খেলা ও ধুলা

অল্পের জন্যে প্রাণে বাঁচলেন হেইডেন!

ব্যাটসম্যান হিসেবে ম্যাথু হেইডেন ছিলেন নিজের সময়ে বিশ্বসেরাদের একজন। বোলারদের কাছে হেইডেন নামটাই ছিল আতঙ্কের। ২০০৭ বিশ্বকাপে তো তার ব্যাটের ভয়াল তাণ্ডব দেখেছে সবগুলো দলই। ক্রিকেট ছেড়েছেন অনেকদিন আগে, তবে খেলোয়াড় তো, খেলা ছাড়া কি থাকা যায়? আর তাই ব্যাট-প্যাড গুছিয়ে রাখার পরে সার্ফিং বোর্ড নিয়ে পড়েছেন হেইডেন। বাইশ গজের বদলে নেমেছেন সাগরে। সেখানে তার সঙ্গী হয়েছে ছেলে জশ। তবে এই সার্ফিং করতে গিয়েই দু’দিন আগে আরেকটু হলে মরণ ডেকে এনেছিলেন হেইডেন। ভাগ্য খুব ভালো হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। কিন্ত যেটুকু হয়েছে তার সঙ্গে, সেটাই বা কম কি! 

সার্ফিং করছেন ম্যাথু হেইডেন

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের অন্তর্গত একটা দ্বীপ স্ট্যাডব্রোকে ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে গিয়েছেন হেইডেন। ভ্যাপসা গরমের এই দুপুরে অবসর সময়টায় মেতে উঠেছিলেন সার্ফিঙে। ছেলের সাথে চ্যালেঞ্জ ধরেই সার্ফিং করছিলেন। এমন সময় হুট করেই ঘটলো বিপদটা। হেইডেনের ভাষায়-

“আমরা সাগরে নামার ঘন্টাখানেক পরের ঘটনা এটি। এর মধ্যেই ছয়টি ঢেউ সামলেছি, কোন সমস্যা হয়নি। হঠাৎ ডান দিক থেকে একটা ঢেউ এল, সেটা দেখে আমি মাথা নিচু করেছিলাম। এটুকুই শুধু আমার মনে আছে। না, আমি জ্ঞান হারাইনি। ঢেউয়ের জোর ছিল প্রচণ্ড, আমাকে একদম তুলোর বস্তার মতো এনে সৈকতের বালির ওপরে আছড়ে ফেললো। মাথার ওপর পুরো শরীরের ওজনটা পড়েছিল। তারপর আমার নিজের ওজন আর ঢেউর ওজনের ভারে মাথা ঘুরে গেল। ঘাড়ে প্রচণ্ড এক শব্দ হলো। তারপরও অজ্ঞান হইনি আমি। ওই অবস্থাতেই পুরো শরীরটা বেকায়দায় ঘুরে গেল।”

ম্যাথু হেইডেনের ছেলে

আহত হবার পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজের একটা ছবি তুলে ইনস্ট্যাগ্রামে আপলোড করেছিলেন হেইডেন। সেখানে ঘটনার বর্ণনা না দিয়ে শুধু লিখেছিলেন, ছেলের কাছে সার্ফিঙে হেরেছেন তিনি। ছবিতে তার রক্তাক্ত চেহারাটা দেখে অনুমান করা যায়নি কি হয়েছে আসলে। অনেকে ভেবেছেন, হেইডেন বুঝি কোন প্র‍্যাঙ্ক করছেন! তবে দুইদিন আগে নিজের আরেকটা ছবি আপলোড করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় ছবিটায় হেইডেনকে ঘাড়ে ব্রেস(কৃত্রিম বন্ধনী) পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশনে অনেকটা কৌতুক করেই হেইডেন লিখেছেন-

“শপথ করে বলছি, সবার দৃষ্টি আকর্ষণের সর্বশেষ চেষ্টা এটি। স্ট্র্যাডব্রোক দ্বীপে থাকা আমার সব বন্ধুদের এমন অসামান্য সাহায্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দিতে চাই। বিশেষ করে বেন ও সু কেলিকে; দ্রুত এমআরআই, সিটি স্ক্যান করে দেওয়ার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। সি-সিক্স এ (ঘাড়ের কাছে মেরুদণ্ডের হাড়) চিড় ধরেছে। সি-ফোর, ফাইভ লিগামেন্ট ছিঁড়েছে। কানের পাশ দিয়ে বুলেট গেছে মনে হচ্ছে। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ। আরোগ্যের পথে আছি আপাতত…”

ক্রিকেটে হেইডেন ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্যে ত্রাস। তবে সার্ফিং আর ক্রিকেট তো এক নয়। এখানে প্রতিপক্ষ যে প্রকৃতিও। তাই সাগরের বুকে বাইশ গজের মতো করে রাজত্ব করতে পারছেন না হেইডেন। তবে ব্যাটিঙের মতো করে সার্ফিংটাও নিশ্চয়ই দ্রুতই আয়ত্ব করে নেবেন তিনি। এই দুর্ঘটনার পরে তো হেইডেন সাগরকে জয় করার মিশন নিয়ে নামবেন মনে হচ্ছে! 

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close