ইনসাইড বাংলাদেশডিসকভারিং বাংলাদেশ

কালা জাহাঙ্গীর: রহস্য ও আতঙ্কের এক নাম!

আন্ডারওয়ার্ল্ডে যারা রাজত্ব করেন, তাদের ব্যাপারে প্রচুর মিথ তৈরি হয় সময়ের সাথে। অজস্র গল্পের জন্ম হয় অন্ধকার জগতের এই মানুষগুলোকে নিয়ে, আর তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে তো কথাই নেই, সত্যি আর মিথ্যা একসঙ্গে মিশিয়ে কত রকমের কাহিনী যে চাউর হয়! সেসবে বিশ্বাস করার মতো মানুষের অভাবও হয় না। এরকমই অনেক মিথ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজনকে নিয়েও। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড যারা বছরের পর বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করেছিল, সেইসব দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়েও এমন গাল-গল্পের জন্ম কম হয়নি। সেসবের কতটুকু সত্যি, আর কতখানি মিথ্যা, সেটা পরিমাপের ভার নাহয় পাঠকের উপরেই ছেড়ে দেয়া যাক।

আজ বরং ঢাকাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক অবিসংবাদিত রাজার গল্প শোনাই, যাকে পুলিশ ধরতে পারেনি, সে জীবিত নাকি মৃত, সেটারও কোন নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত! প্রায় শ’খানেক খুনের ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে, ঢাকার কয়েকটা এলাকা থেকে সাপ্তাহিক আর মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা উঠতো তার নামে। এখনও শহরের আঁতি-পাতি সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজী করে তার নাম নিয়ে, বলে- ‘আমি কালা জাহাঙ্গীরের লোক’! হ্যাঁ, সেই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরকে নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

বাবা-মা নাম রেখেছিলেন ফেরদৌস জাহাঙ্গীর। দাদার বাড়ি বগুড়ার ধুনটে, জন্মও সেখানেই। মায়ের চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় আগমন। শোনা যায়, ছাত্র হিসেবে নাকি বেশ ভালো ছিলেন। মেট্রিক পরীক্ষায় পাঁচ বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়েছিলেন বলেও অনেকে দাবী করে, তবে সেটার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ওই যে, শুরুতে বললাম না, এই ধরনের কাল্ট ক্যারেক্টারগুলোকে নিয়ে অজস্র মিথ তৈরি হয়, আমরাই তৈরি করি সেগুলো। বছরের পর বছর টিকে থাকতে থাকতে এই মিথগুলোকেই সত্যি বলে মনে হয় একটা সময়। ফেরদৌস জাহাঙ্গীরের এই ‘স্টার মার্ক’ পাবার বিষয়টাও এমন কিনা কে জানে!

সে যাই হোক, পড়ালেখা চলছিল ঠিকঠাক। কিন্ত বাধ সাধলো একটা অঘটন। জাহাঙ্গীর তখন তেজগাঁও কলেজের ছাত্র, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছে। লিটন আর মাসুম নামে কাফরুল এলাকার দুটো ছেলের সঙ্গে একদিন ভীষণ মারপিট হয়ে গেল। মারামারির এক পর্যায়ে কোমরে গুঁজে রাখা ছুরি দিয়ে দুজনকে আঘাত করে বসলো কিশোর জাহাঙ্গীর। মামলা হলো এই ঘটনায়, পুলিশ ধরে নিয়ে গেল তাকে। জামিন পেলেন একুশ দিন পরে। এই একুশ দিনে জেল খেটে সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষ হয়ে গেছে জাহাঙ্গীর, সেটা তখনও বোঝা যায়নি হয়তো। ফেরদৌস জাহাঙ্গীর থেকে কালা জাহাঙ্গীর হবার শুরুটা জেলখানার ওই একুশ দিনেই হয়ে গিয়েছিল। 

কালা জাহাঙ্গীর, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, গ্যাংস্টার, পিচ্চি হান্নান, অপারেশন ক্লিনহার্ট

কার সহায়তায় অন্ধকার এই জগতে পা রেখেছিল জাহাঙ্গীর, সেটা জানা যায় নি। অবশ্য জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে পুলিশ বা আইন-শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খুব বেশি তথ্য কখনোই ছিল না। পুলিশের ফাইলে কালা জাহাঙ্গীরের একমাত্র যে ছবিটা ছিল, সেটা তার কিশোর বয়সে তোলা। কাজেই তাকে সনাক্ত করাটাও ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জে কখনোই পাশ করতে পারেনি পুলিশ।

অন্ধকারের রাজত্বে জাহাঙ্গীরের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালেই। শুরুতে ছিঁচকে মাস্তানী, তোলাবাজী, এসব দিয়ে হাতেখড়ি। তবে শিক্ষিত হওয়ায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতাদের কাছেও তার আলাদা একটা কদর ছিল, বয়সে ছোট বলে কেউ অগ্রাহ্য করতো না তাকে। কিছুদিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় পুলিশের তালিকায় উঠে গেল সে, মিরপুর এলাকা তখন জাহাঙ্গীরের নামে কাঁপে। তবে নামের আগে একটা বিশেষণ যুক্ত হয়ে নাম হয়ে গেছে ‘কালা জাহাঙ্গীর’! নিজের একটা গ্রুপ বানালো সে, নাম দিল ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’। বনিবনা না হওয়ায় এরপরে ‘ফাইভ স্টার’ নামের আরেক গ্রুপে গেল সে, সেখানে তার বন্ধুত্ব হলো পিচ্চি হান্নান নামের আরেক গ্যাংস্টারের সঙ্গে। দুজনেই সমান নৃশংস, সমান ভয়ংকর ছিল, জুটিটা তাই জমে উঠতে সময় লাগলো না।

১৯৯৬ সাল, কালা জাহাঙ্গীর তখন মোটামুটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। ঢাকার বুকে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো সাহস আর কারো নেই। এরমধ্যে জাহাঙ্গীরের নাম আলোচনায় চলে এলো কিসলু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। চাঁদাবাজী তো চলছিলোই, এরমধ্যে নিয়মিতভাবে শুরু হলো খুন। ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে আইনজীবি বা ব্যবসায়ী- খুনের শিকার হতে লাগলেন অনেকেই। এগুলোর মধ্যে কোনটা ছিল কন্ট্র‍্যাক্ট মার্ডার, টাকার বিনিময়ে হত্যা। কাউকে আবার চাঁদা না দেয়ায় খুন করেছিল জাহাঙ্গীরের বাহিনী, যাতে কালা জাহাঙ্গীর চাঁদা চাইলে সেটা না দেয়ার সাহস কেউ না দেখায়! ঢাকা শহর তখন কালা জাহাঙ্গীরের নামে কাঁপে, বিশেষ করে মিরপুর আর বনানী এলাকা ছিল পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে। নৃশংসতায় তার সমতুল্য আর কেউ ছিল না সেই সময়ে।

এরমধ্যে মাদক আর অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসাতেও নাম লিখিয়েছে জাহাঙ্গীরের গ্যাং। স্থানীয় রাজনীতিবিদেরাও ঘাঁটানোর সাহস পেতো না জাহাঙ্গীরকে, তাদের অনেকে আবার জাহাঙ্গীরের দলবলের কাছ থেকে ‘বিশেষ সুবিধা’ও পেতো। পুলিশকেও ম্যানেজ করে ফেলেছিল জাহাঙ্গীর, পুলিশ আর গোয়েন্দা বিভাগে তার বেশকিছু পোষা লোকজন ছিল, যারা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারে কোন অভিযানের পরিকল্পনা হলেই সেই খবরটা তার জাছে পৌঁছে দিত। কাজেই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কোন সমস্যাই হয়নি তার। একের পর এক অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসতে হতো পুলিশকে। সোর্সের দেয়া তথ্যমতো জায়গায় গিয়ে দেখা যেত চিড়িয়া উড়ে গেছে আগেই! 

কালা জাহাঙ্গীর, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, গ্যাংস্টার, পিচ্চি হান্নান, অপারেশন ক্লিনহার্ট

চাহিদামতো চাঁদার টাকা না পেলে খুন করতে একটুও দ্বিধা করতো না কালা জাহাঙ্গীরের দলের ছেলেরা। তাদের ওপর নির্দেশই দেয়া ছিল এরকম। টাকার বিনিময়ে এই গ্যাঙের সদস্যদের দিয়ে যে কোন কিছুই করানো যেতো, কারো ধার ধারতো না কালা জাহাঙ্গীর। ঢাকা শহরে সেই সময়ে যতো চাঞ্চল্যকর খুন হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগের পেছনেই কালা জাহাঙ্গীর আর তার দলের হাত ছিল। কমিশনার শাহাদাত, অ্যাডভোকেট হাবিব মণ্ডল আর মুরগী মিলন হত্যাকাণ্ডে তো জাহাঙ্গীর সরাসরি অংশ নিয়েছিল, সঙ্গে ছিল পিচ্চি হান্নানও। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটনকে হত্যার ঘটনাটা।

বিএনপি নেতা নিউটন নিজের এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন নিজের এলাকা মিরপুরে। আট নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট তখন সরকারে, সেকারণে নিউটনের প্রভাব প্রতিপত্তিও ছিল দেখার মতো। তার সঙ্গে এলাকার দখল নিয়ে বিরোধ ছিল কালা জাহাঙ্গীরের। ২০০২ সালের ১০ই মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার একটা সেলুনে চুল কাটাতে ঢুকেছিলেন নিউটন। সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর হামলা চালায় চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী। একের পর এক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়া হয় নিউটনের দেহ, তার মৃত শরীরের ওপরেও গুলিবর্ষণ করেছিল ঘাতকেরা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটা পরিস্কার বার্তা দিতে চেয়েছিল কালা জাহাঙ্গীর, তার সঙ্গে টক্কর দিতে এলে পরিণতি ভালো হবে না। ধানমন্ডির ব্যস্ততম সড়কে হাজার হাজার মানুষের সামনে একজন ওয়ার্ড কমিশনারকে গুলি করে খুন করাটা তো চাট্টেখানি কথা নয়!

নিউটনের হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশ উঠেপড়ে লেগেছিল কালা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করার জন্যে। কিন্ত পুলিশের অভিযানের খবর আগে থেকেই পেয়ে যেতো সে। দলবল নিয়ে সটকে পড়তো সময়মতো। এর কিছুদিন আগেই সরকারের পক্ষ থেকে তেইশজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে এক নম্বরে ছিল কালা জাহাঙ্গীরের নাম, এমনকি তার ঠাঁই হয়েছিল ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনালের লিস্টেও! অপারেশন ক্লিনহার্ট পরিচালনা করা হয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরার জন্যে, কিন্ত বিজিবির নেতৃত্বে চালিত এই অভিযানেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি কালা জাহাঙ্গীরকে।

তবে কালা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করতে না পারলেও, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের মেরুদণ্ডটা ভেঙে দিয়েছিল এই অপারেশন ক্লিনহার্ট। অনেকে মারা পড়েছিল এই অভিযানে, প্রাণের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল অনেক সন্ত্রাসীই। তাছাড়া গ্যাংস্টারদের নিজেদের মধ্যে রেষারেষি তো ছিলই। পিচ্চি হান্নান বেরিয়ে গিয়েছিল কালা জাহাঙ্গীরের গ্যাং থেকে, নিজের আলাদা গ্যাং তৈরি করেছিল সে। এরমধ্যে র‍্যাব গঠিত হলো, র‍্যাবের টানা অভিযানে যে কয়জন গ্যাংস্টার বাকী ছিল, তাদের অনেকেও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। তবে কালা জাহাঙ্গীরকে ধরা গেল না। এমনকি তার গর্ভবতী স্ত্রীকে আটক করেও তার নাগাল পাওয়া গেল না! কালা জাহাঙ্গীরকে আর খুঁজেও পাওয়া গেল না একটা সময়ের পরে। ভোজবাজীর মতো যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল লোকটা!

কালা জাহাঙ্গীরের এই রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে বেশ কয়েকটা মতবাদ প্রচলিত আছে। প্রথম মতবাদটা হলো, কালা জাহাঙ্গীর নাকি খুন হয়েছিলেন তারই সহযোগী পিচ্চি হান্নানের হাতে। এলাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল, পিচ্চি হান্নান নাকি কালা জাহাঙ্গীরকে বলেছিল, বনানী এলাকাটা তাকে ছেড়ে দিতে। কিন্ত জাহাঙ্গীর হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল তার কথাটা। দুজনের মধ্যে মিটমাট করার উদ্দেশ্যে আরেক শীর্ষসন্ত্রাসী নিটেলের ঢাকার বাসায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল, তবে আসলে সেটা ছিল কালা জাহাঙ্গীরকে খুন করার একটা ফাঁদ। 

কালা জাহাঙ্গীর, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, গ্যাংস্টার, পিচ্চি হান্নান, অপারেশন ক্লিনহার্ট

নিটেলের বাসাতেই নাকি কালা জাহাঙ্গীরকে গুলি করেছিল পিচ্চি হান্নান। শোনা যায়, আহত অবস্থায় পালিয়ে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে চলে এসেছিল জাহাঙ্গীর, আশ্রয় নিয়েছিল তার বিশ্বস্ত কয়েকজন সাগরেদের কাছে। এখানেই নাকি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবার কোন উপায় নেই, কারণ পিচ্চি হান্নান আর নিটেল দুজনেই পরে নিহত হয়েছিল র‍্যাবের ক্রসফায়ারে।

আরেকটা প্রচলিত গল্প হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই দুরবস্থায় নিজের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় কালা জাহাঙ্গীর নাকি আত্মহত্যা করেছিল। যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেফতার হওয়া শাহজাদা নামের এক সন্ত্রাসী পুলিশকে এই তথ্য জানিয়েছিল। শাহজাদা ছিল কালা জাহাঙ্গীরের বিশ্বস্ত সহচর। গুলশানের কড়াইল বস্তিতে কালা জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল শাহজাদা।

আবার কেউ কেউ বলে, গা ঢাকা দিতে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যাবার ফন্দি এঁটেছিল কালা জাহাঙ্গীর, বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করবে, এমনিটাই পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্ত যশোরে তার দলের ওপর আক্রমণ করেছিল প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের একটা দল। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নাকি নিহত হয়েছিল জাহাঙ্গীর। মৃত্যুর পরে তার মুখের ওপর অ্যাসিড ঢেলে চেহারা বিকৃত করে দেয়া হয়, এজন্যেই কেউ তাকে সনাক্ত করতে পারেনি- এরকমটা জানিয়েছিল এই মতবাদে বিশ্বাসী লোকজন।

আবার কালা জাহাঙ্গীর বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে- এরকম ধারণাও আছে অনেকের। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কালা জাহাঙ্গীর নাকি ভারতের ব্যাঙ্গালোরে চলে গিয়েছিল, এখনও সে সেখানেই আছে- এরকম গল্পও বাজারে প্রচলিত আছে! ঢাকা শহরে কালা জাহাঙ্গীর ছিল একটা রহস্যের নাম। হারিয়ে যাবার পরেও রহস্যের কোন সমাধান হয়নি, বরং ডালপালা মেলে সেই রহস্যের পরিধি আরও বড় হয়েছে দিনে দিনে!

টানা কয়েকটা বছর যে কালা জাহাঙ্গীর আর তার দলবল মিলে ঢাকার বুকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যার নামে পুরো শহরটা কাঁপতো, সেই কালা জাহাঙ্গীর একদম নিখোঁজ হয়ে গেল আচমকা একদিন! বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটারও কোন নিশ্চিত খবর পাওয়া গেল না। তবে কালা জাহাঙ্গীর বেঁচে আছে গুজব হয়ে। পুলিশের খাতায় তার নামের ফাইলটা বন্ধ হয়নি এখনও। অমীমাংসিত একটা রহস্য হিসেবেই দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী হয়তো থেকে যাবে আজীবন!

আরও পড়ুন- 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close