ঢাকায় থাকা ব্যাচেলরদের প্রধান খাদ্য যে ডিম, সে আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। মেসে খালা আসেনি? ভাত বসিয়ে দাও, হাতে তুলে নাও ডিম। এরপর পেয়াজ কেটে ভেজে নাও। নাস্তা নেই? ডিম সেদ্ধ করে খাও! ডিম গৃহিণীদেরও কম প্রিয় কিসে! রান্না করতে ভাল লাগছে না? ব্যাস, ডিম ভেজে ফেলো! ‘আম্মু কিছু দেন’- বলে বাচ্চা কাঁদছে? নুডুলস সেদ্ধ করে তাতে ডিম ভেজে দিয়ে দিন। 

এভাবেই গোটা দেশজুড়ে অসহায় (!) সময়ে ডিম আমাদের পাশে থাকছে, নিজের জীবন অন্যের হাতে তুলে দিয়ে নিজেকে শেষ করে বাঁচিয়ে রাখছে আমাদের। এবার এসেছে নতুন খবর, সুখবর। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) আসছে শুক্রবার ঢাকায় তিন ঘণ্টার জন্য ১২ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। আজকের বাজারদর অনুযায়ী, প্রতিটি ডিমের দাম সাড়ে সাত টাকা। মানে, এখান থেকে ডিম কিনলে ডিম প্রতি বেঁচে যাচ্ছে সাড়ে চার টাকা। প্রতি হালিতে বাঁচবে, ১৮ টাকা!

১৩ অক্টোবর হলো বিশ্ব ডিম দিবস। এই কারণে বিশেষ এই মূল্যে ডিম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও বিপিআইসিসি। রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য প্রতিটি ডিম ৩ টাকা বা হালি প্রতি ১২ টাকায় বিক্রি করা হবে। একজন ভোক্তা মেলায় সর্বোচ্চ ৯০টি ডিম কিনতে পারবেন। ১৩ অক্টোবর শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস। বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও একযোগে উদ্‌যাপিত হবে বিশ্ব ডিম দিবস। কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছে।

জেলা শহরগুলোতেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে ডিম দিবস পালিত হবে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মাঝে বিনা মূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর হরেক রকমের ডিম নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করবে। বাজারদরের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি প্রসঙ্গে অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, পোল্ট্রি ফার্মগুলো পাইকারিভাবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ টাকা দরে প্রতি পিস ডিম বিক্রি করে। খুচরাবাজারে সেগুলো ৮ টাকা করে বিক্রি হয়। এখানে তারা কোম্পানির দামে ডিম বিক্রি করবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্রেতাদের একটি সম্পর্ক তৈরি হবে। ভোক্তারা যত খুশি ডিম কিনে নিতে পারবেন। ডিম দিয়ে নানা স্বাদের খাবার তৈরি করে বিক্রিও করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিম কীভাবে উৎপাদন হয়, সেগুলোও আগত দর্শকদের দেখানো হবে।

এ নিয়ে ফেসবুকে “চলো চলো ডিম মেলায় চলো!” – নামের একটি ইভেন্টও দেখা গিয়েছে। সেখানে ডিম কিনতে যাবেন বলে ‘গোয়িং’ দিয়েছেন ২৩০০-এর বেশী মানুষ, যাওয়ার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে ‘ইন্টারেস্টেড’ হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশী মানুষ। ইভেন্টের দেয়াল ও ফেসবুকে এই ডিম মেলা নিয়ে অনেকের মাঝেই অগ্রহ দেখা দিয়েছে।

রাজু নরুল নামের এক ভদ্রলোক তার ফেসবুক স্টাটাসে আবেগী ভাষায় লিখেন, “আমি মনে করি, এই মেলায় এদেশের প্রত্যেকটা মানুষের যোগ দেয়া উচিৎ। বিশেষ করে এই শহরের প্রতিটা ব্যাচেলর সেই মেলায় ভিড় করে, কৃতজ্ঞচিত্তে এদেশের ডিম উৎপাদনকারীদের স্মরণ করা উচিত। তার সাথে সাথে, এদেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র হাঁস, তাদের পালনকর্তা এবং মুরগী ব্যবসায়ীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা উচিৎ। যদি এরকম কোন ব্যবস্থা না থাকে, তবে তা আয়োজনের জোর দাবি জানাই।”

আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য প্রতিটি ডিম ৩ টাকা বা হালি প্রতি ১২ টাকায় বিক্রি করা হবে। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে এই ডিম বিক্রি করা হবে। সুতরাং আসুন ডিমের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে ছুটে যাই ‘ডিম মেলায়’। স্বল্প দামে ডিম কিনি, ডিম খাই। ডিম খেয়ে মাছ-মাংসের উপর চাপ কমাই!

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো