আপনি কোনো কাজেই মনোযোগ দিতে পারছেন না। জীবনের কিছুই আর ভালো লাগছে না। বয়স তো কম হলো না। কিন্তু অর্জন, প্রাপ্তির হিসেব মিলছে না। নাকি জীবন থেকে আপনি কিছুই শিখতে পারেননি! এমন কতবার হয়েছে? জীবনের সব কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্যে সবচে গুরুত্ব বহন করে যে শিক্ষা, তা হচ্ছে পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা। পাহাড়ে চড়ার পর আগের মানুষটি আর পাহাড় চড়ার পরের মানুষ এক থাকে না। বদলে যায় অনেকখানি। বলেছিলাম পাহাড়ে চড়ার পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা আজ বলবো পাহাড়ে চড়ে জীবন সম্পর্কে মানুষ যা শিখতে পারবে। আগেও বলেছি পাহাড়ে চড়া সহজ কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন সাধনা, দৃঢ় বিশ্বাস, আর তীব্র ইচ্ছাশক্তি। যদি এই সব কিছু আপনার থাকে, তাহলে মনে রাখুন আপনিও পারবেন নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মানুষকে সৃষ্টি করতে।

১। জীবনে অনেক কঠিন সময় আসে যখন আমরা হার মেনে যাই। পারবো না, আমাকে দিয়ে হবে না, এটা আমার জন্য সহজ নয়- নানা ধরণের কথা বলে মাঝপথেই থেমে যাই। কিন্তু আপনি যদি পাহাড়ে চড়া মানুষ হন, তাহলে আপনার থেকে ভালো আর কেউ জানবে না, কীভাবে মাঝপথে নিজেকে জাগিয়ে তুলে এগিয়ে যেতে হয়! অনেকটা পথ তো কষ্ট করে বোঝা কাঁধে নিয়ে হেঁটে এসেছেন। সামনে পথটি হয়তো সহজ নয়, কিন্তু পথটি শেষ হলে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন আপনার ঝুলিতে থাকবে।

২। একটু একটু করে অগ্রসর হতে হবে। সমস্যার সমাধান একদিনে হয়ে যাবে না। এর জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক দুইভাবেই আপনাকে কঠোর হতে হবে। পাহাড়ে চড়ে আপনি শিখতে পারবেন কীভাবে অনেক কঠোর সময়েও শান্ত থাকতে হয়। বড় বড় পা ফেলে যদি পাহাড় চড়তে চান তাহলে তলিয়ে যাবেন নিমিষেই।

৩। যখন একসাথে অনেক মানুষ বলে উঠবে আরে তোমাকে দিয়ে হবে না। তুমি পারবে না। তুমি যোগ্য না। তখন নিজেকেই নিজের বন্ধু হতে হবে। আমি পারবো, পাহাড়টা নিজের দমে উঠতে পেরেছি। জীবনের এই “না পারার পাহাড়” কিছুই না। পাহাড়ে চড়া আত্মবিশ্বাসী করে তোলে নিজের অজান্তেই। আপনার আত্মবিশ্বাস যখন পাহাড়ের চাইতেও বড়, বোকা মানুষগুলো তখন ক্ষুদ্র পোকার ন্যায়।

৪। জীবনে কেউ কখনো বিপদে এগিয়ে আসেনি। তাই রাগে কষ্টে ভেবে রেখেছেন আমিও কখনো কাউকে সাহায্য করবো না? কিন্তু পাহাড়ে চড়তে গিয়ে একদিন আবিষ্কার করলেন জীবনটা অনেক ছোট। আজ মরে গেলেই কয়েক সেকেন্ড বাদে মৃত লাশ। আমাকে কেউ সাহায্য করেনি বলে কি আমিও স্বার্থপর হবো? পাহাড়টি তো নিঃস্বার্থের মতো নিজেকে কেটে দিয়ে ঝর্ণাকে বয়ে যেতে দিয়েছে। তাহলে আমরা তো সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ হয়ে মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে যেতে হবে না? পাহাড়ে চড়তে গেলে আমরা শিখি অন্যকে আগে যেতে দিলে ক্ষতি নেই। ক্ষতি নেই একসাথে উঠলেও।

৫। “Ego is your biggest enemy”। খুব কষ্টে হচ্ছে উপরে উঠতে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়া যাবে না। ভাববে আমি দুর্বল। “ভাই আপনার কি পানি লাগবে?”- না ঠিক আছি আমি, সমস্যা নাই! এরপর আপনার শরীর ছেড়ে দিলো, অসুস্থ হয়ে পরলেন। শেষমেশ এত দূর এসেও আপনি ট্রেকটি শেষ করতে পারলেন না শুধুমাত্র আপনার ইগোর জন্য। ঠিক একই কারণে জীবনের অনেক পথেই বাধার মুখে পড়বেন। ইগো প্রতিরোধ করতে হাইকিং অনেক সাহায্য করে।

৬। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হয়তো ট্রেক করেই সহজে শিখতে পারবেন। কারণ ট্রেকিংয়ের সময় প্রতিটি মুহূর্ত সোনার খনি। এক সেকেন্ডও অপচয় করা যাবে না। এর সঙ্গে অবশ্যই কীভাবে পানি/খাবার অপচয় রোধ করা যায় তাও শিখতে পারবেন। কারণ যখন পানি খাওয়ার জন্য কাতরাবেন, কিন্তু সঙ্গে খালি পানির বোতলটি আছে কিন্তু পানি নেই তখন মনে পড়বে, জীবনে কত কিছুরই না অপচয় করেছি, ইশ! 

পাহাড় নিজেই একটা অহংকার। কারণ আজ পর্যন্ত যতবার পাহাড় দেখেছি ততবার নিজেকে ছোট মনে হয়েছে। এরপরও বারবার নিজেকে ছোট করে ছুটে গিয়েছি সেখানে। কারণ একদম পাহাড়ের চূড়ায় মাথার কাছে আকাশ। যেখানে মন-প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে নেই কোনো মানা। পাহাড়টি বড্ড অহংকারী, কিন্তু আমাকে একা হতে দেয় না। সঙ্গ দেয়, পথ চলতে আরেক পথের সৃষ্টি করে দেয়।

You know, this hike was a lot like life’s challenges. Hard at the beginning. You think it’s difficult, but you just continue. You get past the challenge, more arise, but by that time, you’re more confident since you just completed the first one. Then after it’s all done, there are more mountains, but you’re not so apprehensive. Actually, you’re keen to take it on!

ছবি কৃতজ্ঞতা- লেখক

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-