১৯২১ সালের পহেলা জানুয়ারি নোয়াখালি জেলার চাটখিল উপজেলার বালিয়াধারা গ্রামে জন্মেছিলেন হবিবুর রহমান । তিনি এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেখানে সন্তানদের সর্বোচ্চ পড়ালেখা বলতে মৌলভীর মক্তবে আরবি শেখা পর্যন্তই । বাবা কলিম উদ্দীন ভূঁইয়া ও মা সিদ্দীকা খাতুনের ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে হবিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয় সন্তান। হবিবুর রহমানের বড় ভাইয়ের জ্ঞানতৃষ্ণা ছিল প্রখর। তিনি আরবি শিখেই সন্তুষ্ট থাকেন নি বরং বংশে প্রথম ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাস করেন। পড়াশুনোয় ভাল করবার পাশাপাশি তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা ই রুখে দাঁড়াতেন। বাবার জমিজমা গ্রামের প্রভাবশালী লোকজনজোর করে দখল করতে গেলে তাদেরকে বাধা দিতে গিয়ে সেই লোকদের হাতেই প্রাণ দিতে হয় তাঁকে। গরীব ও সাদাসিধে পিতা ছেলের খুনিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা ই নিতে পারেন নি। বড় ভাইয়ের মৃত্যু আর অন্যায়ের ও ক্ষমতাসীনের এই অন্যায় ও অনিষ্টের অমিতাচারের শিকার হওয়া পরিবারের অবস্থা দেখে হবিবুর রহমান ছোট বেলা থেকেই দৃঢ় স্বভাবের হুয়ে ওঠেন। বড় ভাইয়ের মত তিনি নিজেও পড়ালেখা শুরু করেন। তার ছাত্রজীবন অধ্যবসায় ও মেধার এক নক্ষত্রোজ্জ্বল কীর্তি স্থাপন করে । প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকতে তিনি প্রায় দু মাইল হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতেন। তিনি প্রায় প্রতি শ্রেণীতেই বৃত্তি লাভ করেন ও তীক্ষ্ম মেধার পরিচয় দেন। তার অন্যান্য ভাইবোনেরা পড়াশুনোয় এত অগ্রসর না হতে পারলেও কেবল মাত্র বৃত্তি লাভ ও ছাত্র পড়িয়েই তিনি তার স্কুল জীবনের গণ্ডি পার হন। 

এরপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে কলেজ জীবন শেষ করে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে বি  এস সি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ভর্তি হন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে । সেখান থেকে রেকর্ড নম্বর সহ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে তিনি এম এস সি ডিগ্রি লাভ করেন। সেই সময়ে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের প্রধান ছিলেন আঁদ্রে ওয়াইল। সেই সময় আঁদ্রে ওয়াইল ছিলেন বিশ্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের মধ্যে অন্যতম। আঁদ্রে ওয়াইলের শিক্ষকতা হবিবুর রহমানকে প্রবল ভাবে আলোড়িত করে। তার অনুপ্রেরণা হবিবুর রহমানকে সত্যিকারের একজন গণিত অনুসন্ধিৎসু হিসেবে আত্মপ্রকাশের পটভূমি রচনা করে দেয়।

স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় তাঁর ফলাফলে চমৎকৃত হয়ে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ও প্রখ্যাত গণিতবিশারদ স্যার জিয়াউদ্দীন বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হকের নিকট হবিবুর রহমানকে স্টেট স্কলারশিপ ও চাকরি দেওয়ার জন্য বিশেষ সুপারিশ করে পত্র দেন। এর পরেই  হবিবুর রহমান কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তারপর তিনি বদলি হন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে, আরও পরে বদলি হন ঢাকা কলেজে। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সেখানেই শিক্ষকতা করেন তিনি।

১৯৫৪ সালে তিনি কেমব্রিজ থেকে গণিত শাস্ত্রে ট্রাইপস ডিগ্রি লাভ করেন । এরপরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই খানেই তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।

শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন যেমন স্নেহময় তেমনই একজন দায়িত্বপ্রবণ ও সৎ ব্যক্তিত্ব। সহজ জনপ্রিয়তা ( যা আজকালকার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায় ) এর পথে তিনি চলতেন না। ক্লাসের বাইরে বা বাসায় গেলে তিনি খুব মিষ্টি ব্যবহার করতেন। কিন্তু অংকের ব্যাপারে তার কোন কম্প্রোমাইজ ছিল না । নিজে খাটতেন প্রচুর , প্রচুর পড়াশুনা করতেন আর নিজের মত করে ক্লাস নোট বানাতেন। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন হবিবুর রহমান বিয়ে করেন এক ঐ এলাকার ই এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে হাজী মো. ইসমাইল চৌধুরী ও মোসাম্মাত্‍ রকিবুন নেসার কন্যা ওয়াহিদা রহমানকে। পরবর্তী জীবনে ওয়াহিদা রহমান হবিবুর রহমানের যোগ্য সহধর্মিণী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গবেষক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য মানের। কেম্ব্রিজে থাকাকালীন সময়ে তার সমসাময়িক অনেকেই আজকে বিশ্ববিখ্যাত গবেষক – বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে।  জীবদ্দশায় তিনি বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন । কিন্তু কেবল মাত্র দু একটা সাধারণ সমস্যার সমাধান করা আর চাকরি ও সমাজ জীবনে উচু স্থান লাভ ই তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। এইজন্য তিনি বেশ কিছু বিখ্যাত গণিতের সমস্যা নিয়ে গবেষণা করা শুরু করেন। সংখ্যাতত্ত্বের একটি বিখ্যাত সমস্যা ছিল “ ফার্মাট’স লাস্ট থিওরেম” এই সমস্যাটির দুটি স্বতন্ত্র সমাধান দিয়েছিলেন তিনি যদিও পুরোপুরি সফল হন নি। “গোল্ডবাখ’স কনজেকচার” নামে এরকম আরেকটি সমাধান দেওয়ার জন্যে তিনি প্রচুর সময় ও শক্তি ব্যয় করেছিলেন। কোন তত্ত্ব নিয়ে তিনি ভাসা ভাসা জ্ঞান পছন্দ করতেন না। সব কিছু জেনে মৌলিক কাজ করাটাই ছিল তার মূল লক্ষ্য এর জন্যে প্রচুর অধ্যবসায় আর শ্রম দিতে তিনি কখনোই কার্পণ্য বোধ করেন নি। শুধু তাই নয় , জাতীয় উন্নতির জন্য মাতৃভাষায় গণিত তথা বিজ্ঞানের উচ্চতর বিষয়সমূহের চর্চার প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন এবং মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষাদানে একজন উদ্যমী মানুষ ছিলেন। বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর গ্রন্থগুলো হলো স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর জন্য উচ্চাঙ্গের গণিতগ্রন্থ ‘যোগাশ্রয়ী বীজগণিত’, স্নাতক শ্রেণীর জন্য ‘কলেজ বীজগণিত’, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘নতুন বীজগণিত’ এবং ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর জন্য ‘পাটীগণিত’। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর জন্য রচিত বই দুটি সেসময় অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধ ও নিবন্ধের মধ্যে রয়েছে ‘On Pell’s Equation’, ‘On Fermat’s Last Theorem’, ‘On Crisis of Civilization’ (1950), ‘On Fundamental Human Rights’ (1969), ‘নতুন শিক্ষানীতি’ (১৯৬৯) এবং ‘ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক’ (১৯৭০)। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন প্রায় এক বছর। সেখানে তিনি পার্টিকেল ফিজিক্সের উপরে গবেষণা করেছিলেন। পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে অসম্ভব তুখোড় এই মানুষটার কাছ থেকে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্ব যে অসাধারণ ও অনন্য জ্ঞানের প্রত্যাশা প্রাপ্তির আশা করেছিল তা অকালেই বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল, একাত্তরে।

হ্যাঁ,  এতক্ষণ বলছিলাম একজন অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভা সম্পন্ন গবেষক ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি প্রবল স্নেহবান শিক্ষকের কথা। এখন বলব অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ না করা একজন মহীরূহের কথা।

১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত হবিবুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে ডক্টর শামসুজ্জোহা মিলিটারির গুলিতে ও বেয়নেটের আঘাতে নিহত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে যে সভা ডাকা হয় সেখানে হবিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি ১৯৭০ সালে গণিত বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ যে ঘৃণ্য ও নৃশংস হত্যা চালানো হয় ঢাকা শহরে তার প্রতিবাদে হবিবুর রহমান নিজের বাসায় (প-১৯/বি) কালো পতাকা উত্তোলন করেন। তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবাসিক ভবনের অধিকাংশ ই খালি। অনেক শিক্ষক ই সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যত্র। কিন্তু হবিবুর রহমান কোথাও যাননি। বাসায় কালো পতাকা দেখে পাকিস্তানী সৈন্য এসে হবিবুর রহমানকে পতাকা নামাতে নির্দেশ দেয়। হবিবুর রহমান তাদের নির্দেশ অমান্য করে পতাকা উত্তোলিত রাখেন। তারপরে পাকিস্তানি সৈন্য অন্যান্য শিক্ষকদের খালি বাসা লুটতরাজ করতে গেলে তিনি তাদের সামনেই এই ঘৃণ্য আচরণের প্রতিবাদ করেন। একটা ক্ষোভ নিয়েই তখন পাকসেনারা ত্যাগ করেছিল ওই স্থান।

পরে ১২ এপ্রিল যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরেকটা দল ক্যাম্পাস ত্যাগ করছিল তখন তাঁরাও হবিবুর রহমান কে তাদের সাথে অনুরোধ করলে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে উত্তর দেন-

“Like the captain of a ship I shall be the last to leave”

২৫ শে মার্চের পর একটা বিরাট ই পি আর এর দল প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল । এই পুরো দলটির খাবার সহ অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আসত হবিবুর রহমানের বাসা থেকেই। হবিবুর রহমান নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। স্ত্রী নিজের হাতে শত শত রুটি বানাতেন মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করার জন্যে। হবিবুর রহমান সক্রিয় ও অকুণ্ঠভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন করেছেন কিন্তু মেরুদণ্ডহীনের মতো কখনো কোয়ার্টার ছেড়ে যাননি কোথাও। তার পাশের বাসায় থাকা পাকিস্তানিদের সহায়তা করা অবাঙালি সহকর্মীর পরিবার ইপিআরদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এক সময় তার কাছে আশ্রয় চাইলে তিনি সরল মনেই তাদেরকে আশ্রয় দেন। হবিবুর রহমান ভেবেছিলেন প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার হবে। কিন্তু এপ্রিলের ১৩- ১৪ তারিখের দিকে পাকিস্তানিরা আরেক দফায় ক্যাম্পাসে আসে, আর এই পরিবারটি তখন তাদের সাথে বের হয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় পাকবাহিনী আসলে তাদের কাছে সেনা সদস্যদের অসদাচারণের কথা উনি তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ দায়েরের কথা বলে আর বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে পূর্বের ক্ষোভ চরিতার্থ করতে পাকবাহিনী হবিবুর রহমানকে তুলে নিয়ে যায়। তার অন্য কোন সহকর্মী এতে কোন বাধা দেন নি কিংবা তাঁকে উদ্ধারের কোন চেষ্টা করেন নি। এটা অবিশ্যি স্বাভাবিক – সবার মেরুদণ্ড বলে জিনিসটা তো আর থাকে না। জুবেরি ক্যাম্পে তাঁকে আটকে রেখে পাকিস্তানি সৈন্য তখন তাঁকে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সুনাম ও সুষ্ঠু কার্যকলাপ বর্ণনা করে একটি চিঠি লিখতে বলে আর কখনো মাথা না নোয়ানো মানুষটা এই ঘৃণ্য কাজে অস্বীকৃতি জানান । সম্ভবত সেদিনই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে বুনো সারমেয় সন্তানের দল। কারণ তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পড়ে থাকে তাঁর পরিবার, তাঁর সন্তানেরা – ছেলেমেয়েদের মধ্যে দুই মেয়ে ঊষা ও ঊর্মি তখন কেবল স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।  

নিজের নিষ্ঠা আর মানুষের কথা ভেবে যে মানুষটা চরম বিপদের সময় সুযোগ পেয়েও অন্যান্য অনেকের সাথে নিরাপদ স্থানে চলে যাননি, অনেক অবাঙালি অধ্যাপকের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন যিনি নিজের কর্তব্যবোধ থেকে, বর্বর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর হাতে তাঁকেই দিয়ে দিতে হলো নিজের প্রাণটি। এভাবেই শহীদ হলেন একজন অসাধারণ গবেষক, গণিতবিদ, বিজ্ঞানী হবিবুর রহমান আর সকল বুদ্ধিজীবীদের মত যিনি বেঁচে থাকলে আজকে এই বাংলাদেশ কি অসাধারণভাবে অগ্রসর হত তথা এই বিশ্ব কি অমূল্য অর্জন জ্ঞান অর্জন করত সেই আফসোস আমাদের সকলের ই থেকে যাবে চিরদিনই।

এর বেশ কিছু দিন পরের কথা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ডাকঘরের পিয়ন দেখলেন দুটি বাচ্চা মেয়ে কাগজে প্রত্যেকদিন কি যেন লিখে ফেলে যায় ডাকবাক্সে। কৌতুহলী হয়ে তিনি কাগজগুলি দেখলেন। সেখানে কাঁচা হাতে কি প্রবল মমতা আর হাহাকার নিয়ে বাচ্চা মেয়ে দুটি তাঁদের বাবাকে লিখে যাচ্ছে –

“ বাবা ,কোথায় তুমি ?

তুমি ফিরে এসো । “

এরকম হাজার হাজার দুঃখিনী সন্তানের দুঃখিনী বর্ণমালায় ছেয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশ। তাই মাতৃভূমিতে শায়িত সকল মুক্তিকামী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে যাওয়াটাই হোক আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

পরিশিষ্ট ১ঃ

দেশ স্বাধীনের পর মিসেস হবিবুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগকে উপহার দিয়েছিলেন হবিবুর রহমানের সংগ্রহে থাকা অনেক বিশ্ববিখ্যাত লেখকের লেখা বইয়ে পূর্ণ একটি আলমারি। দুঃখজনক এই যে , গণিত বিভাগের প্রায় কেউই সেসব বই পড়ার চেষ্টা করেন না ।

পরিশিষ্ট ২ঃ

শহীদ হবিবুর রহমানের প্রতি সম্মান রেখে যে হল তৈরি হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় – হবিবুর রহমান স্যারের ইতিহাস তারা কেউ ই জানেন না। শুধু শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে চেনেন। তার উপর লেখা স্মারক বইটিও পড়েননি তারা। এছাড়া আবাসিক হলেও হয়না হবিবুর রহমানকে নিয়ে কোন আলোচনা সভা কিংবা স্মারক বক্তৃতা। এই হলে হবিবুর রহমানের ইতিহাস নিয়ে শুধুমাত্র একটি বই রয়েছে। তবে সেটাও পড়েননি হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। হলের সামনে হবিবুর রহমানের আবক্ষ মূর্তিসহ ‘বিদ্যার্ঘ’ নামে একটি ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি কার স্মরণে বানানো হয়েছে জানলেও আবাসিক শিক্ষার্থীরা এই ভাস্কর্যের মর্মার্থ জানেন না। বিগত পাঁচ বছরে গণিত বিভাগে কোনদিনও হবিবুর রহমান স্মরণে কোন আলোচনা সভা, অনুষ্ঠান কিংবা দোয়া মাহফিল হয়নি।

রেফারেন্সঃ

১.শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারকগ্রন্থ; বাংলা একাডেমী; ১৯৯৪

২. গানের কথা গণিতের কথা -সুব্রত মজুমদার

৩. শহীদ হবিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী; শহীদ হবিবুর রহমান হল; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; ২০০৭

৪. www.gunijan.org.bd

৫. http://www.padmatimes24.com

লেখক- অতনু চক্রবর্ত্তী
শিক্ষার্থী,অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ কোরিয়া।

Comments
Spread the love