সবার জীবনে প্রথম প্লেন, ট্রেন, স্পীডবোট জার্নি গুলো অনেক বেশী উদ্দীপনা এবং গুরুত্ব বহন করে। এগুলোর স্মৃতি আজীবন মনে থাকে। আমার প্রায় সবকিছুই চড়া হয়েছিলো। শুধু বাকী ছিল প্লেনে চড়া। উড়বো উড়বো করেও উড়া হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সাল শুরু হওয়ার আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম এই বছর আর কিছু করি আর না করি প্লেনে ঠিকই চড়বো। যেহেতু কক্সবাজারও আগে কখনো যাওয়া হয়নি। তাই আগের থেকেই প্ল্যান ছিল কক্সবাজার যদি যাই প্লেনে করেই যাবো। এতো লং জার্নি বাসে করা একটু কষ্টেরই বটে।

বলে রাখা ভালো প্লেনের টিকেট যত আগে করে রাখা যায় তত ভালো। এতে টিকেটের দাম একটু কম দামে পাওয়া যায়। তাই আমরা কক্সবাজার যাওয়ার একমাস আগে টিকেট বুক করে রাখলাম। এয়ারলাইন্সছিল ইউএস বাংলা। আসাযাওয়া বা রাউন্ডট্রিপে প্রতিজনের লেগেছিল ১১ হাজারের মতই। আমাদের ফ্লাইট ছিল সকালে। কিন্তু সেদিন অনেক বেশী ফগ থাকার কারনে আমাদের ফ্লাইট ডিলে হয় প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। একে তো প্রথম প্লেন জার্নি, প্রথম কক্সবাজার জার্নি তার উপর আবার ডিলে ফ্লাইট। সবকিছু মিলে এক মিশ্র অনুভূতিতে ফ্লাইটের অপেক্ষা করছিলাম। যেহেতু আমরা অনলাইনে টিকেট বুক দিয়েছিলাম তাই আমাদের টিকেট কাটার ঝামেলাতে পড়তে হয়নি।

অনলাইনে টিকেট কাটলে একটি প্রুভ স্লিপ থাকে ঐটা দেখালেই নির্দিষ্ট সময়ে বোর্ডিং পাস দেয়া হয়। সেখানে আপনার নাম এবং অন্য ইনফরমেশন দেয়া থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি প্লেনে উঠবেন না ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত বোর্ডিং পাসকে নিজের বাচ্চার মতো যত্ন করে রাখতে হবে। প্লেনে উঠে গেলে সেটির আর প্রয়োজন নেই যদি আপনি বাংলাদেশের মধ্যে কোথাও ট্র্যাভেল করে থাকেন। বাংলাদেশের বাইরে এটি আপনার সাথেই রাখতে হবে যতক্ষণ না আপনি আপনার নির্দিষ্ট গন্তব্যে না পৌঁছবেন। যাইহোক, অনেক অপেক্ষার পর চলে এলো সেই মুখ্য সময়। ফাইনালি বলা হলো “ইউএস বাংলা কক্সবাজার”। আরেকটি বিষয় আমার একটু অবাক লেগেছে। ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ফ্লাইটের টাইম-টেবিল মুখে বলা হয়। ঠিক বাসের হেল্পারদের মতো!

বোর্ডিং পাস দেখিয়ে প্লেনে উঠলাম উঠেই সিট বেল্ট লাগিয়ে ফেলতে বলা হলো কিন্তু এরপর আরও ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা লাগলো। কারন ফগ সেদিন অনেক বেশী ছিল। ততক্ষণে আমাদেরকে খাবার দিয়ে দেয়া হলো। একটি ছোট বার্গার ও একটি কেক আর ছোট পানির বোতল। ফগ ক্লিয়ার হওয়ার পর প্লেনের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইন্সট্রাকশন দিয়ে স্টার্ট হলো আমাদের যাত্রা। অনেকেই বলে থাকে প্লেন উপরে ওঠার সময় নাকি অনেক ভয় লাগে। কিন্তু ঐরকম কিছুই না। পুরো প্রক্রিয়াটাই এঞ্জয় করার মতো। তবে প্লেনে উঠে চুইংগাম চিবুবেন এবং হেডফোনে গান শুনবেন। তাহলে মাথা ঘুরাবে না।

উপর থেকে ঢাকাকে দেখতে যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া শহর মনে হয়। আর মেঘদের এতো কাছ থেকে দেখতে খুব ভালো লাগবে। মনে হবে আপনি নিজেও একটি মেঘ। সবচেয়ে সুন্দর লাগে যখন কক্সবাজারের কাছে এসে সমুদ্রের উপর দিয়ে প্লেনটি যায়। উপর থেকে পুরো সমুদ্রটি আপনি দেখতে পারবেন আর সূর্যের রশ্নির কারনে পানি গুলো সোনালী রঙ ধারন করে আর চিকচিক করতে থাকতে। এক অসাধারণ দৃশ্য! বেঁচে থাকাকে ব্লেসিং মনে হবে তখন। এইরকম হাজারটা দৃশ্য এখনো আমাদের দেখা হয়নি।

প্রথম প্লেন জার্নি নির্দ্বিধায় মনে রাখার মতো ছিল। এই গল্প যতবার বলবো ঠিক ততবার শিহরিত হবে মনে। আপনিও তাহলে আপনার প্রথম প্লেন জার্নিটা করে ফেলেন।

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-