সিনেমা হলের গলি

একজন গৌরি আছেন বলেই…

“শাহরুখ যদি কোন সিনেমাতে বাজে অভিনয় করে, আমার তাকে আলাদা করে প্রশংসা করার দরকার নাই। ওর সেটা বুঝতে হবে। ওকে সেটা একসেপ্ট করতে হবে। আমি তাঁর স্ত্রী, তাকে অনুপ্রেরণা দিব- এটা যেমন সত্য; সেরকম একটা সত্য হচ্ছে আমি তাঁর সিনেমার একজন দর্শক। সো সিনেমা দেখার পরে আমি দর্শক হিসেবে মন্তব্য দিব। ও যদি বড় স্টার হয়, তাহলে ওকে সেটা মেনে নিতে হবে। বড় স্টারদের অনেক ছোট জিনিস মেনে নিতে হয়, সেটা যদি কাঁটার মতো খচখচ করে এরপরেও! জানি অনেকে একমত হবেন না তবে আমার দেখা শাহরুখের অন্যতম বাজে পারফরম্যান্স হচ্ছে ‘শক্তি’ সিনেমাতে ওর ছোট্ট রোলটা। এটা করতে গিয়ে কাঁধেও ব্যথা পেল, অপারেশন করাতে হলো আর মুন্নাভাইয়ের মতো স্ক্রিপ্টকেও না করতে হলো!

শাহরুখের অনেক বিষয় আমার অসহ্য লাগে তার মাঝে অন্যতম প্রধান হচ্ছে ওর অদ্ভুত সব মিটিং এর টাইম। রাত পৌনে তিনটায় নাকি নতুন কোন সিনেমার ভিএফএক্সের জন্য জরুরী মিটিং! মানে চিন্তা করা যায়? আর ওর মিটিং শুরু হলে আর শেষ হবে না। বেশ কয়েকবার এমনও হয়েছে- টানা ২৪ ঘণ্টা সে মিটিং করেছে। আমি জানি কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু আসলেই সে ২৪ ঘণ্টাই টানা মিটিং করেছে, সেখানেই খেয়েছে, দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে আবার সেখানেই মিটিং সিনেমার টিমের সাথে। আমি জানি না এত কথা ও কীভাবে বলে!

অসহ্য লাগে আমার ওর একের পর এক সিগারেট খাওয়া। ফুসফুসটা এখনও কীভাবে কাজ করছে, সেটা অষ্টম আশ্চর্যের মতো মনে হয়। খুবই বিরক্ত হই ও কম খেলে আর ঠিক সময়ে খাবার না খেলে। রাত আড়াইটা ডিনার খাওয়ার সময় হতে পারে না কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে।

ও আমাকে গিফট দেয়, আমি ওকে কোন গিফট দেই না। এটাই আমাদের অলিখিত নিয়ম। তিনটা বাচ্চা দিয়েছি আর অনেক স্পেস দিয়েছি, এর চেয়ে বড় গিফট আর কী দিব? আমার কোন কাজে সে নাক গলায় না, আমিও ওর কাজে নাক গলাই না। নিজের ডিজাইনার স্টোর করার জন্য শাহরুখ আমাকে কিছু দেয় নাই, শুধু নিজের সাইন করা টাকার চেক দিয়েছে আর বলেছে- বাকিটা নিজে সামলাও, আমি বিশ্বাস করি তুমি পারবে কারণ তোমার সেই ক্ষমতা আছে। তবে যেকোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে সে সুন্দর করে গুছিয়ে বলে, সেম ওর কোন সিনেমার ব্যাপারে কথা বলতে হলে আমিও বলি।

আমরা দুইজনেই খুবই ইজিগোয়িং। কোন ব্যাপারেই দুইজন দুইজনকে অতিরিক্ত প্রশ্ন করি না। সারাক্ষণ একসাথে “চিপকে” থাকা বা সারাক্ষণ নিজেদের ভালোবাসা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করা আমাদের ভাল্লাগে না। সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব থাকলে সেই সম্পর্ক ভাল থাকে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মিস করি তাকে যখন সে ৪০ দিনের জন্য আউটডোরে শুটিংয়ে থাকে। বেশি মিস করলে শুটিং সেটেই চলে যাই আব্রামকে নিয়ে।

যেটা বেশি ভাল্লাগে, এত বছরের বিবাহিত জীবনে ও চেঞ্জ হয় নাই। এখনও আগের মতো দুর্দান্ত সেন্স অফ হিউমার, এখনও পাগলের মতো পরিশ্রম করে, এখনও প্রচণ্ড বিনয়ী, অনেক লাজুক, এখনও মাঝেমাঝে ঘাড়ত্যাড়া আর নিজের তিন বাচ্চার জন্য তার জান কোরবান। মানুষ বলে- প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারীর অবদান থাকে, আর এরপরে শাহরুখের আজকের অবস্থানের পেছনে আমার নাম বলে। হয়ত আমার অবদান আছে, তবে সত্যি বলতে সবচেয়ে বেশি অবদান হচ্ছে ওর পরিশ্রমের। আজকে যে জায়গাটায় সে আছে, সেটার জন্য অবিশ্বাস্য রকমের খেটেছে সে। আমার দুটো চোখ সেই পরিশ্রমের সাক্ষী। সো শুধু আমার নাম বলাটা খুবই হাস্যকর লাগে।

আর বলতে হলে শুধু আমার নাম কেন? ও না কিং অফ রোমান্স? সফলতার পেছনের নারীর নাম বললে আমার নাম ছাড়াও কাজল, জুহি, রানী, ঐশ্বরিয়া, দীপিকা, আনুশকার নামও বলা উচিত। পারলে আলিয়ার নামও। করণ জোহর ডিরেকশন দিলে হয়ত আলিয়ার সাথে ডিয়ার জিন্দেগীতেও প্রেম করে ফেলত সে!”

জন্মদিনের শুভেচ্ছা, গৌরি খান।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close