবে না। যে গান গাচ্ছে তার যদি দয়া হয়, গানের আগে যদি গীতিকারের নাম নেয় সেটাই অনেক বড় ব্যাপার, না নিলেও তার জন্য গীতিকারের অভিমান করলে চলে না। গান চলে সুরে, গান চলে গায়কীকে। এটা কাওসার আহমেদ চৌধুরী নিজেই মানেন। তাই নিজের এসব স্মৃতির কথা মনে পড়তেই নিজেই হেসে খুন হয়ে যান।

তার ধারণা এই গানগুলো তিনি লিখেছিলেন ঘোরের বশে। একটা সময় জীবনে আসে, তখন মানুষ একরকম মোহগ্রস্থতায় ডুবে থাকে। তার সেরকম কিছুই হয়েছিল বোধহয়। তিনি তখন একের পর এক হিট গান লিখেছিলেন। তার লেখা গান বাংলাদেশের প্রায় সব বিখ্যাত গায়করাই গেয়েছেন এযাবতকাল পর্যন্ত। “আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না..”, “কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে..”, “মৌসুমী কারে ভালবাসো তুমি..”, “এই রুপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাব দূরে..” সহ কত বিখ্যাত গান এসেছে তার হাতে।

মানুষটা এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমি সারাটা জীবন এক স্টেশনের টিকেট কেটে অন্য স্টেশনে নেমে পড়েছি। বাস্তবতাও তাই বলে আসলে। নাহলে এই মানুষটাকে হয়ত আমরা চিনতেই পারতাম একজন কবি হিসেবে, সেই এগারো বছর থেকেই তো কবিতা লিখে চলেছেন তিনি। চিনতে পারতাম একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার হিসেবে। যিনি টেলিভিশনের জন্য চিত্রনাট্য লিখেছেন, এমনকি মঞ্চ নাটকের জন্য লিখেছেন চিত্রনাট্যরুপ। মনটা বড়ই উচাটন তার, যেদিকে চোখ গেছে সেদিকেই চলে গেছেন। স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই নতুন কোনো গন্তব্যে ছুটে গেছেন। তাই প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষমাণ যাত্রীরা এই কারিগরকে আগাগোড়া চিনতে পারলো না কোনোদিনই, সবাই জানলো, ইনি একজন জ্যোতিষী, যার নিজের ভবিষ্যৎ নাই, শুধু অন্যের ভবিষ্যৎ বলে বেড়ায়। আসলে এই মানুষটা কখনো ভবিষ্যৎকে তাড়াও করতে যাননি। তার আগেই যে তিনি কেটে পড়তে চেয়েছেন, যেমনটা কাটতে চান কেউ তাকে হাত দেখাতে চাইলেই।

পড়েছিলেন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। ইচ্ছে ছিল চিত্রশিল্পী হবেন, পরে ইচ্ছে আরো বর্ধিত হয়েছে। স্বপ্ন দেখেছেন চিত্রনির্মাতা হবেন। ফিল্ম বানাবেন। ফিল্ম নিয়ে পড়াশুনাও করেছেন বিস্তর। কিন্তু চারুকলা পড়তেই আজিমপুর কলোনির এক সুরকারের সাথে পরিচয় হলো, যার নাম খন্দকার ফারুক আহমেদ। তিনি শেখালেন গান লেখার ধারা। তারপর থেকে গান লেখার শুরু। লাকী আখন্দের সাথে কাজ করতেন, তার লিরিকে লাকী সুর বসাতেন। এরপর আরো কত বিখ্যাত লোকের সাথে কাজ করেছেন জীবনজুড়ে। নব্বুই দশকে তার লেখা একটা গান ইত্যাদিতে ভীষণ জনপ্রিয় হলো। লিরিকটা এরকম-

“এই দেশে এক শহরে ছিল,
শহরে এক রাস্তা ছিল,
রাস্তার ধারে এক বাড়ি ছিল,
বাড়িটির নাম এলোমেলো..”

একাত্তরে যুদ্ধ হলো, তিনি চলে গেলেন যুদ্ধে। দেশের ডাককে উপেক্ষা করতে পারেননি। সেটাই তো বড় এচিভমেন্ট আসলে। যুদ্ধের পর ফিরলেন শহরে। দেখা হলো বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের সাথে। তার সাথে দেখা হওয়ার ঘটনা নিজেই বর্ণনা করেছেন এভাবে,

“ঋত্বিকদা প্রথমেই বললেন, ‘তুই কী করিস রে?’ বললাম, আমি মুক্তিযোদ্ধা। ‘আর কী পরিচয়?’ ‘গান লিখি।’ তিনি রেগে গেলেন— ‘গান লেখো হারামজাদা? গান যা লেখার ছিল সব তো দেড়ে ঠাকুররা (রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার) সব লিখে চলে গেছেন। তুমি আর কী গান লিখবে? বাংলা গানই তো? তুমি বরং চলচ্চিত্রে আসো। চলচ্চিত্র হলো কমপ্লিট আর্ট।’ তখন সাহস করে বললাম, ‘আমার চলচ্চিত্রে ঢোকার ইচ্ছা আছে।’ ‘পড়ালেখা কিছু করেছো?’ ‘কিছু করেছি।’ তখন আমি সুইডিশ প্রজেক্টে চাকরি করি। সেখানে আমাকে চিত্রনাট্য লিখতে হতো, কিন্তু ঋত্বিক ঘটকের সামনে তো এত কথা বলতে পারি না। তখন তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, তুই আমার সঙ্গে থাক, আমি তোকে পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে দেব।”

ঋত্বিক ঘটক এই মানুষটাকে একটি চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয়েরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু, তখন এক অফিসে চাকরি করতেন। হায় চাকরি। ছুটি মিললো না। এক মাসের ছুটি পাননি বলে যাওয়া হলো না কলকাতায়। তবে এগুলো নিয়ে তার মনে খেদও নেই তেমন। যেমন আছেন, যা আছেন তা নিয়েই বরাবর সুখী থাকার চেষ্টা তার৷ ঋত্বিকের সাথে পরিচয় পর্ব নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন একটা “ঋত্বিকের সঙ্গে কলকাতা যাত্রা ১৯৭২” শিরোনামে। কবিতাটি স্থান পেয়েছে তার “ঘুম কিনে খাই” কবিতাগ্রন্থে৷

তার অনেক গানের মধ্যে রুপালি গিটার গানটা বেশ বিখ্যাত হয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুর গলায় এই গানটি কালজয়ী গানের মর্যাদা পেয়ে গেছে ইতিমধ্যে। যদিও প্রিয় শিল্পী প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুকে এই গানের জন্য যতটা কদর করা হয়, তার এক বিন্দুও হয়ত করা হয়নি কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে। কারণ, আমরা জানিই না অনেকে। আমাদের দোষ আর কতটুকু! একটা গান বিখ্যাত হলে সেটার পূর্ণ কৃতিত্ব গায়কের ভাগেই যায়। এটাই হয়ে আসছে। তবে একজন গীতিকারেরও কৃতিত্ব প্রাপ্য। যাই হোক, এই গানটা যেদিন লেখা হয় সেদিন তিনি ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর বাসায়। সেদিন বাচ্চু অসাধারণ গিটার বাজাচ্ছিলেন। হঠাৎ আইয়ুব বাচ্চু তাকে বললেন, “আমি সুর তুলছি, এই সুরে কাওসার ভাই আপনি আমাকে একটি গান লিখে দিন।”

তারপর কি হলো? কাওসার আহমেদ চৌধুরী নিজেই বললেন সেই গল্প।

“বাচ্চুর গিটার বাজানোতে এত মুগ্ধ হয়ে গেলাম যে লিখেই ফেললাম ‘এই রুপালি গিটার ফেলে যেদিন চলে যাব।’ গান লিখতে তো আমার বেশিক্ষণ সময় লাগে না। কিছুক্ষণ পর ওর বন্ধু কুমার বিশ্বজিৎ তার বাসায় এলো। বাচ্চু তখন বলে, ‘এই বিশ্ব, গানটি শোন তো।’ বিশ্বজিৎ গানটি শুনল এবং সে-ও পছন্দ করল। তারপর বাচ্চু বলে কি না, ‘এই গানকে কি আরেকটু ঘষামাজা করা যায়?’ আমি ও বিশ্বজিৎ দুজনেই নিষেধ করলাম। আমি বলে ফেললাম, ‘এই গানের সুর তো তাজা গোলাপের মতো। বাচ্চু এতে হাত দেওয়ার কোনো দরকার নেই।’ সেই সুরেই আজ পর্যন্ত বাচ্চু এই গানটি গাইছে।”

অত্যন্ত বেদনার ব্যাপার, এই অসাধারণ গীতিকার, কবি, চিত্রনাট্যকার, মুক্তিযোদ্ধা ভালো নেই আজ। অনেকদিন ধরে তিনি অসুস্থ। সম্প্রতি অসুখটা বেড়েছে আরো খানিকটা। আছেন রাজধানীর এক হাসপাতালে। কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না। ফুসফুসে জমেছে পানি। তার মধ্যে আবার নিউমোনিয়া হয়েছে। দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার। শিল্পী ফাহমিদা নবী বলেছেন, “শিল্পী কখনো দুস্থ নয়। কারণ তিনি মানুষের মনের খোরাক তৈরি করেন। যে তৈরি করেন তার পক্ষে কি দৌড়ানো সম্ভব? সরকারের কাছে আমার নিবেদন আমরা শিল্পীরা যেহেতু পেনশন পাই না, আমাদেরকে আপনারা দেখেন।”

আমাদের দেশে মৃত্যুর পর কিংবদন্তি বানিয়ে ফেলার হুজুগ ঘটে। তখন আনাচে কানাচের অনেক অজানা তথ্য বের করে ফলোআপ খবর হয়। কিন্তু জীবিত শিল্পী সবসময়ই যেন একটু অবহেলার পাত্র। আমরা অবহেলা করি, সমাজ অবহেলা করে, অর্থনৈতিকভাবেও একটা বয়স পরে এসে তারা অবহেলিত থাকেন। কাওসার আহমেদ চৌধুরী আমাদের জন্য এক আশ্চর্যজনক অধ্যায়, যাকে অনেকে শুধু জ্যোতিষী মনে করেন।

কিন্তু তার আরো বিশাল পরিচয় আছে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি একজন শিল্পী। তাই তার জন্য আমরা ভালবাসা দেখাই, জীবিত মানুষকে ভালবাসা দেখানোর চেয়ে আনন্দদায়ক আর কিছু নেই। তিনি যে একজন কিংবদন্তি, তাকে সেই সম্মানটুকু দেই। তিনি একজন জ্যোতিষীই নন শুধু। হি ইজ বিগার দ্যান দেট। এবং সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মানুষদের কাছে আহ্বান- মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার এবং আপাদমস্তক একজন আর্টিস্ট কাওসার আহমেদ চৌধুরীর খোঁজ খবর নিন, প্রয়োজনে ভালবাসা এবং সাহায্যের হাতটুকু প্রসারিত করে দিন এই মানুষটার জন্যে! তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি, দ্রুতই ফিরে আসুন স্বমহিমায়, জনাব।

আরও পড়ুন-

Comments

Tags

Related Articles