অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

ইতালির ‘কিংবদন্তী প্লেবয়’-এর শেষ ইচ্ছাপূরণ!

প্রতিটি মানুষেরই মৃত্যুর আগে একটা না একটা শেষ ইচ্ছা থাকে। কিংবা সরাসরি শেষ ইচ্ছা না হলেও, এমন কোনো না কোনো কাজের ব্যাপারে তীব্র বাসনা সে তার মনের মধ্যে লালন করে, যা সে মৃত্যুর আগে অন্তত একটিবার হলেও করে যেতে চায়। কিন্তু মানুষ হুট করে কখন কোথায় কীভাবে মারা যাবে, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই তার জীবনের শেষ ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়।

কিন্তু একটিবার ভেবে দেখুন তো, আপনার জীবনের শেষ ইচ্ছা যেটি, কিংবা সারা জীবন যেই কাজটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে গিয়েছেন, সেই কাজটি করতে করতেই যদি আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন, তাহলে বিষয়টি কত চমৎকারই না হয়! যে মানুষের সাথে এমন ঘটনা ঘটে, নিঃসন্দেহে তাকে আমরা জগতের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষদের একজন বলে আখ্যায়িত করতে পারি।

ইতালির কিংবদন্তীতুল্য ‘প্লেবয়’ মাউরিজিও জানফান্তি ঠিক এমনই একজন সৌভাগ্যবান মানুষ। ৬৩ বছর বয়সী মাউরিজিও তার জীবদ্দশায় ছয় হাজারেরও (৬০০০) বেশি নারীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। বলা চলে যৌনকর্মই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্যাশন। তিনি বরাবরই কামনা করে এসেছেন, তার মৃত্যুও যেন যৌনকর্ম করতে করতেই হয়। এবং বাস্তবে হয়েছেও ঠিক তা’ই। ২৩ বছর বয়সী এক নারী পর্যটকের সাথে গাড়ির পেছনে শুয়ে যৌনকর্ম করার এক পর্যায়ই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটেছে তার।

ইতালিয়ান প্লে বয়, ৬০০০ নারী সাথে যৌন সম্পর্ক, মাউরিজিও জানফান্তি, Maurizio Zanfanti
মাউরিজিও তার জীবদ্দশায় ছয় হাজারেরও (৬০০০) বেশি নারীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন।

মাউরিজিও বাস করতেন ইতালির সমুদ্র সৈকত নগরী রিমিনিতে। নারীদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়াকে তিনি এমনই ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেছিলেন যে, লোকে তাকে ডাকত ‘রোমিও অব রিমিনি’ নামে। সত্তরের দশকে তিনি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান, একটি নতুন নাইটক্লাবের প্রোমোটার হিসেবে। তবে তার মূল পেশা বরাবরই ছিল অর্থের বিনিময়ে নারীদের ‘বিনোদিত’ করা।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবারের। সেদিন রাতে রোমানিয়া থেকে আসা এক নারীকে বিনোদন দিচ্ছিলেন তিনি। একটি গাড়ির পিছনের সিটে শুয়ে। কিন্তু মাঝপথে থেমে যেতে বাধ্য হন তিনি। কারণ ততক্ষণে একটি ফ্যাটাল হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে তার। আতঙ্কিত তরুণী বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে তার ওই মুহূর্তে কী করা উচিৎ। তারপরও যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে প্যারামেডিক্সদের ডাক দেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন ‘ইতালির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল প্রেমিক’।

ইতালিয়ান প্লে বয়, ৬০০০ নারী সাথে যৌন সম্পর্ক, মাউরিজিও জানফান্তি, Maurizio Zanfanti
রিমিনির মেয়রের মতে, “ইতালি হারিয়েছে তার রাতের কিংবদন্তীকে!”

মাউরিজিওর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা নগরী জুড়ে। ইল রেস্তো দেল কার্লিনো নামের স্থানীয় পত্রিকা লিখেছে, “জানজা ঠিক সেই কাজটি করার পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন, যে কাজটি তিনি করতে পারতেন সবচেয়ে ভালো।” অন্যদিকে রিমিনির মেয়রের মতে, “ইতালি হারিয়েছে তার রাতের কিংবদন্তীকে।”

মাউরিজিওর বর্ণিল ক্যারিয়ারের সূচনা ঘটে ১৯৭২ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে। তখন ‘ব্লো আপ’ নামের একটি নাইটক্লাবে কাজ করতেন তিনি। তার মূল কাজ ছিল রাস্তায় দাঁড়িয়ে জার্মান ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পর্যটকদের সাথে কথা বলা ও তাদেরকে নাইটক্লাবের ভিতরে আসতে প্রলুব্ধ করা। জলপাই রঙা ত্বক, তুলোর মত চুল আর লোমশ বুক নিয়ে এক কাজে সফল হওয়া তার পক্ষে কোনো ব্যাপারই ছিল না।

গ্রীষ্মকালে মাউরিজিও সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন। ওই সময়টাতে তিনি গড়ে ২০০ নারীর সাথে শুতে পারতেন। শীতকালে অবশ্য তার ব্যস্ততা কমে যেত। তখন তিনি পাড়ি জমাতেন স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে। কাজ করতেন বিভিন্ন ট্যুরিস্ট এজেন্সির সাথে।

ইতালিয়ান প্লে বয়, ৬০০০ নারী সাথে যৌন সম্পর্ক, মাউরিজিও জানফান্তি, Maurizio Zanfanti
মাউরিজিও তার জীবদ্দশায় ছয় হাজারেরও (৬০০০) বেশি নারীর সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছেন।

তার জনপ্রিয়তা দিকে দিকে এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তার একদল নারী ভক্ত ও অনুরাগী, যাদেরকে তিনি ইতিপূর্বে বিনোদিত করেছেন, একজোট হয়ে সুইডেনের এক শহরে তার একটি মোমের মূর্তি পর্যন্ত স্থাপন করেছিল। এছাড়া তাকে ‘ইতালির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রেমিক’ উপাধিটিও ১৯৮৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করেছিল এল এসপ্রেসো নামে ইতালির এক সংবাদপত্র।

মাউরিজিওর আরেক অমর কীর্তি হলো সাক্ষাৎকার প্রদানের মাঝপথে এক ফরাসী নারী সাংবাদিককে এতটাই উত্তেজিত করে তোলা যে, ওই নারী সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নেয়া বন্ধ করে ওই মুহুর্তেই তার সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হন।

তথ্যসূত্র- নিউইয়র্ক পোষ্ট, দ্যা সান

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close