ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর একটা আইডেন্টিফিকেশন কোড দেওয়া হলো। 1213GEN016, যেটা দিয়ে বোঝায় আমি ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়ি এবং আমার ক্লাস রোল: ১৬। সাথে দেওয়া হলো একটা ই-মেইল অ্যাড্রেস, 1213gen016@du.ac.bd।

ই-মেইলে লগইন করার সাথে সাথে পেলাম ওয়েলকাম মেইল, যেখানে স্টুডেন্ট ড্যাশবোর্ডে লগইন করার লিংক। আইডি, পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে দেখলাম, সেখানে আছে আমার সব একাডেমিক ও ব্যক্তিগত তথ্য। Payment History অপশনে দেখাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার করা আর্থিক লেনদেনের তথ্য। আছে নোটিশবোর্ড, ক্লাস রুটিন এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও ছুটির তালিকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি সমাবর্তন

বছর শেষ, সামনে ইয়ার ফাইনাল। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ড্যাশবোর্ডে লগইন করতেই দেখালো- হল, ডিপার্টমেন্ট, পরীক্ষা, জরিমানা ও আনুসাঙ্গিক খরচসহ প্রদেয় টাকার পরিমাণ। কানেক্টেড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়ার একঘন্টার মধ্যেই পেয়ে গেলাম প্রবেশপত্রের পিডিএফ ফাইল।

এক্সাম গন, রেজাল্টের টেনশন অন! জানানো হলো ফলাফল ঘোষণার তারিখ। নির্ধারিত সময়ে ড্যাশবোর্ডে লগইন করে পেয়ে গেলাম রেজাল্ট। প্রত্যেকের ফলাফল যার যার ড্যাশবোর্ডে থাকায় জানা গেলোনা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়া কারো নাম। ভালো ছাত্র-খারাপ ছাত্র বলে শিক্ষকেরা তাই আলাদা নজরে দেখার সুযোগই পেলেন না কাউকে। আর আমরা কেউ পেলাম না হীনম্মন্যতায় ভোগার সুযোগ ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি সমাবর্তন

এভাবে চারটা বছর পার হলো। কিছুদিন পরেই আমাদের সমাবর্তন। সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য স্টুডেন্ট ড্যাশবোর্ডে লগইন করার পর বিগত ৪ বছরের একাডেমিক ও লেনদেনসংক্রান্ত সব তথ্য চলে আসলো। সমস্ত বকেয়া ও সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি ড্যাশবোর্ডে সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট/মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করার পর সমস্ত ফরম ও রশিদের পিডিএফ কপি চলে আসলো। এগুলোর উপর লেখা ‘কাউকে দিয়ে সত্যায়িত করানোর প্রয়োজন নাই’।

এতোটুকু দেখার পরেই ঘুম ভেঙে গেলো, দেখলাম টেবিলের উপর পড়ে আছে সমাবর্তনের ৫ টা ফরম ও রশিদ। ওরা হাসছে, কেবলি হাসছে। আমি শুনছি হল, লাইব্রেরী, ব্যাংক, ডিপার্টমেন্ট আর রেজিস্টার বিল্ডিং এ দৌড়ঝাপের ক্রমাগত শব্দ।

লিখেছেন- রাহাত রনেল, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন-

Comments
Spread the love