ইনসাইড বাংলাদেশ

মুসলিম লীগ থেকে হেফাজতে ইসলাম, ধর্মের নামে রাজনীতির নতুন ধারা!

হেফাজতের উত্থানটা মুসলিম লীগের মতই, ১৯৩০ সালের আগে ভারতবর্ষে মুসলিম লীগ বলতে শুধু কাগজে কলমের রাজনৈতিক দল ছিল, কোন প্রাদেশিক বা জেলাভিত্তিক শাখা উপশাখা ছিল না। লাহোরে ২৩ মার্চ ১৯৪০ সালের সমাবেশে মুসলিম জাতিস্বত্বার জন্যে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি পরিষ্কারভাবে উত্থাপিত করে মুসলিম লীগ, তাদের জনপ্রিয়তাও আকাশচুম্বি হতে থাকে।

১৯৪৪ সালে এসে মুসলিম লীগে পাঁচ লাখ নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা হয়ে গেলে সবাইকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। ১৯৪৬ সাল নাগাদ তা আবার দশলাখ অতিক্রম করে। ১৯৪৬ সালের ভোটে মুসলিম লীগ প্রমাণ করলো যে মুসলিম লীগই ভারতীয় মুসলমানদের মুখপাত্র রাজনৈতিক দল। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে তাদের সমর্থন ছিল সবচেয়ে বেশি। ঐ নির্বাচনে তারা মুসলমানদের জন্যে পৃথকভাবে সংরক্ষিত ১২১টি সিটের মধ্যে ১১৩টি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

মুসলিম লীগের পতন হয়েছিল ঠিক মুদ্রার অপর পৃষ্টার মত, ৪৮ থেকে শুরু করে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে তীব্র বিরোধিতা, বাঙালি বৈষম্যতা, দুর্ভিক্ষে নীরবতা আর ধর্মীয় শাসনের ভয় দেখানো কোন কিছুই তো বাদ রাখেনি তারা। ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তার পরিনামও ভয়াবহ হয়, ২৩৭ টি আসনের মাঝে পায় মাত্র ৯টি। আর মুসলিম লীগের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল, যুক্তফ্রন্টের বড় জয়ী দলটি ছিল আওয়ামি মুসলিম লীগ, এখনকার আওয়ামি লীগ। এক সময়ের মুসলিম লীগের এই ভয়াবহ পতন থেকেও সরকার এখনো শিক্ষা নেয়নি। হেফাজতের দাবী, কর্মীবাহিনী আর ভোট ব্যাঙ্কের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে। 

হেফাজতের এক ডাকে এখনই ১০ লাখ মানুষ জড়ো হয় বঙ্গদেশে। তাদের কথা রাখতে গিয়ে ইতিমধ্যে পাঠ্যবই থেকে লেখা সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কওমিকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী, মূর্তি সরানোর নাটকও হয়েছে। ধর্মের প্রতি মানুষের একটা সফট কর্নারকে পুজি করা হেফাজত এখন অন্যতম বড় একটি বিরোধী দল হতে যাচ্ছে। অলরেডি তার প্র্যাক্টিস শুরু হয়ে গিয়েছে। হেফাজত এখন বাজেট নিয়েও কথা বলতে শুরু করেছে! ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে তারা।

একদিন হেফাজত জোট করবে, ক্ষমতায় আসবে, নতুন করে মুসলিম লীগের শাসন দেখবে আবার বাংলার জনগন। তাদের পতনও ঠিক শক্তিশালী মুসলিম লীগের পতনের মতোই হবে একদিন। তবে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে হাজার বছর।

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close