তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

সোজা হয়ে দাঁড়াও, সোজা হয়ে বসো!

আপনার বাবা-মা কেউ কি কখনো বলেছে, “সোজা হয়ে দাঁড়াও” অথবা “সোজা হয়ে বসো”? এগুলো শুনতে বিরক্ত লাগতে পারে, কিন্তু তাঁরা একেবারেই ভুল বলেননি। আপনার অঙ্গবিন্যাস বা আপনার পশচার (posture), অর্থাৎ আপনি দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার সময় আপনার শরীরকে কিভাবে রাখেন তা আপনার নড়াচড়ার জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন অবস্থায় আপনার শরীর কতটুকু চাপ সহ্য করতে পারে, যেমন- ভারি বস্তু বহন করা, বাসের ছোট সীটে কুঁজো হয়ে বসে থাকা, মেঝে থেকে কোনকিছু ওঠানো ইত্যাদি।

আপনার পশচার যদি ঠিক না থাকে, তাহলে আপনার দেহ সোজা রাখতে কিছু পেশীকে বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে কিছু পেশী শক্ত এবং টান-টান হয়ে যায়, আর কিছু পেশী নরম এবং দুর্বল হয়ে যায়। দিনের পর দিন বিভিন্ন পেশীর উপর এই অত্যাচার চলতে থাকার ফলে আপনার শরীর ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে আপনার হাড়ের সংযোগ ও লিগামেন্ট মারাত্মক রকম ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া আপনার ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, অস্বাভাবিক পশচারের সাথে মাথা ব্যথা, টেনশন, ঘাড় ও পিঠ ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া অস্বাভাবিক পশচার আপনার মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, আপনার এনার্জি কমিয়ে দিতে পারে। সুতরাং আপনার পশচার ঠিক করার জন্য অসংখ্য কারণ রয়েছে। কিন্তু সেটা করাও বেশ কঠিন কাজ। বাসে কুঁজো হয়ে বসে থাকা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ব্যবহার করা এগুলো আমাদের পশচারের জন্য ক্ষতিকর।

সঠিক পশচার দেখতে আসলে কেমন? সঠিক পশচারে দাঁড়ানোর সময় আপনার কাঁধের সামনে-কোমরের পেছনে-হাটুর সামনে-গোড়ালির একটু সামনের দিক পর্যন্ত একটি সরলরেখায় থাকে। এর ফলে আপনার “সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি” একদম সঠিক জায়গায় থাকে, তাই আপনার শক্তি কম খরচ হয় আর আপনি সহজভাবে হাটাচলা করতে পারেন।

বসে থাকার সময় আপনার ঘার সোজা, কাঁধ শিথিল, কনুই চেয়ারের হাতলে, হাটু ফ্লোরের সাথে সমকোণে, পায়ের পাতা ফ্লোরের সাথে লাগানো থাকা উচিৎ। আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিনের উচ্চতা ঠিক করুন যেন নিচু হয়ে তাকিয়ে থাকতে না হয়। শোবার সময় মাথার নিচে নিচু বালিশ ব্যবহার করুন, একপাশে কাঁত হয়ে শোবেন, দুই পায়ের মাঝে একটি বালিশ রাখবেন। হিলওয়ালা জুতো ব্যবহার করবেন না, ফোনে কথা বলার সময় হেডফোন ব্যবহার করবেন।

শুধুমাত্র পশচার ঠিক করলেই হবে না। আপনার পেশীগুলোকে ঠিকভাবে নাড়াতে হবে। কোনকিছু বহন করার সময় শরীরের কাছে ধরতে হবে, পিঠের ব্যাগ পিঠের সাথে লেগে থাকতে হবে, সারাদিন বসে না থেকে হাটাচলা ও দৌড়াতে হবে, আর অবশ্যই নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

এই যে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভব করি তা এই কারনেই হয়ে থাকে। তাই একটু সচেতনতাই পারে বিভিন্ন ব্যথা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে! চলুন, তবে আর দেরি না করে অভ্যাস বদলে ব্যথাকে বলি বিদায়! 

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close