যারা ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভেতর দিয়ে চলাচল করেন, যারা ভিসি সাহেবের বাড়ির সামনে দিয়ে একদিনও গিয়েছেন তাঁরা দেখেছেন যে ভিসির বাড়ির সামনে সব সময় পুলিশ বসে থাকে। সংখ্যাটা নিশ্চিত নই তবে যতদূর মনে পড়ে ৩ থেকে ৪ জন তো থাকেই। ভিসির বাড়ীর পাশের গলি দিয়ে ফুলার রোড। এখানে আছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, পরে উদয়ন স্কুল।

আমরা যদি আমাদের মাথাটা একটু খাটাই তাহলেই বুঝব যে আন্দোলনকারী ছেলেমেয়েরা ভিসির বাড়ী আক্রমণ করবে না। এই আক্রমণ করবার জন্য একটা তিল পরিমান মোটিভ তো অন্তত লাগবে। তাইনা? ভিসি কি কোটার আড়তদার যে তাঁকে ধরে প্যাঁদানি দিলে কোটা সংষ্কার হয়ে যাবে? সুতরাং কমন্সেন্স এপ্লাই করে এটা বুঝতে পারা যায় যে ভিসির বাড়ী আক্রমণ করে এই তরুন আন্দোলনকারীদের কোনো লাভ নাই।

এর আগেও আমরা দেখেছি শাহবাগে হরতালের আগের রাতে বাসের মধ্যে গান পাউডার দিয়ে কোন “দুই শ্রীমাণ” ১১ জন লোককে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছেন। এসব যে সত্য সেটি আবার আরেক শ্রীমাণ ১/১১ এর ইন্টারোগেশনে পই পই করে বলেছেন। এখনো ইউটিউবে আছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন। সুতরাং জ্বলন্ত আগুনে আলু পোড়া কে কে বা কারা কারা দিতে পারে, এই আন্দোলনকারী তারুন্য বুঝতে না পারলেও আমরা কিন্তু ঠিকি বুঝি।

ভিসির বাড়ী এমন না যে দরজা দিয়ে ঢুকেই উনার ড্রইং রুম। মেইন গেট দিয়ে ঢুকে হেঁটে যেতে হয় উনার বাসায়। বিশাল এক বাসা। কয়েক একর যায়গা নিয়ে। এমন একটা বাসায় পুলিশের সামনে দিয়ে আক্রমণকারীরা ঢুকেছে আর পুলিশ বসে বসে পিউবিক হেয়ার ছিঁড়েছে, ব্যাপারটা কি তাই? তাদের হাতে ওয়াকি টকি ছিলোনা? আর সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, এমন একটা বড় আন্দোলনের সময় আমি সব সময় দেখেছি মিছিলের আশে পাশে পুলিশ ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে ভিসির এত বড় বাড়ীতে ঢুকে, গেট দিয়ে হেঁটে গিয়ে উনার ড্রইং রুম, বাথরুম এগুলো নষ্ট করবে আন্দোলনকারীরা, এটি কি আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?

ফুলার রোডের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এতবড় কান্ড হয়ে গেলো আর পুলিশ একটাকেও ধরলো না, একজন পুলিশও আহত হবার সংবাদ আসলো না, এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ তা আমি এই লেখাটির পাঠকদের ভেবে দেখবার সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাবো। এতবড় বাড়িতে ঠিক এই লেভেলের তান্ডব করতে অনেকক্ষন সময় লাগবার কথা। পুলিশ কি এই সময়ের মধ্যে আসতে পারেনি?

ভিসির বাড়ি ভাংচুর, কোটা বৈষম্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন

এই যে আন্দোলনের ঠিক আগেই প্রথম আলো সহ কয়েকটি পত্রিকা বি এন পির কিছু নেতাদের ১২৫ কোটি টাকা ব্যংক থেকে উঠানোর সংবাদ প্রচার করলেন, তারপর আন্দোলন শুরু হবার ঠিক পর পর ভিসির বাড়ীতে আক্রমনের গল্পের সাথে এই ১২৫ কোটি টাকার কথা বলে সেতু বন্ধন করালেন, পুরোটা দেখেই বুঝতে পারা যায় যে এটা পাকা মাথার কাজ।

আন্দলোনকারী ছেলে মেয়েরা বয়সে তরুন, তাঁরা সততার সাথে আন্দোলনে এসেছে একটা বিশ্বাস ও দাবী নিয়ে কিন্তু তারা ছ্যাঁচরা না। এরা সন্ত্রাসী না। কিন্তু এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েদের ধরে ধরে ভিসির বাড়ীতে আক্রমণকারী বানিয়ে দেয়া হচ্ছে, সব ছাপিয়ে শুধু এইদিকেই কথা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখেই বুঝতে পারি যে আসলে কাজটা কারা করেছে।

এই ভিসির বাড়ির চিত্রনাট্যকে আবার এই অতি উৎসাহীরা ৭১ এর ২৫ শে মার্চের কালোরাত্রির সাথে তুলনা করেছেন। মানে মুক্তিযুদ্ধকে কিভাবে পাঞ্চিং মেশিন বানিয়ে তার থেকে ফায়দা নেয়া যায় তার একটা মহড়াও দেখা গেলো। পুরো মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এই প্রজন্মকে সরিয়ে নেবার পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই না এইসব কথা বার্তা।

আমি শুধু একটা কথাই বলব যে মাথাটা একটু খাটান। ভিসির বাড়ি আক্রমণ করে আন্দোলনকারীদের কি লাভ, কেন তারা করবে, কি মোটিভ, এগুলো ভাবলেই সমাধান বের হবে।

ভাবেন…ভাবেন…ভাবা প্র্যাক্টিস করেন।

Comments
Spread the love