ইনসাইড বাংলাদেশযা ঘটছে

সংযম শুধু খাওয়ার বেলায়?

ওয়ারিশ আজাদ চৌধুরী

আমাদের ব্র্যান্ডগুলোর একটা নরমাল টি-শার্টে হাত দেন, মিনিমাম আপনাকে ১২০০-১৪০০ টাকা গুনতে হবে। কমসে কম ৭৯৯ টাকা। শার্টের কথা তো বাদই দিলাম! ফরমাল শার্ট দুই হাজারের নিচে নাই। এই হলো আমাদের ঈদের বাজার। পাশের দেশ ইন্ডিয়াতে যান। কোনোমতে দিল্লী যেতে পারলে আপনি মোটামুটি ৭ হাজার রুপি মানে ১০ হাজার বাংলাদেশী টাকায় টপ কোয়ালিটির প্রোডাক্ট শপিং করতে পারবেন।

কিন্তু আমাদের দেশের ব্র্যান্ডগুলার দেমাগে মাটিতে পা পড়ে না। একটা গোল গলা টি-শার্ট ডিজাইনসহ প্রোডাকশন কষ্ট, তা সে যত উন্নত মানেরই হোক, সাকল্যে ২০০ টাকা। সেই টি-শার্ট ব্র্যান্ডের সীল মেরে বিক্রি করে ১২০০-১৪০০ টাকা। মগের মুল্লুক পেয়েছে নাকি?

এবার আপনি প্রশ্ন করবেন, ‘আরে মিয়া, আপনে যান কেন ব্র্যান্ড শপগুলাতে?’

কাম হেয়ার মিয়া ভাই! ব্র্যান্ডশপে কেবল বড় লোকেরা যাবে এটা কোন সংবিধানে লেখা আছে? বাইরের দেশে মাস-পিপলরাই ওয়ালমার্ট, বিগ বাজারে যায় মিডলক্লাসরা। একমাত্র আমাদের দেশেই ব্র্যান্ডগুলারে দাম দিতে দিতে আমরা টংয়ের আগায় তুলে ফেলেছি।

একটি বিখ্যাত জুতার ব্র্যান্ড যে স্যান্ডেল বিক্রি করে তিন হাজার চার হাজার টাকায়, পাশের দেশ ভারতে সাহা সুজ বা যেকোন জুতার দোকানে সেই চামড়ার স্যান্ডেল পাওয়া যায় ১২০০-১৩০০ টাকায়। কেন? ইন্ডিয়ান জুতা গুলিস্তানের গরুর চামড়া দিয়া বানায় আর আমাদের ব্র্যান্ডগুলো গুলশানের গরুর চামড়া দিয়া বানায় নাকি?

ব্র্যান্ড মানে বিশেষ কিছু। ইয়েস! এর মানে এই না যে, একটা প্রোডাক্টে ২০০%-৩০০% লাভ করবে। এইটাকে বিজনেস বলে না, এইটাকে বলে জোচ্চুরি। তারপর আসেন নিউমার্কেটে। আপনি নিউমার্কেট থেকে যে জিন্স ৮০০ টাকায় কিনে আনন্দে নাচতে নাচতে বাড়ি আসেন ওই জিন্সের প্রোডাকশন কস্ট সাকল্যে ২৫০ টাকা। এত হাসবেন না। বড় লোক ধরা খায় ব্র্যান্ডে। আর মিডলক্লাস ধরা খায় নিউ মার্কেটে।

রোজার মাস আসলে এ দেশের ব্যবসায়ীদের ‘পিনিক’ উঠে যায়। একেকজন ক্রেতাকে এরা একেকটা কোরবানীর পশু হিসেবে দেখে। ধর, শোয়া, জবাই কর। একে সংযম বলে? সংযম শুধু খাওয়ার বেলায়?

আমেরিকায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলেন, থ্যাঙ্কসগিভিং বলেন, কিংবা ক্রিসমাস। ব্যবসায়ীরা ছাড় দেয় যাতে গরীব, মধ্যবিত্ত, বড়লোক সবাই একসাথে উৎসবে অংশ নিতে পারে। তাদের মেন্টালিটিটাই ওই লেভেলের। আর আমাদের ব্র্যান্ড বলেন কিংবা নিউ মার্কেটের কচি ফ্যাশন। কোন দোকানে এসি আছে, কোন দোকানে এসি নাই। মেন্টালিটি সেই একই। ধর, শোয়া, জবাই কর। দেশীয় ব্র্যান্ড। কি ভাব! আমার দোকানে এসে তুমি নিজের জীবন ধন্য করে ফেলেছ।

এদেশের মানুষের উৎসবও শুদ্ধ না। উৎসবের মধ্যেও চুরিচামারি মিশে থাকে। বড় বড় ব্র্যান্ডশপের আলো উজ্জ্বল হতে থাকে। ঘর মোছার ত্যানা, পাঞ্জাবি, গুচি, আরমানি।

আমারে চিনোনি ম্যান! ব্র্যান্ড আই এম!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close