তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

ইফতারে যেসব কারণে খেজুরের বিকল্প নেই!

এমনিতে সারা বছর দেখা না গেলেও, রমজান মাসে ইফতারে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই উপস্থিতি থাকে খেজুরের। ইফতারীতে অন্য কিছু থাক বা না থাক, খেজুর আমাদের চাই-ই চাই! খেজুর মূলত সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছে, নবীজি (সা) খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করতেন বলে হাদীসে বর্ণিত আছে। আর তাই রমজান মাসে এই ফলটির কদর বেড়ে যায় আমাদের কাছে। তবে খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না হয়তো। এই ফলটির ভেষজ গুণ এতই বেশী যে, সাহাবীরা সেহেরীতে একটা খেজুর খেয়েই সারাদিন রোজা রাখতেন, এমন নজিরও আছে!

আমাদের দেশে খেজুর খাওয়ার কারণটা মূলত ধর্মীয় হলেও এই ফলের উপকারিতা জানলে সারা বছরই আমাদের খাবারের তালিকায় খেজুরের অবস্থান থাকার কথা। দুঃখের বিষয়, খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বেশীরভাগ মানুষেরই স্পষ্ট কোন ধারণা নেই। এ কারণে রমজান শেষ হয়ে গেলে বছরের বাকী এগারো মাস হয়তো অনেকে একটা খেজুরও খাওয়ার তাগিদ অনুভব করেন না, দোকানে বা রাস্তায় উৎসবমুখর পরিবেশে খেজুরের বেচা-বিক্রিও হয় না।

চলুন, আজ জেনে নেয়া যাক খেজুরের গুণাগুণ সম্পর্কে, কেন খেজুর খাওয়াটা দরকারী।

** খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ লবন, আঁশ এবং ফাইবার আছে। এগুলো শরীরে পুষ্টি যোগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। ফাইবার আবার কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। ইফতারের কয়েক ঘন্টা আগে খেজুর পরিস্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। এমন খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর হয়।

** খেজুরে প্রচুর খনিজ উপাদান রয়েছে, যেমন কপার, ম্যাঙ্গানেজ, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এছাড়াও আছে ভিটামিন-এ এবং বি দুটোই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে খেজুরে থাকা ভিটামিনগুলো দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

** পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরে থাকা খনিজ লবন আমাদের শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণে সাহায্য করে। এ কারণেই তারা ইফতারে অন্তত দুটি খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেন। সারাদিন রোজা রাখার পরে খেজুর শরীরের পানিশূন্যতা রোধে ভীষণ উপকারী। একইভাবে গরমের সময়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, তখনও খেজুর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

** খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম আছে। এই পটাশিয়াম স্নায়ু কার্যকরে ভূমিকা রাখে এবং মস্তিস্কের অবসন্ন ভাব দূর করে। নিয়মিত খেজুর খেলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া যাদের ওজন কম, তারা নিয়মিত খেজুর খেয়ে ওজন বৃদ্ধি করতে পারবেন।

** খেজুরের ক্যালরি মানবদেহ দ্রুত কর্মক্ষম করে তোলে। প্রচুর শর্করা থাকায় খেজুর খাওয়ার আধঘন্টার মধ্যেই এটা শরীরে বাড়তি শক্তি যোগান দিতে পারে। খেজুর মুখের রুচি ফেরায়, ক্ষুধা বাড়ায়- এমনটা প্রমাণিত সত্য।

** হৃদরোগীদের জন্যে খেজুর ভীষণ উপকারী খাদ্য। খেজুরের ফাইবার কোলেস্টেরল থেকে বাঁচায়। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেওও কাজ করে খেজুর। ফুসফুস আর মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এই খাবারটি।

খেজুরের এসব পুষ্টিগুণ সব শ্রেণীর মানুষের কাছে জানানো গেলে, এই খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা নিশ্চয়ই সারা বছরই থাকতো!

এইতো গেলো খেজুরের গুনাগুণ নিয়ে আলোচনা। কিন্তু মনে রাখতে হবে- যেকোনো খাদ্যদ্রব্য শুধু মজাদার হলেই চলবে না, সেই সাথে হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। বাজারের খোলা পরিবেশে যে খেজুর বিক্রি হয় তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এই ক্ষেত্রে নিরাপদ খাবারের অনলাইন পরিবেশক- khaasfood.com নিয়ে এসেছে সমাধান। এখান থেকে আজওয়া খেজুর বা মারিয়াম খেজুরসহ ইফতার ও সেহেরীর জন্য নানাবিধ বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যদ্রব্য অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close