দেখতে দেখতে ফেব্রুয়ারি চলে গেল প্রায়! সেই সাথে আমরা পৌঁছে গেছি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ এর অন্তিম লগ্নে। এই পুরো মাস এগিয়ে চলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন লেখক-লেখিকাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুরাইয়া হেনা, যিনি নিজেও একজন লেখিকা। খুব যত্ন করে তুলে এনেছেন লেখকদের লেখালেখি জীবনের গল্পগুলো। আজ আমরা তার গল্পগুলো শুনবো তার মুখ থেকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কামরুন নাহার খান (মৌরী)

 ১. কেমন আছেন ?

: ভালো থাকাটা অভ্যাস হয়ে গেছে। সে সূত্রে ভালো থাকি, ভালো আছি।

২. দেখতে দেখতে বইমেলার মাস তো শেষ হয়ে এলো। কি করলেন এই সারা মাস ?

: এই মাসটা গত দুই বছর যাবৎ ব্যস্ততায় কাটে, বইমেলাকে ঘিরে। এবারের ব্যস্ততাটা আরো বেশি ছিলো। স্কুল, নিজের পড়াশুনা, বইমেলায় নিজের বই ও কিছু পোর্টালে সাংবাদিকতার সুবাদে অন্যান্য লেখকদের সাক্ষাৎকার নেয়া- এসব মিলিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ততায় কাটালাম পুরো ফেব্রুয়ারি।

৩. এই বছর যে আপনার বইটি বের হয়েছে তার সম্পর্কে কিছু বলুন?

: গত বছরের ‘মেঘবাড়ি’র মত এ বছরও আমার গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম ‘অনুভূতির গল্পেরা’। ৭টি গল্পে সাজানো হয়েছে বইটি। জীবনজুড়েই তো নানা অনুভূতির জায়গা, নানা গল্প, সেখান থেকেই কিছু তুলে এনে জড়ো করা হয়েছে ‘অনুভূতির গল্পেরা’ বইয়ের দুই মলাটের মাঝে।

৪. লেখিকা হওয়ার শুরুটা কীভাবে?

: লেখালেখির শুরুটা ছোটবেলাতেই। পড়তে ভালোবাসি, সেই ভালোবাসা থেকে নিজেরও লেখার আগ্রহ শুরু। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখিতে অংশগ্রহণ ও পুরষ্কার পাওয়া। লেখার প্রতি এই আগ্রহটা দিন দিন বেড়েছেই এভাবে। ২০১২সাল থেকে অনলাইনে লেখালেখি শুরু করি। তখন বিভিন্ন পেজে লেখা প্রকাশিত হতো। কিছু পাঠক তৈরি হতে শুরু করলো, তাদের উৎসাহে সাহস আরো বাড়লো। ২০১৪সালে প্রথম ছাপা মাধ্যমে লেখা শুরু। তখন বেশ কিছু দৈনিক ও মাসিক পত্রিকায় লিখতাম নিয়মিত। বেশ কিছু সংকলনে গল্প ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই শুরু, এভাবেই চলছে।

৫. কোন সম্বোধনটা বেশি পছন্দ করেন? লেখিকা না শিক্ষিকা?

: ছোটবেলা থেকেই নিজেকে লেখিকা ভাবতে পছন্দ করতাম। স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে অনেক বড় একজন লেখিকা হবো। ২০১৪ সাল থেকে যখন নামের আগে ‘লেখিকা’ সম্বোধনটি যোগ হলো, মনে হল স্বপ্ন অনেকটা পুরণ হয়ে গেছে। শিক্ষকতার শুরু ২০১৬ সাল থেকে। এই জায়গাটা আমাকে অনেক বেশিই সম্মান এনে দিয়েছে। শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক সবার প্রচণ্ড ভালোবাসা আর সম্মান অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য। আগে শুধু লেখিকা সম্বোধনটা ভালবাসলেও এখন এই দুই সম্বোধনই আমার প্রিয় এবং সমানভাবেই প্রিয়।

৬. আমরা জানি যে আপনি বিভিন্ন চ্যারিটেবল সংগঠনের সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন। এই নিয়ে কিছু বলুন।

: সাংগঠনিক কাজের শুরু যখন আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রথম আলো বন্ধুসভা, হিমু পরিবহণ, লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, কোডেক, চিলড্রেন’স হ্যাভেন এই জায়গাগুলোতে কাজের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময়ের। বর্তমানে লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ও চিলড্রেন’স হ্যাভেনের সাথে কাজ করছি পুরোপুরি। মানুষের জন্য কিছু করার মাঝে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি আছে, সে প্রশান্তি পেতেই মূলত কাজগুলো করে যাওয়া। শুধু সরাসরি কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে না, যখন যেখানেই সুযোগ পেয়েই আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি কাজ করতে।

৭. আপনি একাধারে লেখিকা, শিক্ষিকা, স্বেচ্ছাসেবক। এতো কিছু করার পর তো অবসর খুব কম পান। তাও যতটুকু পান তার মধ্যে কি করতে ভাল লাগে?

: গত দু বছর ধরে অবসর বলে কিছু খুঁজে পাচ্ছি না জীবনে। নানা কাজের সাথে জড়িয়ে ঘুমানো ছাড়া ব্যস্তই থাকতে হয়। তবুও কাজের ফাঁকে বই পড়তে ভালোবাসি। ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ বের করি। ডে অফ পেলেই চলে যাই বিভিন্ন জায়গায়। ভ্রমণ কাহিনী লেখছি বলে এটাকেও কাজের মধ্যে ফেলতে হয় যদিও। এছাড়া ছবি আঁকতে ভালোলাগে।

৮. লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

: লেখালেখি আমাকে খুব ছোটবেলাতেই আলাদা একটা পরিচয় দিয়েছে। লেখালেখি করতে ভালোবাসি। এই ভালোবাসা থেকেই আরো অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি। সেই ভালোবাসা যাতে আজীবন পেয়ে যেতে পারি সেজন্য আরো অনেক বেশি লিখতে চাই। ভবিষ্যতে পুরোটা সময় লেখালেখি নিয়েই থাকতে চাই।

৯.আগামী বইমেলা নিয়ে ভাবনা কি?

: দিনের দীর্ঘ সময় ছোটদের মধ্যে কাটাতে হয়। অনেক গল্প জমে গেছে ওদের নিয়ে। সেসবই লিখছি এখন। ছোটদের জন্য বিশেষ কিছু লেখা হয়নি আমার। ওদের নিয়ে, ওদের জন্য লেখার আগ্রহটা বেড়ে গেছে। আগামী বইমেলায় হয়তো শিশুতোষ কিছু নিয়েই হাজির হবো।

১০. আজ থেকে ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

: জীবন নিয়ে গুছিয়ে কিছু ভাবার সুযোগ হয়নি আমার। ভাবনা চিন্তা ছাড়াই অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে গেছি। অনেক কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে, হচ্ছে। ‘নিজেকে কোথায় দেখতে চাই’ আলাদা করে ভাবা হয়নি এ বিষয়ে। স্বেচ্ছাসেবা, শিক্ষকতা কিংবা লেখালেখি প্রত্যেকটা জায়গাই আমাকে অনেক ভালোবাসা আর সম্মান এনে দিয়েছে। কাজ করতে ভালবাসি। নিজের কাজের গতিটাকে ধরে রাখতে চাই। সবার ভালোবাসাকে ধরে রাখতে চাই। শুধু ৫ কিংবা ১০বছর না, যতদিনই বাঁচি এই জায়গাটাকে ধরে রাখাই লক্ষ্য হবে, আলাদা আর কিছু নেই চাওয়ার।

১১.অনেকে তো স্বপ্ন দেখাকে অনেকভাবে সজ্ঞায়িত করেন। যদি জিজ্ঞেস করি আপনার কাছে স্বপ্ন মানে কি? কি স্বপ্ন দেখেন নিজেকে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে?

: আমার কাছে স্বপ্ন মানেই জীবন। যত গোছানো এবং সুন্দর স্বপ্ন দেখা যাবে জীবন ততই গোছালো ও সুন্দর হবে। স্বপ্নটাকে জীবনের গতি মনে হয়। ক্লান্তি বা মন খারাপে যখন থেমে যেতে চেয়েছি তখন স্বপ্নটা আমাকে চালিয়েছে, বাঁচিয়েছে, সুন্দর একটা জীবন দিয়েছে। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন ভালো একজন মানুষ হওয়ার। দেশকে ঘিরে তো স্বপ্নের শেষ নেই। বলে শেষ করা যাবে না, তাই বাকিটা নাহয় কাজেই দেখাবো।

Comments
Spread the love