সিনেমা হলের গলি

পূজায় কলকাতায় বিগ বাজেটের ৬ সিনেমা!

বছর ঘুরে আবারও এসে গেছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আমাদের দেশে দুর্গাপূজা নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি না হলেও, পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গেলেই দেখতে পাবেন, পূজা উদযাপন কাকে বলে! বিশেষ করে কলকাতার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় যে ধরণের জাঁকজমকের সাথে পূজা উদযাপন করা হয়, তার কোনো তুলনাই হয় না। একটি সাম্প্রদায়িক উৎসবকে কেন্দ্র করেও যে একটি শহরের সব ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশার মানুষ এভাবে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে পারে, তার প্রমাণ কেবল কলকাতায় গেলেই পাওয়া সম্ভব। কলকাতার মানুষের কাছে পূজা মানেই ঠাকুর দেখে বেড়ানো, প্যান্ডেলে রাত কাটানো আর চুটিয়ে প্রেম করা। শপিং, সাজগোজ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এইসবও রয়েছে। আর তার সাথে সাথে অন্য যে জিনিসটি এখন কলকাতার মানুষের অস্থিমজ্জায় ঢুকে গেছে, তা হলো পূজার ছুটিতে পরিবারের সবাই মিলে হুল্লোড় করে সিনেমা হলে ছবি দেখতে যাওয়া।

দুর্গাপূজাই তাই পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে বড় পার্বণ। প্রতি বছরই পূজায় নামি-দামি পরিচালক ও তারকাদের পাঁচ-ছয়-সাতটি করে ছবি মুক্তি পায় কলকাতায়। এবারও দেখা যাচ্ছে অভিন্ন চিত্র। আগামী ১২ই অক্টোবর থেকে কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের হলগুলোতে চলবে নতুন ছয়টি ছবি। এবং ছবিগুলো বিষয়বস্তু আর কাহিনীর দিক থেকে এত বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ যা আমাদের দেশে কল্পনাও করা যায় না। ইতিহাস থেকে শুরু করে রহস্য, নাটকীয়তা কিংবা রোমাঞ্চ, হাস্যরস থেকে রূপকথা – সবমিলিয়ে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিগুলো যেন বিনোদনের অফুরন্ত ভাণ্ডার। সব বয়স আর রুচির দর্শকের জন্যই কিছু না কিছু আছে এই ছয়টি ছবিতে। তাই পূজা এলেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য যেন সোনায় সোহাগা। চলুন জেনে নিই এবার দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে চলেছে কোন ছয়টি ছবি।

এক যে ছিল রাজা, গুপ্তধনের সন্ধানে, পরি, ইফরিত, সাতক্ষীরা, ওলাদচক্র, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব, শাহ সুজার গুপ্তধন, ভাওয়াল রাজা, রাজা রমেন্দ্রনারায়ণ, সন্ন্যাসী রাজার মামলা

এক যে ছিল রাজা (সৃজিত মুখার্জী) পূজায় ছবি মুক্তি দেয়াকে সৃজিত যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। বিগত বছরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এবারও পূজায় সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবিটির পরিচালক সৃজিতই। কিংবা বলা যায়, তার ছবি বলেই সেটি নিয়ে সকলের এত বেশি আগ্রহ ও উন্মাদনা। এক যে ছিল রাজানামক সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই পিরিওডিক্যাল ড্রামাটিকে অনেকে সৃজিতের ক্যারিয়ারের ম্যাগনাম ওপাসও বলছেন। ভাওয়াল রাজার প্রত্যাবর্তন ও সেটিকে ঘিরে কোর্টে ওঠা মামলাকে মনে করা হয় এই উপমহাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর কোর্ট কেসগুলির একটি। সেটিকে পর্দায় তুলে আনতে চলেছেন সৃজিত। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই মুহূর্তে টলিউডের এক নম্বর বিবেচিত যীশু সেনগুপ্ত। সেই সাথে আরও রয়েছেন অঞ্জন দত্ত, অপর্ণা সেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও রুদ্রনীল। ছবিটির ট্রেইলার ইতিমধ্যেই আমাদেরকে অসাধারণ পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণের প্রলোভন দেখিয়েছে। সেই সাথে রয়েছে অনবদ্য একটি গল্পও। তবে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, এই ছবিটিকে না আবার উত্তম কুমারের সন্ন্যাসী রাজাছবির সাথে তুলনার মুখে পড়তে হয়। তবে সেই পূর্ব-অভিজ্ঞতা যীশু (ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানাচিড়িয়াখানা’) এবং সৃজিত (অটোগ্রাফনায়ক’) উভয়েরই রয়েছে। তাই এবারের পরীক্ষায়ও তারা ভালোভাবেই উৎরে যাবেন, এবং এই ছবিটি বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির খেতাব জিতে নেবে, এমনটিই পূর্বানুমান চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের।

হইচই আনলিমিটেড (অনিকেত চট্টোপাধ্যায়) একটা সময় ছিল যখন দেব মানেই মনে করা হতো ভরপুর কমেডি, রোমান্স আর অ্যাকশনে মোড়া বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র, যাতে কাহিনী বলতে কিছু না থাকলেও, পরিবেশনগুণে আমজনতার ভালো লাগতে বাধ্য। কিন্তু মাঝে দুইবছর সেই অপবাদ ঘুচানোর চেষ্টা করেছেন দেব। অনেকটা সফলও হয়েছেন। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত ‘চ্যাম্প’, ‘ককপিট’ ও ‘কবির’ ছবিগুলোর মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন তিনি। তৈরি হয়েছে তার নতুন ভাবমূর্তিও। কিন্তু যেই আমজনতার কারণে তিনি আজকের দেব হতে পেরেছেন, তাদের আশা যেন কিছুতেই পূর্ণ হচ্ছিল না। মূলত তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দুই বছর পর দেব আবারও ফিরছেন একটি পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক ছবি নিয়ে। পূজার ছুটিতে হালকা গোছের, হাসতে পারার মত দারুণ একটি ছবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেব ছাড়াও খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘হইচই আনলিমিটেড’- এর। এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তিমত্তার জায়গাগুলো হলো, একে তো অনেকদিন পর বাণিজ্যিক ছবিতে ফিরছেন দেব, তার উপর আবার পূজার একমাত্র কমেডি ছবি এটিই। তাই এই ছবির সাফল্য অনেকটাই অনুমিত। তারপরও আশংকার জায়গা যেটি, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় কোনো মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিই লাভের মুখ দেখেনি।

ব্যোমকেশ গোত্র (অরিন্দম শীল)- কথায় আছে, অধিক ভোজনে নাকি অমৃতেও অরুচি চলে আসে। ব্যোমকেশের ক্ষেত্রেও কি বিষয়টি সেরকম হয়ে যাচ্ছে? গত প্রায় এক দশক ধরেই ব্যোমকেশকে নিয়ে নতুন করে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রেই যেমন একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজ গড়ে উঠেছে, তেমনই ব্যোমকেশকে নিয়ে ছবি নির্মিত হয়েছে বলিউডেও। এছাড়া বাংলা টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল আর অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওয়েব সিরিজেও ব্যোমকেশ এখন নিত্যকার চেনা মুখ। শুধু যে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অরিজিনাল ব্যোমকেশ কাহিনীকে পর্দায় তুলে আনা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। সম্প্রতি ব্যোমকেশ চরিত্রকে ঠিক রেখে কাল্পনিক স্টোরিলাইন নিয়েও এসেছে একটি স্ট্যান্ড অ্যালোন ছবি ‘বিদায় ব্যোমকেশ’। তাই এবারের পূজায় অরিন্দম শীলের ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ কে পড়তে হবে বড়সড় একটি অ্যাসিড টেস্টের সামনে। কয়েকমাস আগে মুক্তি পাওয়া ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ কিন্তু বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেখানে আবির চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও। আর ‘রক্তের দাগ’ অবলম্বনে হইচইয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যোমকেশ ওয়েব সিরিজের সিজনটিও সবাই দেখে ফেলেছে। তাই একই কাহিনী নিয়ে বড় পর্দায় ছবি এলে, সেটি দেখার প্রতি কি সকলের সমান আগ্রহ থাকবে? সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে আশার বিষয় হলো, পূজায় মুক্তি পাওয়া ব্যোমকেশ কখনও ব্যর্থ হয় না। তার পাশাপাশি অরিন্দম শীলের ব্যোমকেশ মানে তো শুধু শরদিন্দুর কাহিনীই নয়, তার সাথে চোখ ধাঁধানো লোকেশন এবং প্রতিটি চরিত্রের দারুণ চিত্তাকর্ষক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণও বটে। তাছাড়া অন্য এক পরিচালকের ফ্র্যাঞ্চাইজে, ব্যোমকেশ বিষয়ক ছবিতে আবির ও অঞ্জন দত্ত দুইজনকে একসাথে দেখতে পাওয়া বিশাল বড় ভাগ্যের ব্যাপার বটে। তাছাড়া অজিত চরিত্রে ঋত্বিকের স্থলাভিষিক্ত রাহুল কেমন করেন, সেটিও দেখায় বিষয়।

ভিলেন (বাবা যাদব)- এবারের পূজায় এটিই একমাত্র অ্যাকশন-নির্ভর ছবি। প্রায় এক বছর পর নতুন রূপে ফিরছেন অংকুশ। মুম্বাইয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন তিনি। নতুন করে গ্রুমিং করেছেন অভিনয়েরও। ফার্স্ট লুক এবং ট্রেইলারেই তার অভিনয়ের উন্নতি চোখে পড়েছে। তাই অংকুশের আগেকার ছবিগুলোর চেয়ে এটি যে মানের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই ছবির দুর্বল দিক হলো, নির্মাতারা এটিকে অরিজিনাল কাহিনীর ছবি বললেও, অনেকেই ছবিটির সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছেন তেলেগু ছবি ‘জেন্টেলম্যান’- এর। বেশ কয়েকবছর হলো কলকাতার দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রিমেক ছবির উপর থেকে। তাই যারা ‘ভিলেন’- এর অরিজিনালিটি নিয়ে সন্দিহান, তারা হয়ত এই ছবিটিও দেখার জন্য খুব বেশি আগ্রহী হবেন না। তারপরও এই ছবিটির সাউন্ডট্র্যাকগুলো যেভাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছে ইউটিউবের কল্যাণে, তাই ছবিটি নিয়ে একটু হলেও আশাবাদী হওয়াই যায়। তাছাড়া ট্রেইলার দেখে মনে হয়েছে, এ ছবির অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে এমন কিছু নতুনত্ব আছে যার সাথে বাংলা ছবির দর্শক পূর্বপরিচিত নয়। আর অংকুশ-মিমির পর্দার রসায়নও ইতিপূর্বে উপভোগ্য মনে হয়েছে দর্শকের কাছে। সেজন্য এ ছবিটি খুব বড়মাপের হিট না হলেও, পূজার মরসুমে লাভের মুখ দেখা থেকে বঞ্চিত হবে না, এমনটি আশা করাই যায়।

মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি (অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়)- বাংলা ভাষায় রচিত শিশু কিশোরদের জন্য লেখা সেরা সিরিজগুলোর একটি হলো শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘অদ্ভুতুড়ে সিরিজ’। আর সেই সিরিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস হলো ‘মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি’। বাংলাদেশে হয়ত এ উপন্যাসের সাথে অনেকেই পরিচিত নন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এমন শিশু কিশোর কমই পাওয়া যাবে যারা এই উপন্যাসটি পড়েনি। আর তাই শিশু কিশোরদের কাছে এই ছবির প্রতি একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা থাকাই স্বাভাবিক। বড়রাও ছবিটি দেখতে পারে স্মৃতিকাতরতার সুখ লাভের উদ্দেশে। এছাড়া অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের প্রচন্ডরকম সাদামাটা, হৃদয়ছোঁয়া পরিচালনার প্রেমে না পড়ে উপায় নেই। কৌতূহলোদ্দীপক একটি চরিত্রে আবিরের উপস্থিতি, আর শিবপ্রসাদ-নন্দিনীর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত হওয়াও এই ছবির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। তাই আট থেকে আশি সকলের এই ছবি ভালো লাগতে বাধ্য। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছয়টি ছবির মধ্যে এটিরই প্রচারণা হয়েছে সবচেয়ে কম। আর তাই এটি নিয়ে হাইপও তুলনামূলকভাবে কম। নির্মাতারা হয়ত তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকেই ধরে নিয়েছেন যে, পূজায় এরকম একটি পারিবারিক ছবি দর্শক এমনিতেই দেখবে, এর জন্য প্রচারণা মুখ্য বিষয় নয়। তাদের এই ধারণা শেষ পর্যন্ত সত্যি বলে প্রমাণিত হলেই হয়! নতুবা অদ্ভূত সুন্দর একটি গল্প জানা থেকে বঞ্চিত হবে এ প্রজন্মের শিশু কিশোররা।

কিশোর কুমার জুনিয়র (কৌশিক গাঙ্গুলী)- সৃজিতের ছবি নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাইপ থাকতে পারে, কিন্তু গুণগতমানের দিক থেকে কার ছবি এগিয়ে থাকে, এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্লাটা কিন্তু কৌশিক গাঙ্গুলীর দিকেই হেলে পড়বে বেশি। আর সেই কৌশিক গাঙ্গুলীর সাথে যদি থাকেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী, তাহলে আর কী লাগে! ‘এক যে ছিল রাজা’কে টেক্কা দেয়ার মত কোনো ছবি যদি থাকে, তবে সেটি অতি অবশ্যই ‘কিশোর কুমার জুনিয়র’। এক কিশোরকন্ঠী সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রামের কাহিনী উঠে এসেছে এই ছবিতে। এমন কাহিনী নিয়েও যে ছবি হতে পারে, তা কেউ কোনোদিন হয়ত চিন্তাও করতে পারেনি। কিন্তু এমন সব অকল্পনীয় কাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কৌশিক গাঙ্গুলীর জুড়ি নেই। এই ছবির টার্গেট অডিয়েন্স অনেক। কোশিক গাঙ্গুলীর ছবির ভক্ত তো আছেই, সেই সাথে বিশাল ফ্যান ফলোয়িং আছে প্রসেনজিতেরও। কিশোর কুমারের ভক্তরাও হলে যাবে এই ছবিটি দেখতে। কারণ কিশোর কুমারের অনেক জনপ্রিয় গানই জায়গা পেয়েছে এই ছবিতে। সেই সাথে একটি ভিন্ন আঙ্গিকে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ উপভোগ করার লোভেও অনেকেই হলমুখী হবে। সবমিলিয়ে এই ছবিটি দেখতে হলে দর্শকের জোয়ার সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। এবং কৌশিক গাঙ্গুলীর অন্যান্য ছবির মত এই ছবিও যদি দেশে-দেশের বাইরে আরও বেশ কিছু পুরস্কার জেতে, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বুঝতেই পারছেন, পূজা উপলক্ষ্যে কলকাতায় কেমন হাই প্রোফাইল সব ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। এবং এখানে একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয় যে, এই প্রতিটি ছবিই কিন্তু নির্মাণ করা হয়েছে পূজাকে সামনে রেখেই। এবং সেজন্যই ছবিগুলোর বাজেটও তুলনামূলকভাবে বেশি। নির্মাণে বা প্রচারে কোথাও কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। এবার তাহলে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের কথা চিন্তা করে দেখুন তো। কলকাতার মানুষের জন্য যেমন পূজা, আমাদের জন্যও তো রয়েছে ঈদ। কিন্তু সেই ঈদকে টার্গেট করে বিগ বাজেটের, দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কয়টি ছবি বানানো হয়? সংখ্যাটি নিতান্তই কম। এক শাকিব খানেরই তিন চারটি ছবি মুক্তির প্রতিযোগিতা চলে। কিন্তু অন্যদিকে অনেক ভালো ছবিও ঈদে মুক্তি দিতে গিয়ে হল পায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঈদের দুইদিন আগ পর্যন্ত ছবিগুলো সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেতই পায় না। আর ঈদের আগেরদিন রাতেও মানুষকে বিভ্রান্তিতে থাকতে হয়, কোন ছবি কোন হলে চলবে। কলকাতার ছবির সাথে গুণে-মানে টক্কর দেয়ার আগে, এইসব কৌশলগত দিক থেকেও তো সমকক্ষ হওয়া জরুরি। সেটি আমরা কবে হবো?

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close