কে না ধনী হতে চায়! কে না সমৃদ্ধশালী হতে চায়! কিন্তু সত্যিকার অর্থে ধনী হওয়া বলতে কী বোঝায়?
আপনি যদি বলেন অর্থ বা টাকাকড়ি, তবে আমি বলবো আপনি নিজেই নিজেকে দারিদ্র্যতার দায়ে অভিশপ্ত করে রেখেছেন। ধনী-দরিদ্র, এসবই সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার, এটা কখনো ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব না। 
টাকা কখনো আপনাকে নিশ্চিত সুখী হওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারবে না। ধনী ব্যক্তির দিকেই তাকান, আপনার কি মনে হয় খাওয়ার পেছনে দুইগুন অর্থ ব্যয় করলেই সে ধনী হয়ে গেলো? আমি অন্তত তা বিশ্বাস করি না। 
ধনী হওয়া হয়তো আপনার জন্য আলাদা,আমার জন্য আলাদা। কিন্তু সার্বজনীন চিন্তা করলে জীবনের এই সময়, অভিভাবক হিসেবে ছেলেমেয়ের ছোট ছোট আবদারগুলো পূরণ করা, সঙ্গী হিসেবে অপরজনের চাহিদা মেটানো, কিংবা ছেলেমেয়ে হিসেবে মা বাবার দেখাশোনা করা, তাদের সাহায্য করতে পারাটাই আমাদের জন্য সবথেকে বড় সার্থকতা। এবং তা যদি আমরা করতে পারি তবে অবশ্যই আমি একজন ধনী ব্যক্তি।  
 
কিন্তু এখন যদি আমি ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের দেখে নিজের অবস্থান চিন্তা করি এবং নিজেকে দরিদ্র ভাবতে থাকি, তাহলে শেষ অবধি লুজার আমি নিজেই! কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে চিন্তা করলে আমরা প্রত্যেকেই একজন ‘ধনী’। তো, আপনি কি ধনী? যদি এর পরও আপনার উত্তর ‘না’ হয়, তবে আমি বলবো আপনি বাস্তবিক প্রত্যাশা থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। পরিবর্তনটা আপনার ব্যাংক ব্যালেন্সে না, অন্য কোথাও দরকার। ধনী হওয়া ব্যাপারটার মানে পাল্লা দেয়া না। “আমার নেই”, “তার আছে” এমন না। এটা সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার, অভ্যন্তরীণ প্রশান্তির ব্যাপার!  
 
আপনার এখন যা আছে আপনাকে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো আপনাকে চিন্তা করতে হবে। কী পাননি, কী পাচ্ছেন না- এই ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কী পেয়েছেন, আপনি কী পাচ্ছেন। আপনি অনেক টাকা রোজগার করলেই যে সুখী হবেন তা কিন্তু না! 
 
courtesy- financialhighway.com

courtesy- financialhighway.com

 
কিন্তু একজন ৫৪ বছর বয়েসির জন্যে ধনী বলার জন্যে এটুকু যথেষ্ট নয়। যদি ধনী হওয়া মানে ফ্যামিলির চাহিদা পূরণ করা হয়, তাহলে মূলধনের পরিমাণ ততটুকু হওয়া প্রয়োজন, তা যেন আমার কর্ম জীবনকে x উপার্জন দিয়ে রিপ্লেস করেতে পারে। আমি টার্গেট করলাম X, “X” টাকা হলে আমি ধনী হবো। এখন আমি সে অনুযায়ী কাজ করলাম এবং টাকা উপার্জনও করলাম কিন্তু এখন যদি আমার প্রত্যাশা বদলে “Y” হয়ে যায়, তখন কি তার জন্য আমি গরীব হয়ে যাব? নাকি আমার প্রত্যাশার কাছে আমি আমাকে বিক্রি করে চলেছি, সেটা ভাববো? আমি আমার টার্গেট পূরণ করেও টাকার পেছনে ছুটবো, তাহলে আমার জীবনে তখন টাকা থাকবে হয়তো ঠিকই, কিন্তু শান্তি থাকবে না।  টাকাটাই সব না, টাকা থাকলেই বড়লোক, ধনী কিংবা সমৃদ্ধশালী হওয়া যায় না। যদি তাই হতো তাহলে সম্পদশালী ব্যক্তিরা কখনো অসুখী থাকতো না! প্রকৃতপক্ষে আমরা প্রত্যেকে ধনী হতে চাই ভাল থাকার জন্য, সুখী হওয়ার জন্য। টাকা নিয়ে যদি আমি সুখেই না থাকি, তবে এই ধনী হওয়ার যুক্তি কোথায়? 
আপনি এখন ভেবে দেখুন, ভাবলেই বুঝতে পারবেন সুখী হওয়ার প্রথম চাবিকাঠি “লো এক্সপেকটেশন বা কম প্রত্যাশা করা”। আপনি যদি কোন কিছু থেকে বেশি প্রত্যাশা না করেন, তাহলেই দেখবেন ভাল আছেন। যে ব্যক্তি অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে তার জীবনের সবটাই ব্যয় করে দিলো, তার পরিবার পরিজনদের সান্নিধ্য পেল না, শুধু পেল ব্যাংক ব্যালেন্স- সে আর যাই হোক ধনী না, সম্পদশালী হতে পারে কেবল! সে লোকটি ব্যাংকের হিসেবে ধনী, কিন্তু মনের দিক থেকে দরিদ্র। ভীষণ দরিদ্র।
টাকার পেছনে যতই ছুটবো, ততোই আমরা জীবন থেকে ছিটকে পড়বো। অস্বীকার করছি না জীবনে টাকার দরকার নেই। অবশ্যই আছে। কিন্তু অঢেল দরকার নেই। প্রত্যাশা সীমার মাঝে রেখে, পরিবারের চাওয়াগুলো পূরণ করতে পারলেই জীবনে এর থেকে বেশি অর্থের দরকার হয় না। জীবনে সুখী হওয়াটাই উদ্দেশ্য,  তাই টাকার পেছনে ছুটে জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে সরে গেলে তার থেকে বোকামি আর কিছুতে নেই, কিছুতেই না!
তাই প্রত্যাশা কম করুন, যেটুকু দায়িত্ব আপনার, সেটুকুই পালন করুন, টাকার পেছনে ছুটে জীবন থেকে সুখ সরিয়ে দেবেন না, জীবনে টাকাই সব না, ভুলে যাবেন না জীবনের আসল উদ্দেশ্যই ভাল থাকা, সুখে থাকা। ভাবুন একবার, তারপর মন খুলে বাঁচুন! ধনী হওয়া মানে সম্পদশালী হওয়া না, ধনী হওয়া মানে সুখী হওয়া। 
 
(মূল লেখা- মার্কাস প্যাডলে, দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড থেকে অনূদিত)
আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো