– স্যার, রায়ীনার জন্য আমার খারাপ লাগছে।

– লাগারই কথা, আমি সেভাবেই চরিত্রটা বানিয়েছি।

– কিন্ত আমার মত গল্পখোর’দের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল স্যার। যারা চরিত্রের মৃত্যুতে ভ্যা ভ্যা করে কাদে, তাদের জন্য হলেও মহাবিশ্বের কোন না কোন গ্রহাণুতে তাকে বাচিয়ে রাখতে পারতেন।

– পারতাম, কিন্তু সেটা মৃত্যু থেকেও ভয়ংকর হত। একা একা অচেনা গ্রহে কয়েকদিন বাচা যায়, কয়েক বছর নয়।

– স্যার, যেভাবে গ্রহাণুকে কক্ষচ্যুত করলেন, সেভাবেই মহাজাগতিক প্রাণিকে রায়ীনার বন্ধু বানিয়ে দিতেন। তারা গ্রহ নক্ষত্র ঘুরে বেড়াতো, বেচে থাকতো ভালোবাসা নিয়ে। আচ্ছা, কোন গ্রহাণু কি তার কক্ষপথ থেকে বাইরে যেতে পারে??

– আমি এটার বিশ্লেষণ করেছি, সম্ভবত বইটা তুমি পুরো পড় নাই, পড়লে এমন প্রশ্ন করতে না। সৌরজগতের বাইরে থেকে অখ্যাত একটা ধুমকেতু প্রথম এই গ্রহাণুকে তার কক্ষপথ থেকে বের করেছে। বৃহস্পতি গ্রহের আকর্ষনে এটি কক্ষপথের বাইরে যাবার শক্তি পেয়েছে….

– আমি আপনার বইয়ের প্রতিটা অক্ষর পড়ি স্যার। ৬৭ নম্বর পেজে বিজ্ঞান একাডেমির পরিচালকের বাসভবন কে ভুলবশত বাসভন লেখা হয়েছে, অনেকক্ষণ এই শব্দে আটকে ছিলাম আমি। ভাবছি পদার্থের কোন নতুন আবিষ্কার কিনা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয় মনে হয়। আমি তো মেডিকেলের বিষয়ে পড়েছি, পদার্থ অত পারিনা।

– তাই নাকি?? ( স্যার উচ্চস্বরে হেসে উঠেন)

– স্যার লজ্জা দিবেন না, পদার্থতে ২ বোর্ড পরীক্ষায় আমি এ প্লাস পেয়েছি।

– হুম, আমি তোমাদের সময় পরীক্ষা দিলে হয়তো টেনেটুনে ৬০ পেতাম। (আবার হাসি)

– মজা করছেন স্যার?? আগ্রহটা তো আপনিই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, আপনার সব বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড়েছি আমি। ছোটবেলায় আমার প্রিয় কাজ কি ছিল জানেন, স্ট্রতে মটরশুঁটি ঢুকিয়ে ফু দিয়ে দুরের বেঞ্চের সহপাঠীর ঘাড়ে ফেলা। আমার স্যার নিখুত নিশানা, একেবারে সি-ত্রি তে ফেলতে পারতাম।

– সি-ত্রি কি?

– ওহ, সংক্ষেপে বলেছি, মেরুদন্ডের সারভাইকালের তিন নম্বর হাড্ডি।

হাড্ডিগুড্ডি আর পরমাণুর গল্প আরো এগোতে থাকে। গত ৩ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে।

বলতে ভুলে গেছি, সময় প্রকাশনীর স্যারের ত্রাতিনা বইটা পড়ছিলাম, ৩ তারিখ থেকে। গল্পের শেষে আমার গল্পকারের সাথে প্রায় কথা হয়, এভাবে, হয়তো তাকে আমি একটা রিভিউ দেই। এসময় লেখকের ফিজিক্যাল উপস্থিতি না থাকলেও চলে। আমি শরতচন্দ্র, সুনীল পড়লে তাদের সাথেও আলোচনা করি। হুম, এভাবেই তারা আমার মাঝে, পাঠকের মাঝে বেচে থাকে, তাদের লেখা দিয়ে, তাদের চিন্তাগুলোকে চরিত্র বানিয়ে।

চারিদিকে হা-হুতাশ। আমি বলি, থাম ভাই, স্যারকে তার কক্ষপথ থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না। এই যে এত্তগুলো সৃষ্টি তার, সেগুলো তাকে বাচিয়ে রাখবে, আমাদের অত বিচলিত না হলেও চলবে। ছুরিঘাতে কয়জনের মৃত্যু হবে, ৯০ দশক থেকে শুরু করে ২০১৮ এর কত শিশু-বুড়োর ১০০বিলিয়ন নিউরন মারতে মারবে??

লিখেছেন মৌরি মুসতারি 
(পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট। বর্তমানে একটি এনজিওতে কর্মরত আছেন। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উইমেন্স দলের আয়োজিত লীগ/প্রতিযোগিতায় স্পোর্টস ফিজিও হিসেবে কাজ করছেন।)
Comments
Spread the love