অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

‘হয় আমাকে, না হয় কুকুরকে বেছে নাও!’

স্ত্রীর কুকুরপ্রীতিতে বিরক্ত হয়ে তাকে আল্টিমেটাম দিতে গিয়ে কি বিপত্তিতেই না পড়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্যাফোক কাউন্টির এক ভদ্রলোক। ৫৩ বছর বয়সী সেই ভদ্রলোকের নাম মাইক হ্যাসলাম। তিনি তার ৪৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিজ হ্যাসলামকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘হয় আমাকে, না হয় কুকুরকে বেছে নাও!’

ভদ্রলোক হয়তো ভেবেছিলেন এমন কড়া আল্টিমেটামের পরে তার স্ত্রীর কুকুর প্রীতি কমে যাবে। স্বামীকেই হয়তো বেছে নেবেন ভদ্রমহিলা। কিন্তু সবকিছু তো আর সবার মনমতো হয় না। মাইক হ্যাসলামের স্ত্রী, তার বদলে কুকুরকেই বেছে নিয়েছেন। মানে, স্বামীকে ছাড়তে রাজি হলেও মহিলা পোষা কুকুরগুলোকে ছাড়তে রাজি হননি।

স্বামীর বদলে কুকুরকে বেছে নিয়েছেন লিজ হ্যাসলাম একথা শুনে হয়ত ভাবছেন, নিশ্চয়ই খারাপ ছিল স্বামীটা! বা, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো ছিল না নিশ্চয়ই! কিন্তু না, ঘটনাটা আসলে এমন কিছু না। লিজ হ্যাসলাম, স্বামী মাইক হ্যাসলামের বদলে কুকুরগুলোকে বেছে নিয়েছেন কারণ কুকুরগুলোকে রক্ষা করতে চেয়েছেন তিনি। অসহায় প্রাণীগুলোর উপর খুব মায়া জন্মে গেছে তার, সেগুলোকে ছাড়তে চাননি তিনি। মায়া জন্মানোর যথেষ্ট  কারণও রয়েছে অবশ্য। 

লিজ হ্যাসলাম বলতে গেলে, কুকুরদের সাথেই বেড়ে উঠেছেন। তার মা “ওয়েস্ট হাইল্যান্ড” নামের এক জাতের ছোট শিকারী কুকুর পালতেন। আর বাবার ছিল পশু খাদ্যের ব্যবসা। ফলে, ছোটবেলা থেকেই লিজ এর, প্রাণীদের, বিশেষ করে কুকুর পোষার প্রতি বেশ ঝোঁক রয়েছে।

স্কুলে পড়ার সময়, মাত্র ষোল বছর বয়সে তার স্বামী মাইক হ্যাসলামের সাথে পরিচয় হয় লিজ এর। স্কুল শেষ করেই ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে মাইককে বিয়ে করেন তিনি। সংসার শুরু করেন। একটি সন্তানও আসে এই দম্পতির ঘর আলো করে। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু সেই সুখের পথে বাঁধ সাথে, লিজ এর অতিরিক্ত কুকুরপ্রীতি।

আজ থেকে বছর সাতেক আগে লিজ-মাইক দম্পতি ইংল্যান্ডের সাফোক কাউন্টির বার্নহ্যামের একটি ফার্মহাউজে দুই বেডরুমের একটি কটেজ ভাড়া নেন। শিশুপুত্রকে নিয়ে সেখানেই থাকতে শুরু করেন তারা। স্বামী নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন বাড়িতে একা একা ঘরে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে ‍উঠেছিলেন লিজ হ্যাসলাম। তাই তিনি অভিনব এক ব্যবসা শুরুর চিন্তা করেন। তারা যে ফার্মহাউজে থাকত সেটি আধা একর জমির ওপর। বেশ বড়ই জায়গাটা। এই জায়গায় কুকুরের জন্য একটি হলিডে হোম বানাবার চিন্তা করেন লিজ। হলিডে হোম বানিয়ে অন্যদের পোষা কুকুর রাখার জন্য ভাড়া দেন। এতে অর্থও আসে আবার লিজের সময় কাটানোর মত একটা কাজও করা হয়।

এর কিছুদিন বাদে, ‘বুল টেরিয়ার’ জাতের কুকুরদের সংরক্ষণের জন্য তিনি গড়ে তোলেন বেডফরবুলিস নামের একটি সংস্থা। লিজের এই সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বুল টেরিয়ার জাতের আহত কুকুরদের উদ্ধার করে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আবাসনের ব্যবস্থা করে। এ জাতের কুকুর সংরক্ষণে অন্যদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালায়।

এমন করেই লিজের ঘর ভরে ওঠে আহত কুকুর দিয়ে। কুকুরগুলোর উদ্ধার, যত্নাত্তি, আর সেবা শুশ্রুষা করেই লিজের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটতে থাকে। ২৪ ঘন্টার দিনে, ভদ্রমহিলার গড়ে ১৮ ঘন্টারও বেশি সময় কেটে যায় কুকুদের দেখাশোনায়। কুকুরের সংখ্যা বাড়তে থাকলে মাইক হ্যাসলামকেও মাঝে মাঝে সাহায্য করতে হত স্ত্রীর কাজে। এভাবেই একসময় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ওঠেন ভদ্রলোক।  

কুকুরদের প্রতি স্ত্রীর এই বাড়াবাড়ি রকমের মনোযোগ মানতে পারেননি মাইক। তিনি স্ত্রীকে বলেন, জীবনে কুকুর লালন-পালন ছাড়াও অনেক কাজ করার আছে তার। এমন জীবন চান না তিনি। তাই কুকুর থেকে মুক্তি মেলার জন্য, স্ত্রীকে বলেন, হয় কুকুর, না হলে স্বামীকে বেছে নিতে হবে।

লিজ হ্যাসলাম উত্তরে স্বামীকে বলেন, কুকুরদের ছাড়তে পারবেন না তিনি। স্বামীকে চান না এমনটা বলা অবশ্য তার উদ্দেশ্যে ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন, পঁচিশ বছর ধরে যার সঙ্গে সংসার করছেন, সেই স্বামী তার ভালো লাগাটা বুঝবে। বুঝবে, কেন তিনি অসহায় প্রাণীগুলোকে ছাড়তে চান না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, মাইক হ্যাসলাম বুঝতে পারেননি। স্বামী-স্ত্রীর ভাললাগা মিলেনি। তাই পঁচিশ বছরের সংসার আর স্ত্রীকে ছেড়ে চলে গেছেন ভদ্রলোক। যদিও তাদের বিয়েটা এখনো টিকে আছে, গত আঠারো মাস ধরে কোন যোগাযোগ নেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।

 

মাইক হ্যাসলামের অভিযোগ ছির, রাত-দিন কুকুর পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে উঠেছিল তাদের জীবন। এ থেকে তাদের আচরণগত আর স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যারও সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু, স্ত্রী তার অভিযোগ বুঝলেও, কুকুরগুলোর উপর মায়া ছাড়তে পারেনি।

লিজ হ্যাসলাম বলেন, “যদি আমি এ কাজ নিয়ে না থাকতাম তাহলে আমাকে শুধু শুধু ঘরে বসে সময় কাটাতে হত, যেটা আমি কখনোই চাইনি। কুকুরের প্রতি আমার ভালবাসা সবসময়ই বেশি ছিল। সেটা মাইকের থেকে কোন অংশে কম নয়। আমার পক্ষে কুকুরগুলোকে ছাড়া সম্ভব ছিল না”।

আজ বহু দিন ধরে কুকুর লালন-পালনের সাথে জড়িত লিজ হ্যাসলাম। বেশ কঠিন কাজ। অনেক পরিশ্রম করতে হয়, বিশ্রাম নেবার সময় পান না। তবু তিনি এ কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। কুকুরগুলোর দেখাশোনা করাটা এখন তার কাছে দায়িত্ববোধের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পর্যন্ত একশ’টিরও বেশি কুকুর উদ্ধার করেছেন মহিলা। আহত এই কুকুরগুলোর প্রত্যেকটিরই আলাদা আলাদা নাম দিয়েছেন তিনি। সবগুলো কুকুরেরই কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে। কারো কানে সমস্যা, কারো হাতে, কোনটার পায়ে, আবার কোনটার ব্রেনে। মোট কথা অসুস্থ সবগুলোই। এগুলোকে উদ্ধার করে আনতে এবং চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করতে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয় লিজ হ্যাসলামকে।

হলিডে কুকুরগুলোকে ভাড়া রাখার বিনিময়ে কিছু অর্থ জোগাড় হয় তার। বেডফরবুলিস একটি দাতব্য সংস্থা। এটাতে অনেকেই অর্থসহায়তা দান করে। কিন্তু তার পরও সব খরচের জোগাড় হয়না। মাসে শত শত পাউন্ড খরচ করে লিজ হ্যাসলাম বুল পেরিয়ার জাতের এসব কুকুরের  চিকিৎসা আর ঔষধের পেছনে।

পশু ডাক্তারের কাছে তার ৪০০০ পাউন্ডের বিল জমা হয়েছে, বাড়ি ভাড়া বাকি রয়েছে ৮০০ পাউন্ড। তার যে ফার্মহাউজে তিনি ভাড়া থাকেন, তার মালিক ও তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন একব ছরের মধ্যে। এতকিছুর পরেও লিজ হ্যাসলাম কুকুরগুলোকে ছাড়তে নারাজ। অবলা প্রাণীদের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা খুব একটা দেখা যায় না!

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে তারা নতুন করে আবার সব শুরু করবেন, এটাই প্রত্যাশা! 

*

এগিয়ে চলোর এই ১০০% কটন, ১৬০ জিএসএমের প্রোডাক্ট পেতে কল করুন এই নাম্বারে- 01670493495 অথবা অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করে ফেসেবুকে ম্যাসেজ করুন।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close