রিডিং রুমলেখালেখি

কীভাবে বুঝবেন আপনারা এখন জাস্ট ফ্রেন্ডের চেয়েও বেশি কিছু?

একটি ছাত্রের জীবনে টেনশনের কোনো শেষ নেই। সিজিপিএ ডাউন হওয়া থেকে শুরু করে মাসের অর্ধেক পেরোতে না পেরোতেই পকেট ফাঁকা হয়ে যাওয়া, কিংবা সময়মত টিউশনির টাকা না পাওয়া বা এখনও বিসিএসের প্রিপারেশন নিতে শুরু না করা, এরকম হরেক রকম টেনশনে জর্জরিত থাকে একটি ছাত্রের জীবন। তারপরও তারা ‘ইটস লাইফ’ বলে মেনে নিতে পারে সেগুলো সবই। হাসিমুখে মুভ অন করতে পারে।

শুধু একটি জিনিস ছাড়া, যেটি তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। সেটি হলো পছন্দের মেয়েটির দ্বারা ফ্রেন্ডজোন্ড হওয়া, আজীবন সেই মেয়েটির জাস্ট ফ্রেন্ড হয়ে থাকা। কোনো মেয়ে সরাসরি ছ্যাঁকা দিয়ে চলে গেলেও যতটা না কষ্ট হয়, তারচেয়ে হাজার গুণ বেশি কষ্ট হয় মেয়েটি সবসময় কাছাকাছি থাকলে, মধুর ব্যবহার করলে, কিন্তু দিনশেষে সম্পর্কটিকে ‘জাস্ট ফ্রেন্ডস’ এর ট্যাগ লাগিয়ে চলে গেলে।

প্রায় প্রতিটি ছেলের জীবনেই এমন অন্তত একটি মেয়ে তো থাকেই যাকে ছেলেটি মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়ে ভালোবাসতে চেয়েছিল, মেয়েটির দিক থেকেও গ্রিন সিগনাল পেয়ে ভেবেছিল মেয়েটিও তার প্রতি ইন্টারেস্টেড, কিন্তু শেষমেষ তাকে তব্দা খেয়ে যেতে হয়েছে যখন সে জানতে পেরেছে মেয়েটি তাকে জাস্ট ফ্রেন্ডের চেয়ে বেশি কিছুই ভাবেনি!

ন্যাড়া যেমন একবারই বেলতলায় যায়, তেমনই অনেক ছেলের মধ্যেও একই ধরণের প্রবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়। একবার তারা কোনো মেয়েকে ভালোবেসে ফ্রেন্ডজোনড হয়ে গেলে, দ্বিতীয়বার আর কোনো মেয়ের প্রতি দুর্বল হতেও ভয় পায়। কারণ সর্বক্ষণ তাদের মাথায় কেবল একটি চিন্তাই ঘুরতে থাকে, কী লাভ এত কষ্ট করে, শেষ পর্যন্ত এই মেয়েও যে আমাকে জাস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে দেবে না তার গ্যারান্টি কী!

এ জাতীয় ধারণা যে ঠিক কতটা আত্মবিধ্বংসী তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রথম প্রথম ছ্যাকা খাওয়ার পর অনেক ছেলেই নারীবিদ্বেষী হয়ে ওঠে, পুরো নারীসমাজকে ঘৃণা করতে শুরু করে, আর কখনও কোনো মেয়ের ছায়াও মাড়াবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় – এগুলো সব ঠিকই আছে। এবং এগুলো খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিছুদিন বাদে সবই ঠিক হয়ে যায়। একবার ছ্যাকা খেয়ে দ্বিতীয়বার কোনো ছেলে আর প্রেমে পড়েনি, এমন দৃষ্টান্ত আজকের দিনে খুব কমই আছে। এবং আবহমান কাল থেকেই এমন দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। যেই দেবদাসকে সব প্রেমিক পুরুষেরা তাদের গুরু মানে, সেই দেবদাসও তো কেবল একটি মেয়েকেই ভালোবাসতো না। পার্বতীর পর তার জীবনে চন্দ্রমুখীও এসেছিল।

তাই ছ্যাকা খাওয়াটাকে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা আর খুব বেশি ক্ষতিকারক বলে মনে করতে পারি না। তাছাড়া মেয়েরাও প্রেমিক পছন্দের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে একবার ছ্যাকা খাওয়া ছেলেদেরকেই অধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অন্তত একবার ছ্যাকা না খেলে ছেলেদের মধ্যে ম্যাচিউরিটি আসে নাকি! কিন্তু ফ্রেন্ডজোনড হওয়া কোনো ছেলের ক্ষেত্রে এটুকু সান্ত্বনাও জোটে না। সে সরাসরি ছ্যাকা খায়নি বলে তার মধ্যে এমন কোনো ম্যাচিউরিটিও আসেনি যা সে তার সিভিতে অ্যাড করতে পারবে।

ওদিকে একটি মেয়েকে সে যে আসলেই নিজের সর্বস্ব দিয়ে ভালবেসেছিল, সেটিও তো সত্যি। নিজের হাতে থাকা পাঁচটি নীলপদ্মই সে একটি মেয়েকেই মুক্তহস্তে দান করে দিয়েছিল। বিনিময়ে সে পেয়েছে জাস্ট ফ্রেন্ডের খেতাব, সেই সাথে মেয়েটির বিয়েতে কামলা খাটা ও মেয়েটির সন্তানের মুখে মামা ডাক শোনার সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু এগুলো তো সে কোনোদিন চায়নি। তাই বিশাল একটি ধাক্কা খেয়েছে সে। কী থেকে কী হয়ে গেল, তার ভুল কোথায় ছিল, এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে মাথার চুল সবগুলো ছিঁড়ে ফেলেও যখন সে কোনো সদুত্তর পায় না, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না, তখন প্রেম নামক জিনিসটির প্রতিই তার একপ্রকার বিতৃষ্ণা জন্মে যায়, অবিশ্বাস চলে আসে। সে মনে করতে শুরু করে, প্রেম বলে আসলে কিছুই নেই। সবই বলিউডের পরিচালকদের বক্স অফিসে ছবি হিট করানোর টোটকা। প্রকৃতপক্ষেই যদি জগতে প্রেম বলে কিছু থাকতো, তবে সে কারও জাস্ট ফ্রেন্ডেই সীমাবদ্ধ থাকত না।

এ ধরণের মানসিকতা গড়ে ওঠায়, জাস্ট ফ্রেন্ড হওয়া ছেলেটি আর কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে পারে না। পরবর্তী জীবনে সত্যি সত্যিই কোনো মেয়ে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠলেও, সেটি সে ধরতে পারে না। ভাবে এটিও বুঝি নিছকই মরীচিকা। আর তাই তার জীবনে সত্যিকারের ভালোবাসা ধরা দিয়ে গেলেও, সেটিকে হেলায় হারায় সে। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, সচেতনতার সাথে বিষয়গুলোকে ডিল করলেই কিন্তু কোনো ছেলেকে শুরুতে কোনো মেয়ের দ্বারা জাস্ট ফ্রেন্ড খেতাব পেয়ে দেবদাস হতে হতো না, আর পরে তার জীবনে সত্যিকারের প্রেম এলেও সেটি থেকে একশো হাত দূরে অবস্থান করতে হতো না।

এখন আমরা আলোচনা করব সেরকমই কিছু পূর্বাভাস নিয়ে, যেগুলো দেখে একটি ছেলে সহজেই বুঝে নিতে পারবে যে সে যেই মেয়েটির প্রতি আকৃষ্ট, সেই মেয়েটির কাছে সে কি শুধুই জাস্ট ফ্রেন্ড, নাকি জাস্ট ফ্রেন্ডের চেয়েও বেশি কিছু। আর যদি এই লক্ষণগুলো কোনো মেয়ের মধ্যে দেখা না যায়, তাহলে তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে থাকা ছেলেটির উচিৎ হবে এখনই নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা, নইলে পরে পস্তাতে হবে।

যেহেতু এখন সম্পর্কগুলোর মূল ভিত্তিই হলো অনলাইন, তাই অনলাইনে মেয়েটি ছেলেটির সাথে কেমন আচরণ করে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ধরা যাক ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথাই। ছেলেটি মেয়েটিকে মেসেঞ্জারে কোনো মেসেজ দেয়ার কতক্ষণ পর মেয়েটি তাকে রিপ্লাই দেয়? সাথে সাথেই কি সে মেসেজটির রিপ্লাই দিয়ে দেয়, নাকি প্রথমে দুই মিনিট ঝুলিয়ে রেখে তারপর সিন করে মেসেজটি, এবং তারও আরও মিনিট দুই পরে রিপ্লাই দেয় সেটির?

এখানে পাঠক একটু বিষয়টিকে নিজের সাথে রিলেট করে দেখুন। মেসেঞ্জারে তো প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সাথে আমাদের কথা হয়। কিন্তু সবাইকে কি আর আমরা সমান প্রায়োরিটি দিই? এমন কয়জন আছে যাদের কোনো মেসেজ পাঠিয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকি কখন সে সেটির রিপ্লাই দেবে? এমন মানুষ হাতেগোনা অল্প কয়জনই থাকে আমাদের। আর সেই অল্প কয়জনই হয় আমাদের স্পেশাল মানুষ। তো এখন আপনার ভালোবাসার মেয়েটিও যদি ঠিক এমনটাই করে, অর্থাৎ আপনি মেসেজ দেয়ামাত্রই সে সেটির রিপ্লাই দিয়ে দেয়, তাহলে বুঝবেন সে-ও আপনাকে এখন স্পেশাল কেউ বলে ভাবতে শুরু করেছে। তার সাথে ভবিষ্যতে আপনার গভীর প্রণয়ের জোরদার সম্ভাবনা দৃশ্যমান।

কিন্তু যদি দেখেন যে তা না, আপনি যেমন সাধারণ আর দশজনের মেসেজ কিছুক্ষণ ঝুলিয়ে রেখে তারপর দায়সারা গোছের কোনো একটি রিপ্লাই দিয়ে দেন, মেয়েটিও আপনার সাথে ঠিক একই কাজই করছে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি আসলে ভুল পথে এগোচ্ছেন। আপনি যার প্রতি এতখানি ইমোশনালি ইনভেস্টেড হয়ে পড়েছেন, সে ইভেনচুয়ালি আপনাকে জাস্ট ফ্রেন্ডই বানিয়ে দেবে। তাই ভালো হয় এখনই যদি আপনি তওবা করে ওই অসম্ভব সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে নিজেকে মুক্ত করে আনতে পারেন।

এ তো গেল অনলাইনের কথা। এবার আলোচনা করা যাক মেয়েটির অফলাইনের আচরণ নিয়েও। যদি মেয়েটি আপনাকে স্পেশাল কেউ ভাবতে থাকে, তাহলে দেখবেন আট-দশজনের ফ্রেন্ড সার্কেলেও মেয়েটি আপনাকে স্পেশালি ট্রিট করছে। আপনার প্রতি একটু বেশি দৃষ্টি দিচ্ছে। কোনো একটি মজার কথায় যখন সবাই হো হো করে হাসছে, তখন সে অন্তত একটিবারের জন্য হলেও আপনার সাথে চোখাচোখি করে নিচ্ছে। আর যদি মেয়েটি আপনাকে কেবলই জাস্ট ফ্রেন্ড ভেবে থাকে, তাহলে দেখবেন অন্য আর সবার সাথে তার যে আচরণ, আপনার সাথেও তার ঠিক একইরকম আচরণ। তবে এখানে একটি ব্যাপার কিন্তু বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, আচরণের ভিন্নতাগুলো কিন্তু খুবই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম হবে। আপনি যদি আশা করেন যে মেয়েটি আপনার প্রতি একদম দৃশ্যমান কিছু বিশেষ আচরণ করবে, তাহলে কিন্তু অনেক বড় ভুল হবে। মেয়েটি যে আপনাকে স্পেশাল ভাবছে, সেটির ইঙ্গিত সে খুব ছোট ছোট কিছু বিষয়ের মাধ্যমে দেবে। সেগুলো ঠিকভাবে ধরতে ও অনুধাবন করতে আপনাকেও এফোর্ট দিতেই হবে। নইলে পরে দেখা যাবে, মেয়েটি হয়ত আপনাকে আসলেই স্পেশালি ট্রিট করেছিল, কিন্তু আপনিই সেগুলো ওভারলুক করে গেছেন। তখন মেয়েটির কাছে আপনি অনেক ইগনোর‍্যান্ট, অনেক ক্যালাস বলে প্রতীয়মান হবে। এমন যদি পরপর কয়েকদিন হয়, অভিমানের বশবর্তী হয়ে মেয়েটি কিন্তু শেষমেষ আপনাকে ঠিকই জাস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে দিতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেয়েটি আপনার সঙ্গ উপভোগ করছে কি না। কারণ ভালো প্রেমিক হওয়ার জন্য আগে একজন ভালো সঙ্গী হওয়ার তো কোনো বিকল্প নেই। যদি মেয়েটি আসলেই আপনার সঙ্গ উপভোগ করে, তাহলে দেখবেন যে আপনার সাথে থাকার সময় কোনো কারণ ছাড়াই একটু পরপর সে হাসছে। এবং একটুক্ষন পরপর উঠি উঠি করছে না। বরং নিজে থেকেই বলছে আর পনেরো মিনিট বা আর ত্রিশ মিনিট থাকি। এছাড়া মেয়েটি যদি আপনার সঙ্গ উপভোগ করে, তাহলে ৯০% সম্ভাবনা রয়েছে যে সে আপনাকে তার সব কথা বলতে চাইবে, নিজের ব্যাপারে সবকিছু আপনার সাথে শেয়ার করতে চাইবে।

যদি এমন হয় যে মেয়েটির সাথে বসে আড্ডা দেয়ার সময় সিংহভাগ কথা সে নিজেই বলছে, আপনাকে খুব বেশি কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না, তাহলে কিন্তু হতাশ হবেন না। কারণ মেয়েরা এমনিতেই অন্যের কথা শোনার চেয়ে নিজেরা কথা বলতে বেশি পছন্দ করে। তাই বলে তারা যে সব কথা সবাইকে বলে তা কিন্তু নয়। কেবলমাত্র তখনই মেয়েটি আপনার সাথে নিজের সিক্রেট শেয়ার করতে শুরু করবে যখন সে আপনাকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করবে। তাই মেয়েটি আপনার কথা না শুনে কেবল নিজেই বকবক করতে থাকলে বিরক্ত হবেন না একদমই, বরং মনে মনে খুশি হোন যে আপনি মেয়েটির বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠতে পেরেছেন।

কিন্তু এগুলোর বিপরীত লক্ষণও কিন্তু দেখা যেতে পারে। যেমন মেয়েটি যদি আপনার সঙ্গ উপভোগ না করে, তাহলে দেখবেন সে বড্ড ছটফট করছে। কিংবা কিছুক্ষণ পরপরই মোবাইল বের করে মেসেজ চেক করছে। আর নিজের ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিক্রেটও সে শেয়ার করছে না। আপনাকে নিজের ব্যাপারে কেবল সেই সিক্রেটগুলোই সে বলছে, যেগুলো সে তার অন্য আরও পাঁচ-সাতজন জাস্ট ফ্রেন্ডের সাথেও শেয়ার করেছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, তার কাছে আপনার প্রায়োরিটি ঠিক ততটুকুই, যতটুকু প্রায়োরিটি ওই আরও পাঁচ-সাতজনেরও। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তাহলে মেয়েটির থেকে খুব বেশি কিছু আশা করাটা বোকামি হবে। কারণ লাইনে আপনি একাই দাঁড়িয়ে নেই, আছে আরও কয়েকজনও!

মেয়েটি আপনার প্রতি কতটা অ্যাটেনশন দিচ্ছে, সেটিও অনেক বেশি জরুরি। মনে করুন শেভ করতে গিয়ে আপনার গলার কাছটায় খানিকটা কেটে গেছে। আপনি শার্টের কলার দিয়ে ক্ষতস্থানটি ঢেকে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবেই অন্য অনেকেরই নজর এড়িয়ে যাবে বিষয়টি। কিন্তু মনে রাখবেন, মেয়েদের দৃষ্টি ফেলুদা বা ব্যোমকেশের চেয়েও বেশি প্রখর। তাই মেয়েটি যদি আপনার ব্যাপারে কেয়ারিং হয়, তাহলে আপনার কাটা দাগটি যত ছোটই হোক না কেন, সেটি তার চোখে পড়বেই। তবে এখানে একটি ব্যাপার হলো, মেয়েটি আপনার কাটা দাগ খেয়াল করেনি মানেই যে সে আপনাকে যথেষ্ট অ্যাটেনশন দেয় না, এমন কোনো সিদ্ধান্তেও পৌঁছে যাবেন না। এমনও তো হতেই পারে যে মেয়েটি হয়ত ইদানিং চোখে কম দেখছে। সেক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে অভিমান না করে তাকে নিয়ে দ্রুত কোনো চোখের ডাক্তার দেখিয়ে আনা। মেয়েটি আপনার প্রতি কেয়ারিং না বলে যে আপনিও তার প্রতি কেয়ারিং হবেন না, তা তো হতে পারে না!

মেয়েটি আপনার প্রতি আকৃষ্ট কি না, তার আভাস পেতে পারেন আপনার সাথে মেয়েটির একদম ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের আচরণ থেকেও। কারণ মেয়েরা তাদের খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের কাছ থেকে লুকায় না কোনো কথাই। তাই আপনাকে যদি মেয়েটি জাস্ট ফ্রেন্ডের চেয়েও বেশি কিছু মনে করে থাকে, তবে সেটি সে অবশ্যই বলেছে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের। সেক্ষেত্রে ওই বান্ধবীরা আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করছে, তা থেকেও আপনি বুঝে নিতে পারবেন অনেক কিছুই।

শেষ যে পয়েন্টটির কথা বলব, এটিও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ না। মেয়েটি যদি আপনার প্রতি ইমোশনালি এটাচড হয়ে থাকে, তাহলে দেখবেন আপনার অনেক পছন্দের জিনিসের প্রতি তারও নতুন করে ভালো লাগা জন্মাচ্ছে, আপনার অনেক স্বভাব বা মুদ্রাদোষ তার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। যেমন আপনি হয়ত ক্রিকেট খেলা পছন্দ করেন, মাঝেমধ্যেই ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন। শুরুর দিকে মেয়েটি হয়ত কোনো রেসপন্স করত না। কিন্তু একটা পর্যায়ে সে-ও দেখবেন ক্রিকেট বিষয়ে নিজের ইনপুট দিতে শুরু করেছে। এবং সেই ইনপুটগুলো মোটেই ‘মুস্তাফিজ অনেক কিউট’ টাইপের নয়, বরং ‘মুস্তাফিজের কাটারের ধার কমে গেছে’ টাইপের। এছাড়া আপনি যদি কথায় কথায় মুসা আমানের মত ‘খাইছে’ বলে থাকেন, মেয়েটি আপনাকে জাস্ট ফ্রেন্ড ভাবলে বিষয়টি তার খুবই খ্যাত লাগবে। কিন্তু সে যদি আপনাকে ভালোবেসেই থাকে, তাহলে দেখবেন এক সময় সে-ও কথার মধ্যে এ জাতীয় শব্দচয়ন শুরু করেছে।

একটি কথা মনে রাখবেন, প্রেম-ভালোবাসা কখনও টেক্সবুক রুলস ফলো করে হয় না। কেউ আপনাকে ভালোবাসলে আপনা থেকেই ভালোবাসবে, এত ইঙ্গিত দিয়ে, পূর্বাভাস দিয়ে ভালোবাসবে না। তাই উপরের কথাগুলোকে খুব বেশি সিরিয়াসলি নেয়ার কোনো দরকার নেই। তারপরও একটি মেয়ে আপনাকে জাস্ট ফ্রেন্ড ভাবে নাকি তারচেয়ে বেশি কিছু ভাবে, সেটি বোঝার জন্য কয়েন হাতে ‘শি লাভজ মি, অর লাভজ মি নট’ জাতীয় ছেলেমানুষি খেলা খেলার চেয়ে উপরের পয়েন্টগুলো নিজের জীবনে একবার এপ্লাই করে দেখতে পারেন। কাজে লাগলেও লাগতে পারে। আর যদি কাজে না লাগে, আমাদের কমেন্টবক্স তো খোলাই আছে। ইচ্ছেমত আমাদের গালি দিতে পারেন। গালি খাওয়ার বিনিময়ে আমরা কোনো টাকা নিই না।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close