অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

‘ও এই খুলি! আমিই খুন করে পুঁতে রেখেছিলাম বছর বিশেক আগে’

ধরুন, আপনি ৬০-৭০ বছর বয়সী একজন ভদ্রলোক। একদিন বাগানে সবজি লাগাতে গিয়ে, হঠাৎ খুঁজে পেলেন একটা মাথার খুলি। বাগানে খুলি পেয়ে ভয়ে অস্থির হয়ে স্ত্রীকে ডাকলেন তা দেখাবার জন্য। এরকম অবস্থায় আপনার স্ত্রী যদি শান্ত কণ্ঠে এসে আপনাকে বলে, “ও এই খুলি! ভয়ের পেয়ো না, এটা আমার প্রথম স্বামীর। আমিই খুন করে পুঁতে রেখেছিলাম বছর বিশেক আগে।”

কেমন হবে সেসময় আপনার অনুভূতি? ভয়ে কি আপনার হার্ট মিস করবে না কয়েকটা বিট?

রাশিয়া, নারী নির্যাতন, স্বামী হত্যা

এমনই একটা ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ান এক ভদ্রলোকের সাথে। রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ওমস্ক অঞ্চলের লুজিনো নামক গ্রামের বাসিন্দা সেই ভদ্রলোক, বাগানে আলু লাগাতে গিয়ে  খুঁজে পেয়েছেন একটা মাথার খুলি। স্ত্রীকে ডেকে দেখাতে গেলে, স্ত্রী শান্ত কন্ঠে স্বীকার করেছে প্রথম স্বামীকে খুন করার কথা। বলেছে, “ভয় পেয়ো না। এটা আমার প্রথম স্বামীর। ২১ বছর আগের এক রাতে মাতাল হয়ে বাড়িতে ফিরে যখন আমাকে মারধর করছিল, সেসময় আমিই তাকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করি। এরপর টুকরো টুকরো করে বাগানে পুঁতে রাখি।”

মহিলা তার ৫২ বছর বয়সী প্রাক্তন স্বামীকে হত্যা করে পুঁতে রেখেছিল। তারপর এমন ভাব করেছিল যেন কিছুই হয়নি। অন্যদের কাছে বলেছিল, স্বামী একদিন কাজ করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। হারিয়ে গেছে।  

৬০ বছর বয়সী মহিলাটি নিরুত্তাপ কন্ঠে তার বর্তমান স্বামীর কাছে প্রাক্তন স্বামীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করার পরে বলেছে, “খুলিটাকে আবার মাটি চাপা দাও এবং এ কথা ভুলে যাও। আমরা পুলিশকে একথা জানাচ্ছি না।”

রাশিয়া, নারী নির্যাতন, স্বামী হত্যা

স্বামী ভদ্রলোকটি অবশ্য স্ত্রীর স্বীকারোক্তি শোনার পরে তাকে আর বিশ্বাস করতে পারেনি। তার নিষেধও মানতে পারেনি। সে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছে। পুলিশ এসে সবজি বাগানের মাটি খুঁড়ে লাশটির অন্যান্য হাড়গোড় খুঁজে বের করে জব্দ করেছে। মহিলাটিকে গ্রেফতার করেছে।

তদন্ত চলাকালে পুলিশ মহিলাটিকে গৃহবন্দী অবস্থায় রেখেছিল। মহিলা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও তার প্রথম স্বামীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। কিভাবে তাকে টুকরো টুকরো করে মাটিতে পুঁতে রেখেছে তারও বর্ণনা দিয়েছে। এ ঘটনায় রাশিয়ান তদন্ত কমিটি, মহিলার অপরাধ গুরুতর বলে বিবেচনা করেছে। কেননা মহিলা ঠান্ডা মাথায় তার স্বামীকে হত্যা করেছে এবং নিজের মুখে সে অপরাধ স্বীকার করেছে। ইচ্ছাকৃত খুনের দায়ে মহিলাটিকে সেদেশের আইন অনুযায়ী দশ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

রাশিয়া, নারী নির্যাতন, স্বামী হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ডেইলি মেইল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এই ঘটনাটি পড়ে কেন জানি আমার, খুন হয়ে যাওয়া লোকটার জন্য খারাপ লাগছে না। খারাপ লাগছে খুনী মহিলাটির জন্য। যে স্বামী মাতাল হয়ে এসে তার বউকে মারধর করে তার তো শাস্তি পাওয়াই উচিত। তা বলে খুন করা উচিত তা অবশ্য বলছি না। খুন করা অবশ্যই জঘন্য অপরাধ এবং কোন অবস্থায়ই সেটাকে সমর্থন করা উচিত নয়।

কিন্তু উপরে উল্লেখিত ঘটনায়, মহিলার এমন স্পষ্ট আর সাহসী স্বীকারোক্তিতেই কি খানিকটা বোঝা যায় না কতটা নরকযন্ত্রণায় ছিল মহিলা! কতটা নিরুপায় হয়ে সে তার স্বামীকে খুন করেছে! স্বামী এমন অত্যাচারী হলে, খুন না করুক, তবু, কমপক্ষে প্রতিবাদ করার সাহসটুকু সব নারীরই থাকা উচিত।

তথ্যসূত্র- ডেইলি মেইল

*

এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসেবুকে ম্যাসেজ করুন।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close