ম্যাচ তখন পুরোপুরি হেলে পড়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দিকে। দুই ওভারে বারো রান দরকার জেতার জন্যে, কমলা জার্সিধারীদের হাতে তখন তিনটে উইকেট। দুই বলে দুটো ছক্কার মারেই ম্যাচ পকেটে ঢুকে যায়, এমন অবস্থায় ছয় বলে একটা মাত্র রান দিয়ে দুটো উইকেট শিকারকে অবিশ্বাস্য বললেও বোধহয় কম হয়ে যায়, বিশেষ করে মঞ্চটা যখন আইপিএল। সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটাই বল হাতে করে দেখালেন মুস্তাফিজ, কাটার মাস্টারের অসাধারণ বোলিঙেই শেষ বল পর্যন্ত টিকে ছিল মুম্বাইয়ের আশা। তবে দারুণ বোলিং করেও পরাজিতের দলে ঠাঁই হলো মুস্তাফিজের, টানা দ্বিতীয় জয় পেলো সাকিব আল হাসানের হায়দরাবাদ।

বোলিং এন্ডে মুস্তাফিজ, ব্যাটসম্যানের নাম সাকিব আল হাসান- বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যে নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত একটা মূহুর্ত এটা। সেই দৃশ্যের সাক্ষী হলো আজকের হায়দরাবাদ। ক্রিকেট ম্যাচ, লড়াইয়ের আবহ ছাপিয়ে দুই বাংলাদেশীর মিলনমেলার ম্যাচ এটা, আইপিএল অনুসরণ না করা বাংলাদেশীরাও আজকের ম্যাচটার খোঁজ নিয়েছেন নিশ্চিত। পারফরম্যান্সে জয়ী মুস্তাফিজ, দলের জয় সাকিবের। মুম্বাইয়ের এটা টানা দ্বিতীয় হার, টানা দুই জয় পেল হায়দরাবাদ।

সহজ ম্যাচটা হায়দরাবাদের জন্যে কঠিণ করে তুলেছিলেন মুম্বাইয়ের দুই বোলার বুমরা আর মুস্তাফিজ। টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে মুম্বাইকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন বুমরা, আর সেটাকেই মুম্বাইয়ের পকেটে প্রায় ঢুকিয়ে ফেলেছিলেন মুস্তাফিজ। উনিশতম ওভারটা করতে এলেন, প্রথম বলটায় সিঙ্গেল এলো। পরের দুইটা বল নাকানী-চুবানি খাওয়ালেন সিদ্ধার্থ কল’কে। ওভারের চতুর্থ বলে নিজেই ক্যাচ নিলেন, সিদ্ধার্থ ফিরলেন বোকা বনে। এক হাতে নেয়া ক্যাচটার মাহাত্ন্য ম্যাচের অবস্থা বিবেচনায় বিশেষণে প্রকাশের অযোগ্য! এক বল বিরতি দিয়ে আবারও উইকেট, এবার শিকার সন্দ্বীপ শর্মা। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্রুনাল পাণ্ডিয়ার হাতে জমা পড়লেন সন্দ্বীপ, গ্যালারীতে তখন মুম্বাই সমর্থকদের উল্লাসের ঝড়।

ম্যাচটা হয়তো মুম্বাই বের করে নিতেই পারতো, কিন্ত আইপিএলের মতো মঞ্চে ১৪৭ রানের পুঁজিটা একদমই যৎসামান্য। সেটা নিয়ে লড়াই করা যায়, কিন্ত ভাগ্যের খুব বড় ছোঁয়া না থাকলে জেতা যায় না। এই রান তুলতেই আট উইকেট খুইয়েছে মুম্বাই, অল্পের জন্যে ব্যাটিঙে নামা হয়নি মুস্তাফিজের। নতুন দল হায়দরাবাদের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। ইকোনমি রেটটা সাকিবসুলভ না হলেও, দুটো উইকেট শিকার করেছেন এই অলরাউন্ডার। দুই উইকেট তিনি পেয়েছিলেন আগের ম্যাচেও। চার ওভারে খরচ করেছেন ৩৪ রান, এরমধ্যে প্রথম ওভারে দিয়েছেন মাত্র এক রান, ডট বল ছিল পাঁচটা!

মুস্তাফিজ ব্যাটিং না পেলেও, ব্যাট হাতে নেমেছেন সাকিব। একশো স্ট্রাইকরেটে বারো বলে বারো রান করেছেন। আহামরি কিছু নয়, ইনিংসটা আরেকটু বড় হলে খুশীর পরিমানটা বাড়তো আরও। এরমধ্যে মুস্তাফিজের বলে পয়েন্টের যপর দিয়ে একটা বাউন্ডারিও মেরেছেন। সাকিবই একবার বলেছিলেন, মুস্তাফিজের বলে বাউন্ডারি মারার চাইতে সিঙ্গেল বের করা সহজ। আজ সাকিব বাউন্ডারি-সিঙ্গেল-ডাবল সবকিছুই বের করেছেন জাতীয় দলের সতীর্থের বলে।

দুর্দান্ত বোলিং করেও ম্যাচ হারের অতৃপ্তিটা সঙ্গী হলো মুস্তাফিজুর রহমানের, দলের জয়ে অবদান রাখতে পারার তৃপ্তি পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে এই দুজনের ম্যাচে যে দলই জিতুক বা হারুক, আসল জয়টা বাংলাদেশের হয়েছে, সেই জয়ের স্বাদ পেয়েছেন দেশী ক্রিকেটভক্তরা।

Comments
Spread the love