২০১৮ সালের শুরুতে এক কনফারেন্সে ফেসবুকের ফিউচার নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৮ সাল থেকে ফেসবুক হবে ভিডিও নির্ভর। এবং ধীরে ধীরে এটা ভিডিও দেখার ওয়েবসাইটে পরিণত হবে।

বিশ্বে এখন ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা ২.২ বিলিয়ন। ইউটিউব ইউজারের সংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন। এই ইউটিউব ইউজারদের ফেসবুকের দিকে নেয়ার জন্যই হয়ত এই ঘোষণা এসেছিলো ফেসবুক থেকে। এরপরই ফেসবুক এনাউন্স করেছিলো ভিডিও দেখানোর জন্য ইউটিউবের মত তারাও ভিডিও কনটেন্টে পে করবে। তারপর ফেসবুক ভিডিওতেও আমরা বিজ্ঞাপন দেখতে শুরু করেছি। গুগল এডসেন্সের মত তারাও ইন্সট্যান্ট আর্টিকেলে পেমেন্ট করে বিজ্ঞাপনের জায়গাটা নিচ্ছে।

ফেসবুক তাদের ইউজারদের অন্য কোন মাধ্যমে ডাইভার্ট না হতে দিতে একটার পর একটা সোশাল মিডিয়া অ্যাপ/ওয়েব কিনে নিয়েছে। এজন্য ফেসবুকের পর সবচেয়ে পপুলার ইন্সটাগ্রাম এবং মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপও তারা নিজেদের প্রোডাক্ট বানিয়েছে। ইন্সটাগ্রামের ইউজার এখন ৮০০ মিলিয়ন এবং হোয়াটঅ্যাপের রেগুলার মান্থলি ইউজার হল ওভার ১.৫ বিলয়ন।

আমরা অতটা হোয়াটসঅ্যাপ নির্ভর না হলেও কাছের দেশে মালায়েশিয়া এবং সিংগাপুরের সব অনলাইন শপ, ই কমার্স পুরোপুরি হোয়াটঅ্যাপ নির্ভর। সেখানে কেনাবেচা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। ইভেন ম্যাক্সিমাম দেশেই। আমাদের মেসেঞ্জার ইউজার বেশি।

ফেসবুক, ফেসবুক ডেটিং, টিন্ডার

এই দুটো অ্যাপ নিজেদের হওয়ায় ফেসবুক সবাইকে নিজেদের দিকে ধরে রাখতে পেরেছে। তবে এবার ফেসবুক হাঁটছে ডেটিং সার্ভিসের দিকে। ফেসবুক সার্ভে করে দেখেছে তাদের সাইটে মোট ২০ মিলিয়ন ডেডিকেটেড সিংগেল ইউজারস আছে যারা সঙ্গী খুঁজছে অন্য কোন মাধ্যমে। স্পেসিফিকলি বললে টিন্ডারের মত ডেটিং অ্যাপে।

আবার এসব থার্ড পার্টি ডেটিং অ্যাপ ইনফো নিচ্ছে ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। সো, এসব অ্যাপ পুরোপুরি ফেসবুক নির্ভর। গতমাসে মার্কিন সিনেটে ফেসবুকের ডাটা পলিসি নিয়ে কথা উঠলে ফেসবুক জানায় তারা এ ব্যাপারে আরও কেয়ারফুল হবে, স্ট্রিক্ট হবে এবং সলিউশনে আসবে। এখন থেকে থার্ড পার্টি অ্যাপকে ডাটা দিলে, ইনফো দিলে ইউজারের পারমিশন নিয়ে তারা দেবে। ফেসবুকের ডাটা ট্রান্সফার পলিসি আরও স্ট্রিক্ট হওয়ার কারণে টিন্ডারের মত অ্যাপ ঝামেলায় পড়া শুরু করলো

এই সব সিচুয়েশন মার্জ করে ফেসবুক ডিসিশন নিলো, এখন থেকে এই সার্ভিসটিও তারা নিজেরা দেবে যেহেতু তাদের ডাটা দিয়েই এসব সার্ভিস টিকে আছে।

ফেসবুকের জন্য যে কোন সোশাল মিডিয়া অ্যাপ ইজ অ্যা থ্রেড। প্রতিদিন টিন্ডারে ২৬ মিলিয়ন ম্যাচ হচ্ছে। এভারেজ ৩৫ মিনিট সময় ইউজাররা দিচ্ছে টিন্ডারে এবং সপ্তাহে ১.৫ মিলিয়ন ডেট অ্যারেঞ্জ করছে টিন্ডার।

ফেসবুক, ফেসবুক ডেটিং, টিন্ডার

এই হিউজ ইউজারকে নিজেদের দিকে নিয়ে আসার সুযোগকে কাজে লাগানোর ঘোষণা মানে ডেটিং সার্ভিস চালু করার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই টিন্ডারের শেয়ারের দাম ২২% কমে গেছে। এবং এটা হয়ত আরও ফল করবে।

টিন্ডার ইউজার আমাদের দেশে কম কেন? 

এশিয়ার মধ্যেও থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশে ডেটিং অ্যাপ খুব পপুলার। তাদের জন্য বিভিন্ন ডেডিকেটেড ডেটিং অ্যাপ আছে। আমাদের দেশে আমরা অতিরিক্ত ফেসবুক নির্ভর। ম্যাক্সিমাম মানুষ লো ডাটা ইউজার হওয়ায় ফেসবুক আমাদের একমাত্র ভরসা। আবার টিন্ডারের মত সার্ভিস কিন্তু ফ্রি না। এসব সার্ভিসে ঠিকঠাক ম্যাচ পেতে গেলে টিন্ডার প্লাস বা গোল্ড ইউজার হতে হয় যেটার সাবসক্রিপশন চার্জ অনেক টাকা। আমরা ইন্টারনেট ডট ওআরজি আর ফ্রি ফেসবুক চালানোর দেশে এজন্য টিন্ডার ক্লিক করে নি।

তবে এবার ফেসবুকেই ডেটিং সার্ভিস চালু হলে সেটা আমাদের দেশে হিউজ আকারে ছড়িয়ে পড়বে এটা শিওর। এর ভালো দিক, খারাপ দিক দুটোই থাকবে। আমাদের মত দেশে এনিনোমাস যে কোন মানুষ মানেই ভয়। মেয়েরা আদার মেসেজ বক্স ওপেন করতে পারে না ভয়ে। সেখানে এনিনোমাস ডেটিং সার্ভিস কেমন পরিবেশ সৃষ্টি করে সেটাই দেখার মত ব্যাপার।

ফেসবুক, ফেসবুক ডেটিং, টিন্ডার

ফেসবুকের ডেটিং সার্ভিস যেভাবে কাজ করবে: 

আমাদের নিজেদের প্রোফাইলে একটা হার্ট আইকন থাকবে যেটাকে বলা হবে “ডেটিং হোম”। এখানে ক্লিক করে ডেটিং প্রোফাইল খোলা যাবে যেটা থাকবে সিক্রেট। ফ্রেন্ডলিস্টের কেউই এটা দেখতে পারবে না। বিভিন্ন গ্রুপ থেকে, নিয়ারবাই ইভেন্ট থেকে ইউজারের ইন্টারেস্ট দেখা হবে। ধরুন আপনার আশেপাশে কোথাও একটা কনসার্ট হবে। আপনি সেখানে অ্যাটেন্ড করবেন তখন আপনি আপনার প্রোফাইল আনলক করতে পারবেন এবং আপনার সাথে ম্যাচ করা সবাই যারা সে কনসার্টে যাবে তারা এটা দেখতে পারবে। এভাবেই বিভিন্ন রিয়েল লাইফ ইভেন্ট আনলক করা যাবে। এবং এভাবেই মিট আপ করবে মানুষজন।

প্রোফাইল পুরোপুরি প্রাইভেট রাখা হবে। এবং দুজনার কনভার্সেশনও। কমিউনিকেশন হবে শুধু টেক্সট ফরম্যাটে। কোন কল দেয়ার সিস্টেম থাকবে না ইনিশিয়ালি। এটার মেসেজিং সিস্টেম আলাদা হবে। মেসেঞ্জার ইউজ করা হবে না।

খুব দ্রুতই আসছে এই সার্ভিস। ফেসবুকে প্রেমের এক মাস সেলিব্রেট করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরা চট্টগ্রামের তাসফিয়াদের দেশে আমরা ঠিকমত এটা ব্যবহার করতে পারবো তো? কিংবা অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের লাগাম টানতে পারবেন তো?

তথ্যসূত্র- cnbc.com, wired.com, expandedramblings.com

Comments
Spread the love