সাম্প্রতিক সময়ের বিখ্যাত বই ‘সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ হিউম্যান-কাইন্ড’ এর লেখক ইউভাল নোয়া হারারি একজন ইতিহাসবিদ ও লেখক। সেপিয়েন্স বইতে তিনি মানবজাতির ইতিহাস রচনা করেছেন সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন এক ধরনে সহজপাঠ্য করে। ফলে তা প্রকাশের সাথে সাথে জনপ্রিয় হয়ে গেছে। একটা নন ফিকশান বই এবং ইতিহাসের মতো সর্বসাধারণের কাছে কিছুটা বিরক্তিকর বিষয় হলেও তার গল্প বলার ভঙ্গিতে তা যেন প্রাণ পেয়েছে। মনে হয় বইটা যেন একটা ফিকশান বই, সময় যেন এর নায়ক। সময় কিভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে- কিভাবে তার চরিত্র নির্মাণ করছে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড ইরর’ পদ্ধতির মধ্যদিয়ে তাই এই বইয়ের গল্প। এই বইয়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতা অধিক বা সমান সমান না হলেও প্রায় ধরে রেখেছে তার পরের বই ”হোমো ডিউস ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টুমরো” বইতে। দ্যা গার্ডিয়ান থেকে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ঠিক কি পরিমাণ সে জানে। এর উত্তরে তিনি সেন্সরশিপ, মানুষের মন বুঝতে সক্ষম এরকম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কথা বলেছেন এবং ইউজলেস ক্লাস নামের একধরনের নতুন ক্লাসের উৎপত্তি হবে সেই সম্বন্ধে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন।

আমি একজন ইতিহাসবিদ। আমি অতীত খুবই পছন্দ করি। কিন্তু অধিকাংশ লোকজনই আপনি তাদেরকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যতটুকু বলতে পারেন তা শুনতে অনেক বেশি আগ্রহী।

কৃষি এবং শিল্প বিপ্লব আমাদের বাইরের দিকটা পরিবর্তন করেছে। এই শতাব্দী আমাদের অভ্যন্তরীণ বা ভেতরের দিকটা পরিবর্তন করবে। নতুন ধরনের ব্রেন দিয়ে নতুন এন্টিটি তৈরি করবে। আমরা খুব শীঘ্রই এমন সব ক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছি যেগুলোকে সবসময় স্বর্গীয় বা অলৌকিক মনে করা হতো।

আমি ইজরাইলের হাইফা নামের একটা মফস্বলে বড় হয়েছি। যত দূর আমার মনে পড়ে, আমি বড় প্রশ্নগুলো নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। আমরা কে ? আমরা এখানে কি করছি? কিন্তু দর্শন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ ছিল না কোন।

বর্তমানে সেন্সরশিপ আপনার থেকে বিষয়বস্তু শুধু লুকিয়েই রাখেনা, কিছু অযথা ফ্যাক্টও চাপিয়ে দেয় ফলে আমরা জানি না কোনটা গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার ধারনা লোকে বৃহৎ এবং সংগতিপূর্ণ প্রাঞ্জল ন্যারেটিভ পছন্দ করে।

আমি নিরামিষাশী- মাছ মাংস খাবার থেকে সরিয়ে রাখি। কিন্তু এর পিছনে কোন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ নাই। সেপিয়েন্স লেখার সময়ই আমি মাংস-জাত ও দুগ্ধজাত কারখানায় পশুদের সাথে যে আচরণ করা হয় তার সাথে পরিচিত হয়েছি। আমি এতটাই ভিত হয়েছিলাম যে আমি আর কখনো কোনদিন এর অংশ হতে চাইনি।

আমি যখন অক্সফোর্ডে পড়ছিলাম, আমি কিছুতেই জীবনের এক ফোটাও মানে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একজন ভালো বন্ধু বলল, ”বিপাসানা মেডিটেশান কেন করছো না”। আমাদের মাথার মধ্যে ভিড় করে থাকা সকল ফ্যান্টাসি দূর করার জন্য এই মেডিটেশান করা হয়। এটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে।

রাশি রাশি বায়োমেট্রিক ডাটা ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলে দিবে আমরা কেমন আছি বা কি অনুভব করি। আমি রাগ নাকি স্যাড না ভিত তাও বলে দিতে সক্ষম এরা। আমার স্বামী বা মায়ের থেকেই বেশি না শুধু এমনকি আমার নিজের থেকেও ভালোভাবে। ২০০২ সালে আমি যখন অক্সফোর্ড থেকে ইজরাইলে ফিরলাম তখন আমার স্বামী ইতযিকের সাথে আমার প্রথম দেখা হয়। সে ছিল আমার ইন্টারনেট-অফ-অল-থিংস।

খুবই হাস্যকর কিন্তু আমরা হিউম্যানরা খুব সম্ভবত যে চ্যালেঞ্জটা ফেস করতে যাচ্ছি তা হলো নিউক্লিয়ার অস্ত্র। এসব অস্ত্র আমাদের ধ্বংস করে দিতে পারে। কিন্তু এ পর্যন্ত সম্ভবত মানুষের ইতিহাসের সবথেকে শান্তিপূর্ণ সময়টা নির্মাণে এগুলোই সবথেকে বেশি অবদান রেখেছে।

মানুষ যেভাবে বই পড়ে তার থেকে আরও সতর্কভাবে বই মানুষকে পড়তে শুরু করেছে। আপনার কিনডেল প্রতি মুহূর্তে অ্যানালাইজ করছে আপনি কিভাবে পড়ছেন। যখন ফেস-রিকগনিশন অ্যালগোরিদম এটার সাথে সংযোগ থাকে তখন এটা বইয়ের প্রতিটা বাক্য পড়ার সময় আপনার ইমোশনাল ইমপ্যাক্ট জেনে যাবে। কল্পনা করে দেখেন, আপনি যদি এই ধরণের তথ্য জানেন তাহলে কী রকমের গল্প আপনি বানাতে পারবেন।

ঠিক যেভাবে উনিশ শতাব্দী শ্রমিকশ্রেনী বা ওয়ার্কিং ক্লাস তৈরী করেছে, সেভাবেই আগামী শতাব্দি তৈরী করবে ইউজলেস ক্লাস বা মূল্যহীন একটা শ্রেণী। কোটি কোটি লোকজনের কোন মিলিটারি অথবা ইকোনোমিক কাঠামো থাকবে না। তবে খাদ্য যোগান দেওয়া বা আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে কিন্তু লোকজনের জীবনের মানে কিভাবে দেয়া যাবে, আগামীতে সেটাই হবে সবথেকে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।

Comments
Spread the love