রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮ মাঠে গড়ানোর মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে বিশাল বড় একটি ধাক্কা খায় ২০১০ আসরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বোর্ডকে না জানিয়েই রিয়াল মাদ্রিদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অপরাধে বিশ্বকাপের ঠিক আগে বরখাস্ত করা হয় কোচ জুলেন লোপেতেগুইকে। তার জায়গায় স্পেন দলের সাময়িক কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফার্নান্দো হিয়েরো।

কিন্তু হিয়েরোর অধীনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি সার্জিও রামোসের দল। প্রথম রাউন্ডে বর্তমান ইউরোপ সেরা পর্তুগালকে টপকে তারা গ্রুপ সেরা হয়েছিল বটে, কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডেই স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে হোঁচট খায় তাদের স্বপ্নযাত্রা। পেনাল্টিতে হেরে আরও একবার খালি হাতেই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয় তাদেরকে।

দেশে ফিরেই নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সরে দাঁড়ান হিয়েরো। তখন থেকেই বাতাসে ভাসছিল নানা গুঞ্জন, চলছিল বিভিন্ন জল্পনা কল্পনা – কে হচ্ছেন স্পেনের পরবর্তী কোচ? অবশেষে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন জানালো, জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন লুইস এনরিকেকে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজ মুখে এ খবর নিশ্চিত করেন লুইস রুবিয়ালেস।

লুইস এনরিকে, স্পেন, বিশ্বকাপ ফুটবল, কোচ

জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী এনরিকের সাথে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত। সে অনুযায়ী ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত লা রোজাদের দায়িত্বের থাকবেন এনরিকে। এ সময়কালের মধ্যে তার কাজ সন্তোষজনক হলে, তার চুক্তি নবায়ন করা হবে, এবং ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠতব্য বিশ্বকাপেও তাকেই দেখা যেতে পারে স্পেনের ডাগ আউটে।

একই সংবাদ সম্মেলনে স্পেন দলের নতুন স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো লা করুনায় খেলা, এবং স্পেন জাতীয় দলের হয়ে নয় বার মাঠে নামা, ৪৭ বছর বয়সী হোসে ফ্রান্সিসকো মোলিনার নাম ঘোষণা করা হয়। এনরিকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে মোলিনা বলেন, “স্পেন দলে এমন একজন কোচের প্রয়োজন ছিল যিনি কিনা ইতিপূর্বে এ কাজে সফলতা পেয়েছেন।”

আসলেই পেশাদার কোচ হিসেবে এনরিকেকে দারুণ সফলই বলা যায়। খেলোয়াড়ি জীবনে স্পোর্টিং গিজন, রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার হয়ে মাঠ মাতানো, এবং স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ১২টি ম্যাচে খেলতে নামা এই সাবেক মধ্য মাঠের সেনানী ২০১৪ সালের মে মাসে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৭ পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন।

তার অধীনে লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকেরা দুইটি লা লিগা, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, তিনটি কোপা দেল রে, একটি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, একটি ক্লাব বিশ্বকাপসহ সম্ভাব্য ১৩টি শিরোপার মধ্যে ৯টিই জেতেন। তবে এনরিকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বছরেই কাতালানদের ট্রেবল (চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও কোপা দেল রে) জেতানো।

বিশ্বকাপ ফুটবল, স্পেন, টিকিটাকা ফুটবল, পেপ গার্ডিওলা, সুলতান সুলেমান

তাই কোচ হিসেবে তিনি যে আসলেই কতটা সফল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে সেল্টা ভিগো এবং বার্সেলোনার রিজার্ভড টিমকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও।

তবে গত বছরের মে মাসে বার্সেলোনার দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এক বছর স্বেচ্ছা অবসরে ছিলেন এনরিকে। এ সময়কালের মধ্যে তার নামে বিভিন্ন ক্লাবে যোগ দেয়ার গুজব রটলেও, সেগুলো প্রতিটিই শেষমেষ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এবং এখন দেখা যাচ্ছে, বার্সেলোনার মত হাই-প্রোফাইল দলের কোচ হিসেবে থাকার পর কোচ হিসেবে তার কোন অবনমন ঘটেনি, বরং স্পেনের মত একটি আন্তর্জাতিক দলের দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে কোচ হিসেবে এক প্রকার উত্তরণই ঘটেছে।

এনরিকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পেনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হবে আগামী সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যারা এখনও বিশ্বকাপে টিকে রয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নও হয়ে যেতে পারে। তাই শুরুতেই দারুণ একটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে এনরিকের জন্য। বিশ্বকাপের পরও যদি গ্যারেথ সাউথগেট ইংল্যান্ডের কোচের পদে থাকেন, তবে এনরিকে ও সাউথগেটের মধ্যে রোমাঞ্চকর একটি দ্বৈরথেরও সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাবে ফুটবল রোমান্টিকেরা।

Comments
Spread the love