পরিবার আছে হাতিদেরও!

Ad

পারিবারিক বন্ধন জিনিসটা মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর মধ্যেও থাকতে পারে, এটা মেনে নিতে হয়তো অনেকেরই কষ্ট হবে। কিন্তু তাতে তো আর সত্য বদলে যায় না। মানুষ ছাড়াও আরো কিছু প্রাণীর মধ্যে এইরকম পারিবারিক বন্ধন, সমাজ এইসবের অস্তিত্ব দেখা যায়। এইরকম একটি প্রানী হাতি। হাতিকে বলা হয় স্থলভাগে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির পর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। হাতি সম্ভবত একমাত্র প্রাণী যেখানে একটি বাচ্চা তার মা, খালা, বোন, নানী সবার দ্বারা প্রতিপালিত হয়। মানুষের মতই আবেগ, সম্পর্ক সবই আছে তাদের। টিভিতে, পত্রিকায় প্রায়ই নিউজ দেখা যায় বাচ্চা হাতি বিপদে পড়লে অনেক হাতি এসে জড়ো হয় যতক্ষণ না সে উদ্ধার হয়।

হাতিদের পরিবারগুলো হয় মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারের প্রধান হয় বয়স্ক অভিজ্ঞ কোন মেয়ে হাতি। প্রতিটা পরিবারে থাকে দলনেত্রী মা হাতি, তার বাচ্চা, তার বোন , তার বোনের বাচ্চারা। একেকটা মেয়ে হাতির পরিবার তিন থেকে পঁচিশ সদস্য বিশিষ্ট হয়। কোন কোন মেয়ে হাতির পরিবার পুরুষ হাতিদের গ্রুপের সাথে জোট বাধে আরো বড় গ্রুপ তৈরি করার জন্য।

মেয়ে হাতিরা একে অন্যের বাচ্চাকে দেখাশোনা করে। হাতিদের সমাজে একে অন্যের বাচ্চাকে দেখাশোনা করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তরুণী হাতিদেরকে শেখানো হয় কিভাবে বাচ্চার দেখাশোনা করতে হয়। একটি বাচ্চা হাতির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় যখন তার দেখাশোনার জন্য বেশি সংখ্যক মেয়ে হাতিকে পাওয়া যায়।

elephant-elephants-tanzania-safari-59873

হাতিরা নিজেদের মধ্য অনেক শক্ত এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে। তারা আজীবনের জন্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করে নিজ পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে। এমনকি প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকও প্রকাশ করে। বাচ্চা হাতি মারা গেলে মা হাতিকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। কোন হাতি মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা সেই জায়গা সহজে ত্যাগ করতে চায় না।

তারা সাধারণত সারিবদ্ধভাবে চলাচল করে। সাধারণত মা হাতির পেছনে বাচ্চা হাতি থাকে। তার পেছনে অন্য মেয়ে হাতিরা থাকে, যাতে বাচ্চা হাতির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

প্রাপ্ত-বয়স্ক পুরুষ হাতিরা সাধারণত যাযাবর ও একাকী জীবনযাপন করে। যখন একটি পুরুষ হাতি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন সে আস্তে আস্তে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে এবং যখন পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায় তখন হয় একাকী ঘুরাঘুরি করে অথবা অন্য কোন পুরুষ হাতির দলে ভিড়ে যায়।

পুরুষ হাতিদের গ্রুপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী হাতিটি হয় দলনেতা। যখন পুরুষ হাতির প্রজননের সময় হয় তখন সে একটি মেয়ে হাতি খুঁজে নেয়। মিলনপর্ব শেষ হয়ে গেলে সে পুনরায় একাকী যাযাবর জীবন বেছে নেয় অথবা তার দলে ফেরত আসে।

হাতিদের পরিবারে আবার বিচ্ছেদও হয়। এই বিচ্ছেদ মূলত হয় পরিবেশগত কারণে। খাদ্য ও পানির অভাব দেখা দিলে আবার কোন পরিবারের প্রধান মেয়ে হাতি মারা গেলেও বিচ্ছেদ হতে পারে। বিচ্ছেদ হওয়ার পরও তারা পরস্পরের সাথে যোগযোগ বজায় রাখে। সাধারণত দেখা যায় একটি বিস্তৃত এলাকায় বসবাসরত সকল হাতি পরস্পর এর সাথে রক্তের সম্পর্কে সম্পর্কিত।

হাতি ছাড়াও শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ডলফিনদের মধ্যে এইরকম পরিবার দেখা যায়। অথচ মানুষের লোভের কারণে এদের অকাল মৃত্যু হয় অহরহ। স্রেফ হাতির দাঁতের জন্য হাতি শিকার বন্ধ হোক!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

Ad