যখন কারও বাবা-মা বা কাছের মানুষের হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোক করে বা কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে, তখন আপনাদের নির্বিকার হয়ে অপেক্ষা করতে হয় এ্যাম্বুলেন্স কখন আসবে, কখন হাসপাতালে নেয়া হবে। হাসপাতালের পথটি তখন পৃথিবীর দীর্ঘতম পথ মনে হয়। কেউ কেউ হয়তো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ঐ পথেই, হয়তো ছোট্ট একটি কারণে বেঁচে যেতে পারতো তার অমূল্য জীবন, যদি কেউ সেই মুহূর্তে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসাটি দিতে পারতো! আপন মানুষগুলোর কিছু হলে আমাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না, জানা কথাও ভুলে যাই। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্স এর সাথে যদি দক্ষ প্যারামেডিক থাকেন এবং তিনি তার দায়িত্ব পালন করেন, তার সেই ভুমিকা, প্রাথমিক চিকিৎসা কিন্তু বাঁচিয়ে দিতে পারেন, ভরসা দিতে পারেন হাজার মানুষকে। আর কর্মসংস্থানের কথা পরেই বলি।

আপনার কাছের মানুষটির যখন ভয়াবহ ভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাকে হ্যান্ডেল করতে গিয়ে আমরা অজানাতেই আরও তার ক্ষতি করে দেই উপকার করতে গিয়ে। যেমন, ঐ ব্যক্তি কে তুলতে গিয়ে, ধরতে গিয়ে, গাড়িতে উঠাতে গিয়ে। তার শরীর যখন অলরেডি ইনজুরড, তখন অসচেতন ভাবে ধরাধরি করলে তার bone, back bone, joints, nerves, neck কোনদিকে যে কোনভাবে আমরাই স্থায়ী ভাবে ড্যামেজ করে দিচ্ছি আমরা জানি না। অথচ, আমরা কিন্তু উপকার ই করতে চাচ্ছি। আপনি এ্যাম্বুলেন্স ডাকার পর যদি ঐ একই ঘটনা ঘটে, তা আপনার কাছের মানুষের সাথে ঘটলে কি মেনে নিতে পারবেন? তাই জরুরী, এ্যাম্বুলেন্স এর সাথে দক্ষ প্যারামেডিকের। উনারা জানবেন কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় রোগীকে, বুঝতে পারেন প্রাথমিকভাবে রোগী এর কতখানি ড্যামেজ হতে পারে।

একই ক্ষেত্রে ঘটে, কারও গায়ে আগুন লাগলে বা কেউ গুরুতর আহত হলে। শুধুমাত্র একটি সাইরেনযুক্ত গাড়ী দিয়ে একজন ভিকটিম বা রোগীকে বাঁচানো বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। একটি এ্যাম্বুলেন্সের ভেতর জরুরী ইকুয়েপমেন্টস থাকা এবং সাথে দক্ষ প্যারামেডিক থাকা অত্যন্ত জরুরী। এট দ্য সেইম টাইম, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের উচিত প্রতিটি প্রধান সড়কে ছোট করে একটি জরুরী লেইন রাখা, যা শুধুই এ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড বা জরুরী কাজে জন্য থাকবে, যেন একটি মূল্যবান জীবন জ্যামের কারণে হারিয়ে না যায়। সাথে কঠিন আইন ও জরিমানাও থাকতে হবে যাতে কেউ এই আইন ভঙ্গ করে ওই লেন ব্যবহার করতে না পারে। (ঢাকার রাস্তায় এমনিতেও জ্যাম থাকবে, অমনিতেও থাকবে, কিন্তু জরুরী বলে কিছু কথা আছে, তাও সাথে বুঝতে হবে)।

জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়,

ধন্যবাদ আপনাকে, বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি দিবস এর দিনে আপনি বাংলাদেশে পুলিশের জরুরী সেবাপ্রদান কার্যক্রম ‘৯৯৯’ চালু করার জন্য। নিঃসন্দেহে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। এরই সাথে আমি যেই ব্যাপারটি যোগ করার জন্য অনুরোধ করবো, তাহলো দেশের প্রতিটি এ্যাম্বুলেন্স এর সাথে দুইজন করে দক্ষ প্যারামেডিক কর্মী নিয়োগ দেয়া। একজন দক্ষ প্যারামেডিকই পারবেন দুর্ঘটনা স্থানে/ জরুরী পর্যায়ের মানুষ/রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যালোচনা করে সমস্যা নির্ধারণ করে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঐ সিরিয়াসলি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত/ আঘাতপ্রাপ্ত রোগী/ব্যক্তিকে কিছুটা স্থির বা নিয়ন্ত্রনে আনা, অন্তত হাসপাতালে নেয়ার আগ পর্যন্ত। শুধুমাত্র অক্সিজেন দিলেই রোগী বেঁচে যান না। অনেক সময় ছোট ছোট কিছু যত্ন বা সঠিক চিকিৎসাও বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি অমূল্য জীবন, যা হয়তো সাধারণ মানুষগুলো জানেন না বা বোঝেন না। এতে মানুষ এর ভিতর থেকে ভয় ভীতিও কিছুটা কমবে। সাধারণ মানুষ জানতে পারবে কি ঘটছে, ঐ আশংকাময় ব্যক্তির সাথে।

ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা, আধুনিকায়ন করা। একটি সাইরেনযুক্ত গাড়ী, অদক্ষ কর্মী আর অক্সিজেন কখনও জরুরী সেবার জন্য এ্যাম্বুলেন্স হতে পারে না। তথ্য প্রযুক্তির আগে মানুষের মৌলিক যে চাহিদা ” চিকিৎসা”, তার মান উন্নয়ন করা বেশী প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কারণ, আমরা আমাদের কাছের মানুষদের উপযুক্ত সঠিক চিকিৎসা ও তৎপরতার অভাবে হারাতে চাই না।

*

পরিশিষ্ট

কে জানে, এ্যাম্বুলেন্সে তো আপনি বা আপনার বাবা-মা বা আপনার সন্তানও থাকতে পারেন কোনদিন, তাই না? আমার বাবা-মা নেই, তাদের সময়ে এ্যাম্বুলেন্সের দরকারও পড়েনি। যাদের আছেন, তাদের জন্য আমার এত কথা বলা। ফেসবুকে বলে কি হবে? আপনারা দাবী জানাবেন আপনাদের অধিকারের জন্য, আপনাদের মৌলিক অধিকারের জন্য।

Comments
Spread the love