কোন দেশ বা জাতি এমনি এমনি সভ্য-নম্র-ভদ্র হয়ে যায়নি। একটা সিস্টেম আর নিয়মিত সে সিস্টেমের চর্চার মধ্য দিয়ে গিয়ে তবেই হয়েছে। ট্রাফিক আইন না মানায় জ্যাম আর রাস্তায় বোতল-পলিথিন ফেলায় পানি নিষ্কাশন সমস্যা থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তা সত্যিই! কিন্তু এগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া কি? এই সমস্যা সমাধানে আমরা কোন সিস্টেমের চর্চা করবো?

জনসচেতনতা? এর চেষ্টা ও কার্যক্রম বহু বছর ধরেই হচ্ছে, সাফল্য এসেছে? আসেনি। কারণ অনিয়মের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠা আমাদের জন্য জনসচেতনতা একরকম ‘তুলতুলে’ ও ‘নরম’ পদ্ধতি। তাহলে উপায়? শক্ত আইন। আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন! কেমন সে আইন?

হাতের কাছে ডাস্টবিন থাকার পরও কেউ যদি রাস্তায় ময়লা ফেলে তাহলে তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পকেট থেকে ৫০০ টাকার কচকচে নোটটা নিয়ে নিন, পকেটে টাকা না থাকলে বাসা থেকে লোক মারফত আনাতে বলুন। এরপর শহর অপরিচ্ছন্নতার দায়ে ৫০০ টাকার জরিমানার রিসিডটা হাতে ধরিয়ে দিন। সাথে সাথে ছবি তুলে সে ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হোক একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে। ব্যাস! মাসের খরচের টাকা থেকে ৫০০ টাকার নোটটা এভাবে নিয়ে গেলে অন্তত এক মাস এর ব্যাথা কেউ ভুলবে না নিশ্চিত থাকুন। আর যদি ভুলে যায়, তাহলে পরের বার ১০০০ নিয়ে নিন, এভাবে যতবার ভুলে যাবে ততবার দিগুণ নিয়ে নিন। আর আজকাল ফেসবুকে কেউ নিশ্চয়ই নিজেকে এভাবে দেখতে চাইবে না, তাই না?

বড় প্রশ্ন, এত বড় শহরে লাখ লাখ অপরিচ্ছন্নতাকারী ধরবে কে? এত লোকবল কই?

অস্কার পাওয়া এনিমেশন সিনেমা ‘জুটোপিয়া’ দেখার কথা অনেকেরই। না দেখলেও সমস্যা নেই। সিনেমায় খরগোশ অনেক পরিশ্রমের পর পুলিশের চাকরী পায়, তার কাজ হয় ভুল জায়গায় পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া। যত মামলা, সে অনুযায়ী তার বেতন। (কাহিনী ঠিক না থাকলেও এটা নিয়ে গালিগালাজ করবেন না প্লিজ)! আমাদের মেয়রেরাও সে পথে যেতে পারেন, অপরিচ্ছন্নতাকারী ধরলেই জরিমানার এক তৃতীয়াংশ যে ধরবে তার। দেখবেন, পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়বে অপরিচ্ছন্নতাকারী ধরার জন্য। পুলিশে না কুলালে কলেজ-ভার্সিটিতে পড়ুয়া ছাত্রদের নিয়োগ দেন। দিনের অনেকটা সময় তারা ফ্রি থাকেন, তাদের সাময়িক টাকা রুজিরও ব্যবস্থা হলো। এটাতেও না হলে আরও সহজ পদ্ধতি আছে, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মতো ব্যবস্থা নিন। গ্রাহক কোন দোকানীর বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অভিযোগ করলে, এবং সে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার একটা অংশ পাবেন অভিযোগকারী। অপরিচ্ছন্নতাকারীর বিরুদ্ধে তাহলে প্রমান কি? ভিডিও, ছবি! ছবি তুলে বুথে অভিযোগ জমা দিবে, বুথ থেকে টাকা নিয়ে যাবে। (তবে সাবধান! ডাস্টবিন নেই এমন জায়গায় জরিমানা করে বসলে পাবলিক ক্ষেপে গিয়ে দাবড়ানি দিতে পারে।)

গোটা একদিন একটা দেশের রাজধানী পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর যদি মেয়র বলেন, ‘আমাকে কেউ সমাধানের পথ বলেন’। তাহলে আমার সমাধান, গদি ছেড়ে দিন। রাজধানী আর দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহরকে ‘সমুদ্র’ ভেবে প্রতিদিন মজা, মশকরা করা যায় না। এসব বলতে আর ভালো লাগে না, রাগ লাগে। আর ‘ঈদের পর দুর্বার আন্দোলন’-এ নামা দলের লোকেরা ঘুমিয়ে থাকুন, রাজধানী তলিয়ে যাওয়ার পরও যাদের ‘টুঁ’ শব্দ নেই। এমন তথাকথিত বিরোধী দল থাকলে সরকারের এমন হাল তো হবেই!

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-