২০১৭ সালে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস আমেরিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছেন সে তালিকায় বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে রয়েছেন বিল গেটস- এ খবর পুরনো। এ নিয়ে ফোর্বস এর করা এই তালিকায় পরপর ২৩ বার তিনি শীর্ষ স্থানটি দখল করেছেন। অবস্থা প্রেক্ষিতে মনে হয়, এসব তার কাছে এখন অনেকটা ডালভাত; মানে নিয়মিত ব্যাপার আরকি! ফোর্বসের মতে, বিল গেটস এর সম্পদের পরিমান ৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় কত হবে এই ৮১ বিলিয়ন ডলার? গুগল বলছে, ১ বিলিয়ন ডলার= ৭৯১৩৬০০০০০০ টাকা। এখন আপনি হিসাব করুন ৮১ বিলিয়ন সমান কত টাকা! পারছেন তো হিসেব করতে? একজন মানুষের এই পরিমাণ টাকা! ফোর্বস এর মতে, শুধু আমেরিকা নয় পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী লোক এই বিল গেটস।

ফোর্বস এর করা আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ২য় অবস্থানে আছেন বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন শপিং রিটেইলার আমাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, ওয়ারেন বাফেট। তার রয়েছে ৬৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চতুর্থ অবস্থানে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ রয়েছেন। তিনি এই প্রথমবারের মত অর্থের দিক থেকে এত উঁচু অবস্থানে উঠতে পেরেছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওরাকল কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন রয়েছেন আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে।

তো, এই যে এই মানুষদের যে এত এত টাকা। জানতে ইচ্ছে হয় কি, কেমন বাড়িতে থাকেন তারা? বাড়িগুলো কি প্রাসাদের মতো! চলুন জেনে আসি তাদের বাড়ি নিয়ে কিছু তথ্য-

বিল গেটসের বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তার যে বাড়িটিতে বিলগেটস বেশিরভাগ সময় কাটান সেটি ৬৬,০০০ বর্গফুট এলাকা নিয়ে বিস্তীর্ণ। প্রাসাদতুল্য বাড়িটি থেকে ওয়াশিংটন লেক দেখা যায়।

বিল গেটসের বাড়ি, মার্ক জাকারবার্গ, ওয়ারেন বাফেট, অ্যামাজন, জেফ বেজোস

বিল গেটসের বাড়িটি তৈরি করতে কত সময় লেগেছে জানেন? সাত বছর। সাত বছর ধরে ৬৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশাল এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিল গেটস এর বিলাসবহুল বাড়িটি। বাড়িতে কি আছে জানতে চান? সেটা বলাটা বুঝি কঠিন হয়ে যাবে। কি নেই সেটা জানতে চাইলে বরং বলাটা সহজ হবে বুঝি। স্বাভাবিকভাবেই বিত্তবৈভবের প্রদর্শনীর কোন কমতি নেই সে বাড়িতে। আছে কৃত্রিম ঝরনা, সমুদ্র সৈকত, বিশাল সুইমিং পুল। গাড়ির সংখ্যা তো সঠিকভাবে বলা কঠিনই, উড়োজাহাজের সংখ্যাও একাধিক।

নিজস্ব থিয়েটার হল আছে। স্বাভাবিকভাবেই অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সবই আছে সেখানে। বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে রয়েছে অসাধারণ সব শিল্পকর্ম, যেগুলো, পরিবর্তন করা যায় ইচ্ছামত। মানে, নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিলেই সেগুলো পরিবর্তন হয়ে যায়। দুই হাজার একশ বর্গফুটের একটি লাইব্রেরী আছে সে বাড়িতে। শিল্পকর্মের ভালো সমঝদার বিল গেটস। তার বাড়িতে বিখ্যাত সব শিল্পকর্মের বিরল সংগ্রহ রয়েছে।

বাড়িটির জায়গা কিনেছিলেন বিল গেটস ১৯৮৮সালে, ২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। আর, বর্তমান বাজারে তার বাড়ির মূল্যমান প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার।

জেফ বেজোসের বাড়ি

বিল গেটসের মতো জেফ বেজোসের বাড়িটিও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের মেডিনাতে। ৫২ বছর বয়সী জেফ বেজোস তার ই-কমার্স সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সাথে সাথে ভূসম্পদেরও একটি সত্যিকারের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় জমির মালিকদের একজন তিনি। জমির হিসাব করলে তার পশ্চিম টেক্সাসে রযেছে ১৬৫,০০০ একরের একটি খামারবাড়ি, ওয়াশিংটনে জলাশয় ঘেরা একটি বাড়ি, ম্যানহাটনের সেঞ্চুরি টাওয়ার সংলগ্ন তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং বেভারলি হিলসে টম ক্রুজের বাড়ির পাশে ১২০০০ বর্গ ফুটের একটি জায়গা।

বিল গেটসের বাড়ি, মার্ক জাকারবার্গ, ওয়ারেন বাফেট, অ্যামাজন, জেফ বেজোস

ওয়াশিংটনের মেডিনাতে আমাজনের হেটকোয়ার্টারের খুব কাছেই জেফ বেজোসের বাড়িটির অবস্থান। ৫.৩৫ একর এলাকায় বিস্তৃত হলেও মূল বাড়িটি ২৯০০০ বর্গফুট জায়গার উপর গড়ে উঠেছে। মূল বাড়ি ছাড়াও সেখানে বাড়ির কেয়ারটেকারদের জন্য আলাদা কটেজ রয়েছে। ওয়াশিংটন লেকে ৪৫০০বর্গফুট জমির উপর রয়েছে একটি বোটহাউজ।

ওয়ারেন বাফেটের বাসস্থান

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন হয়েও ওয়ারেন বাফেট তার সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য আলোচিত। বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত মিতব্যয়ী। প্রয়োজনাতিরিক্ত ভোগের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে তার অনীহা আছে।

বিল গেটসের বাড়ি, মার্ক জাকারবার্গ, ওয়ারেন বাফেট, অ্যামাজন, জেফ বেজোস

৮৬ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহাতে যে বাড়িতে বাস করেন, সেটি তিনি কিনেছিলেন ১৯৫৮সালে, ৩১,৫০০ডলারের বিনিময়ে। ১৯৫৮সাল থেকে এই দীর্ঘ সময় তিনি সেই বাড়িটিতেই বাস করেন। ১৯২১ সালে নির্মিত ৬৫০০ বর্গফুটের বাড়িটিতে অনেকবারই সংস্কার কাজ করা হয়েছে বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন ওয়ারেন বাফেটের থাকার উপযোগী করে একটু বেশি আরামদায়ক করে তোলার উদ্দেশ্যে।

মার্ক জাকারবার্গের বাড়ি

অল্পবয়েসী তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এবং সবচেয়ে ধনী ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। তিনিও তার বদান্যতার জন্য বিখ্যাত। তার সম্পদের বেশিরভাগই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যউন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকেন তিনি। তাদের নিজস্ব ভূসম্পত্তির বলতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটো শহরে তার নিজের বাড়িটি এবং সানফ্রান্সিসকোতে ৯.৯ মিলিয়ন ডলারে কেনা ছোট্ট একটি বাড়ি।

বিল গেটসের বাড়ি, মার্ক জাকারবার্গ, ওয়ারেন বাফেট, অ্যামাজন, জেফ বেজোস

৩২ বছর বয়সী মার্ক জাকারবার্গ তার পালো আলটোর বাড়িটি কিনেছিলেন ২০১১ সালে, ৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। ক্রাফ্টম্যান স্টাইলের এই বাড়িটির গড়ে উঠেছে ৫০০০ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার্থে জুকারবার্গ তার বাড়ির আশেপাশের আরও চারটি বাড়ি কিনে নিয়েছেন ৪৩.৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। তবে তার নতুন কেনা বাড়ি চারটি ভেঙে সেখানে নতুন কিছু তৈরি করার পরিকল্পনা আপাতত মুলতবী রয়েছে। দেখা যাক, ভবিষ্যতে সেগুলোকে কি আকৃতি দেন জুকারবার্গ!

ল্যারি এলিসনের বাড়ি

ওরাকল কর্পোরেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসনের বয়স ৭২ বছর। বিপুল পরিমাণ অর্থের সাথে সাথে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমান ভূসম্পত্তির মালিক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবু শহর এবং তাহো লেকের আশেপাশের বিশাল এলাকার পুরোটাই কিনে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রদ অ্যাইল্যান্ডের নিউপোর্ট শহরে ৭০মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে কিনেছেন বিচউড ম্যানশন। জাপানের কিয়োটোতে কিনেছেন একটি গার্ডেন ভিলা। ২০১২ সালে কেনা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের ষষ্ঠ বৃহৎ দ্বীপ লেনা এর ৯৮ শতাংশের মালিক ল্যারি এলিসন। এ দ্বীপ তিনি কিনেছিলেন ৫০০ মিলিয়ন ডলারে।

এছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার উডসাইড শহরে তার ১১০ মিলিয়ন ডলারের ভূসম্পত্তি রয়েছে। ষোল শতকের জাপানি স্থ্যাপত্যের মডেলে ডিজাইন করা হয়েছে তার এখানকার বাসস্থানটির। তৈরি করা হয়েছে ২.৩ একর জমির উপর একটি কৃত্রিম লেক।

তথ্যসূত্র- ম্যানশনগ্লোবাল.কম

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-