রাজীব হাসান

ছাত্রলীগ নেত্রী এশার প্রতি যারা মানবিকতা দেখাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেককে ‘পলিটিকস করতে হবে’ শর্তে হলগুলোর গণরুমে ১ মাসের জন্য ওঠানোর দাবি জানাচ্ছি। তখন দেখব এদের এই ম্যান্ডেলাগিরি কই থাকে।

হলের এই নেতা-পাতি নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কী পরিমাণ পশুর মতো আচরণ করে, আপনাদের ন্যুনতম ধারণা নাই। থাকলেও এখন অতি-মানবিকতা দোয়াচ্ছেন!

শুধুমাত্র হলে থাকার জায়গা দেওয়ার বিনিময়ে এই নেতারা এক রকম দাসখত লিখে নেন। তাদের কথায় উঠতে বসতে হয়। তাদের ‘চোখে চোখ তুলে তাকানো’র অপরাধে হল থেকে বের করে দেওয়া হয় যখন খুশি তখন। আমার হলের সিনিয়র আসাদ ভাইকে এখনো রাস্তায় দেখলে সালাম দেই, উনিও বুকে টেনে নেন স্নেহে। আর এই পাতি নেতারা ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় ফোর্থ ইয়ার এমনকি মাস্টার্সের বড় ভাইদের গায়েও অবলীলায় হাত তোলে।

সুফিয়া কামাল হল, ছাত্রলীগ নেত্রী রগ কাটা, কোটা সংস্কার আন্দোলন

টিভি রুমের রিমোট তাদের হাতে থাকে। এরা যা দেখবে আপনাকেও দেখতে হবে। দলবল নিয়ে টিভিরুমে ঢুকে এরা প্রথমেই এসে ইচ্ছেমতো রিমোট চাপতে শুরু করে। বিষয়টি আপনার কাছে হাসি এনে দিতে পারে, কিন্তু এটির সাইকোলজি অনেক বড়। ভয়ংকর। বাকিরা কোনো সিনেমা বা অনুষ্ঠানের মাঝপথে ছিল কি না, তাতেও এদের অনেকের যায় আসে না। বরং নিজের দাপট দেখাতে এরা ইচ্ছে করে রিমোট চাপে।

এই টিভি রিমোট দিয়েই এদের ক্ষমতার রিমোট টেপার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। হলে এরা ফাউ খায়, অথবা কম টাকায় খায়। আর এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাছের টুকরোর সাইজ কমতে থাকে; ক্যানটিন মালিক ঠিকই তার লাভ বুঝে নেয়। সাধারণের হক মেরে খাওয়ার প্রশিক্ষণও এদের সেখান থেকেই শুরু।

হলের বড় নেতা-নেত্রীরা এক রুমে একজন কি দুজন করে থাকেন, গণরুমে যেখানে ৩০-৪০ জন থাকে, অনেকে যেখানে লাইব্রেরি রুম, মসজিদে, বারান্দায়; এমনকি ছাদেও বিছানা পেতে ঘুমায়। ফিরিস্তি লম্বা করতেও ঘৃণা হচ্ছে। এদের বাকিসব অপকর্মের ফিরিস্তি দিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট, হাউস টিউটরদের মেরুদণ্ডহীনতা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই নেতারাই মুরুব্বি। আর এদের প্রত্যেকে হলগুলোতে ভয়ের দোকান খুলে রাখে।

ওরা লুটপাট করে খাক, টেন্ডারবাজি করুক, প্রভাবশালী মন্ত্রী-নেতার পোষ্য ও চোষ্যগিরি করে করুক। কিন্তু এরা হলের ছারপোকার মতো প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ত চুষে খায়। হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। বাধ্যতামূলক গেস্টরুম হাজিরা। মিটিং-মিছিলে নিয়ে যাওয়া। গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস বা পরীক্ষার কথা বললেও অনেক সময়ই মেলে না মুক্তি। কথা শুনিস না! এত সাহস! বের হয়ে যা হল থেকে! হল তাদের বাপ-দাদার তালুক কিনা!

এরা দিনকে দিন আরও পশু হয়ে উঠছে। মাত্র কদিন আগে ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় এহসান নামের এক ছাত্রকে কীভাবে পিটিয়েছে দেখুন।

আমি কোনো সহিংসতাকে সমর্থন করি না। কিন্তু যে নেতানেত্রী দিনের পর দিন এমন অত্যাচার করতে থাকবে, পুঞ্জীভূত ক্ষোভ-রাগের বিষ্ফোরণ একদিন হবেই। আফসোস, অনেক নেতাই এই সাধারণ সত্যিটা খুব দ্রুত ভুলে যান!

সুশীলগিরি করে ছারপোকা পুষতে চাইলে প্লিজ এই নেতাদের আপনার ঘরে এনে রাখুন!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-