২০১১ সালের বড়দিনের মাত্র কয়েকদিন আগের কথা। ইটালিয়ান ৯৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ তার পুরনো চেস্ট অফ ড্রয়ার ঘাঁটছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি কিছু বাতিল কাগজ পেয়ে যান। স্বভাবতই তিনি কিছুটা কৌতুহলী হয়ে পড়েন যে কী কাগজ ওগুলো। তাই কাগজগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে শুরু করেন।

এবং তারপর যা আবিষ্কার করেন, তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। ওগুলো তার স্ত্রীর লেখা চিঠি, লিখেছিলেন তার কোন এক প্রাক্তন প্রেমিককে! এক মুহূর্তও দেরি না করে স্ত্রীকে গিয়ে জেরা শুরু করেন তিনি। এবং তার স্ত্রীও, যার বয়স সেই সময়ে ৯৬, স্বীকার করে নেন যে আসলেই অনেকদিন আগে একবার বিবাহ বহির্ভূত একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতে মন গলে না ওই বৃদ্ধের। স্ত্রীর কাছে ডিভোর্স চেয়ে মামলা পর্যন্ত ঠুকে দেন তিনি।

যেই বৃদ্ধের কথা বলছি, তার নাম অ্যান্টোনিও। আর তার স্ত্রীর নাম রোসা। যেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা বলছি, সেটি প্রায় ৬০ বছর আগেকার। ১৯৪০ সালে ঘটেছিল ঘটনাটি। এতদিন ধরে স্বামীর কাছ থেকে গোপন সত্যটি সযতনে লুকিয়ে এসেছিলেন রোসা। কিন্তু শেষমেষ ধরা পড়ে যেতে হয় তাকে। বারবার স্বামীর কাছে এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। মনে আশা, অ্যান্টোনিও ঠিকই তাকে ক্ষমা করে দেবেন। হাজার হোক, এই মানুষটির সাথেই যে এই এতগুলো দশক এক ছাদের তলায় ঘর করে এসেছেন।

কিন্তু রোসার ধারণা ভুল ছিল। এত সহজে ক্ষমা করবার বান্দা নন তার স্বামী অ্যান্টোনিও। ৬০ বছর আগেকার বিবাহ বহির্ভূত একটি পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে সত্যি সত্যিই ছেদ ঘটে তাদের সম্পর্কের।

১৯৩০ এর দশকে প্রথম দেখা অ্যান্টোনিও ও রোসার। তারপর প্রেম ও বিয়ে। এরপর থেকে প্রায় ৭৭ বছর একসাথে কাটিয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু একদম শেষ বয়সে এসে বাধ সাধে রোসার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যটি। আর তাতেই ভেঙে যায় তাদের সম্পর্ক। অবশ্য তাদের সম্পর্কের যে এটিই প্রথম চিড় ধরা, তা কিন্তু নয়। বছর দশেক আগেও একবার দুইজনের বনিবনা না হলে, রোসাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন অ্যান্টোনিও। উঠেছিলেন এক ছেলের বাসায়।

অবশ্য সেটি মাত্র সপ্তাখানেকের জন্য। পরে সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। অন্তত আপাতদৃষ্টিতে সেরকমটিই মনে হয়েছিল। কিন্তু গোপন চিঠিগুলো সামনে আসাই যেন ছিল কফিনে শেষ পেরেক। আর পারেননি অ্যান্টোনিও। তাই সোজা ডিভোর্সের জন্য মামলা করে দেন তিনি।

অ্যান্টোনিও ও রোসা হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী দম্পতি যারা ডিভোর্সের মাধ্যমে তাদের দাম্পত্যজীবনের বিচ্ছেদ ঘটান। এর আগের রেকর্ডটি ছিল এক ব্রিটিশ দম্পতির দখলে। বার্টি ও জেসি উড ৩৬ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ করে দেন ২০০৯ সালে। ওই সময়ে তাদের দুজনেরই বয়স ছিল ৯৮, আর এটি ছিল দুইজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। ডিভোর্স হয়ে যাবার মাত্র এক বছর পরই বার্টি মারা যান।

Comments
Spread the love