অদ্ভুত,বিস্ময়,অবিশ্বাস্যএরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

ফেসবুক সেলিব্রেটিদের জন্য দুশ্চিন্তার খবর!

ভেবেছিলাম ফেসবুক সেলিব্রেটি টার্মটা একমাত্র বাংলাদেশেই আছে। আমি খুব সরল মনের মানুষ, কোনো কিছু জানতে হলে তরল মনে গুগলে সার্চ দেই। গুগলকে জিজ্ঞেস করলাম, হোয়াট ইজ ‘ফেসবুক সেলিব্রেটি’? গুগল আমাকে কোনো সংজ্ঞা জানাতে পারলো না। দুনিয়ার কোন ডিকশনারিতে এখন পর্যন্ত ফেসবুক সেলিব্রেটি টার্মটা নেই। আমি খুব হতাশ। জ্ঞান-বিজ্ঞান কত এগিয়ে গেল, কিন্তু ফেসবুক সেলিব্রেটির সংজ্ঞা নির্ধারণের গুরুত্বটা কেউ বুঝল না।

আসলে আমার মতো এভারেজ মানুষের জীবনে একজন ফেসবুক সেলিব্রেটির অবদান অনেক। আপনি হতাশ, আপনাকে মোটিভেশন দেয়ার জন্য আছে বিশেষ জাতের ফেসবুক সেলিব্রেটি। আপনি প্রেমে ছ্যাকা খেয়েছেন, কোন সমস্যা নেই, এক ধরণের ফেসবুক সেলিব্রেটি আছেন, যারা শুধু আপনার প্রেম বিষয়ক তুংফাং সমস্যা নিয়েই গবেষণা করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। ফেসবুক সেলিব্রেটিদের কাছে সমাধান নেই এমন সমস্যা ইতিহাসে বিরল। যেকোন সমস্যায় আছে একমাত্র মহাঔষধ, সকল ঝামেলার মুশকিলে আহসান ফেসবুক সেলিব্রেটির লাইভ। শুধু তাই নয়, এক জাতের ফেসবুক সেলিব্রেটিরা তো লেম লেম বিনোদন দেয়াকেই মহান ব্রত হিসেবে নিয়েছেন।

ফেসবুক সেলিব্রেটিদের ভাল গুরুত্ব আছে সামাজিকভাবে। যার যত বেশি ফলোয়ার সে তত বড় সেলিব্রেটি। তত বেশি এটেনশন। এতদিন ফলোয়ারদের এটেনশন নিয়ে ফেসবুক সেলিব্রেটি এক্টিবিস্টরা বেশ সুখে শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছিলেন। অনেকে তো রাস্তাঘাটেও নিজেকে ফেসবুক সেলিব্রেটি পরিচয় দেয়া শুরু করেছিলেন। বিষয়টা খারাপ না, খালি লজ্জা একটু কম থাকলেই হলো। ফেসবুক সেলিব্রেটি সিন্ড্রোম এমন একটা ব্যাপার অনেকেই লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে বিভিন্ন আজব কারকারবার করে রাতারাতি ফেসবুক সেলিব্রেটি হতে চান।

তবে এখন মনে হয় একটু লজ্জাবোধ রাখার দিন চলে এসেছে। ফেসবুক সেলিব্রেটিরা লাইকের নেশায় ভুগে কখনো কখনো এমন পোস্ট করেন যা মাঝে মধ্যে বেশ বিব্রতকর হয়ে যায়। বিশেষ করে ‘গণতান্ত্রিক’ দেশগুলোর রাষ্ট্রপরিচালকদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার খবর এখন বেশ মাথা ব্যাথার বিষয়।

মিশরে সম্প্রতি একটি নতুন আইন হয়েছে। আইনের মজার একটি লক্ষনীয় বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো যদি ৫ হাজারের বেশি ফলোয়ার থাকে তাহলেই তাকে সরকারের নজরদারির আওতায় আনা হবে। তার মানে মিশরেও ফেসবুক সেলিব্রেটি আছে!

মিশরে অনেকেই এটিকে বলছেন বাক তথ্য স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ, কিন্তু মিশরের সরকার বলছে, অস্থিতিশীলতা এড়াতেই এই ব্যবস্থা। তাদের ভাষায় ‘ভুয়া খবর’ বাংলাদেশের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘গুজব’ এটি বন্ধ করতেই নাকি এই আয়োজন। এছাড়া আইনে আছে ওয়েবসাইট খুলতে এখন থেকে দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিলের লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।

তবে মিশরে ২০১৪ সাল থেকে হাজারের উপর এক্টিভিস্ট জেলে গিয়েছে শুধু অনলাইনে বিতর্কিত পোষ্ট করার কারণে। এই অবস্থায় নতুন সাইবার আইন মিশরের এক্টিভিস্টদের জন্য যেন আরো বড় ‘চ্যালেঞ্জিং টাইম’ হয়ে আসছে।

এই সময়ে এসে এখন কারো যদি অনেক ফলোয়ার থেকে থাকে তার জন্য ফলোয়ার রক্ষা করা বেশ কঠিনই। ফলোয়াররা বসেই থাকে কখন একটি বিতর্কিত পোষ্ট আসবে এবং লুফে নেবে। না আসলে আবার তাগাদা দেবে, কখনো তারাই মনে করিয়ে দিবে, ‘আপনি তখন কোথায় ছিলেন?’ প্রশ্ন করে। এই অবস্থায় বিতর্কিত কিছু পোষ্ট করে হয়ত প্রচুর লাইক, কমেন্ট আসবে কিন্তু তাতে গোয়েন্দাদের নজরদারিতে পড়ে যাওয়ার বেশ ভাল সম্ভাবনা আছে।

মূল ব্যাপারটি হল, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে কোনো একটা খবর এখন খুব অল্পতেই ছড়িয়ে যায়। মানুষ ক্রসচেক করে যাচাই পর্যন্ত করতে চায় না৷ যেসব আইডির ফলোয়ার অনেক মানুষ তারা যদি বিতর্কিত কিছু শেয়ার করেন এবং তা অনেক মানুষের কাছে ছড়িয়ে যায় তাহলে সেটা অবশ্যই গোয়েন্দাদের জন্য চিন্তার বিষয়। এই ব্যাপারটি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে।

মিশরের দেখানো পথে আরো অনেক দেশের হাঁটার সম্ভাবনা তাই একদমই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তাই অনেক অনেক ফলোয়ার থাকলেই খুশিতে সেলিব্রেটি ফিলিংস পাওয়ার দিন বোধহয় ফুরাতে বসলো!

তথ্যসূত্র- ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Comments

Tags

Related Articles