ক্লাস (Class) অডিয়েন্স আর মাস (Mass)অডিয়েন্সের মাঝে একটা বিভাজন রেখা সবসময়ই টানা হয়ে থাকে উপমহাদেশীয় সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে। একটা অঘোষিত ট্রেন্ড হয়ে গেছে এটি যে ক্লাসি সিনেমা মাস অডিয়েন্সের কাছে পাত্তা পায় না আর মাসি সিনেমা ক্লাস অডিয়েন্সের কাছে নিম্নরুচির পরিচায়ক। অথচ এই ট্রেন্ড কতো হাজারবারই না ভাঙা হয়েছে উপমহাদেশীয় সিনেমাগুলোতে। বলিউডের সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখুন, থ্রি ইডিয়টসের মতো তথাকথিত ‘ক্লাস আপিলিং’ ফিল্ম ভারতের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার খেতাব ধরে রেখেছিল অনেকদিন। গত বছর মুক্তি পাওয়া দাঙ্গাল তো সব রেকর্ডই ভেঙে দিলো এমনকি এখনো ভেঙে চলছে। তখন কে ভেবেছিল ৩ জন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টের জীবনগল্প রিলেট করতে পারবে কোটি কোটি মানুষ আর ভালোবাসা পাবে সর্বস্তর থেকে। কে ই বা ভেবেছিল হরিয়ানার দুই মেয়ে কুস্তীগিরের গল্প তাক লাগিয়ে দেবে (পুরুষশাসিত?) এই পৃথিবীকে। পাশের দেশের কথা বাদ দেই, নিজের দেশের কথাই ধরুন। গত বছর আয়নাবাজির ট্রেইলার দেখে সবাই খুব খুশি, ইন্টেলেকচুয়াল আঙিনায় খুব আলোচনা হচ্ছিল সিনেমাটি নিয়ে। হলমালিকেরাও ভেবে নিলেন একটা নিশ অডিয়েন্সের জন্য এই সিনেমা, যেটাকে অনেক হলমালিক মশকরা করে বলেন “ফেস্টিভ্যাল ফিল্ম”, সেই আয়নাবাজির মুক্তির সময় ২০ টি হল পেতে কাবু হতে হয়েছে। কিন্তু মুক্তির পর দর্শকদের একসেপ্টেন্স আর উচ্ছ্বাস এতোটাই চূড়ান্ত রকমের ছিল যে সারা দেশে সিঙ্গেল স্ক্রিন হোক কী মাল্টিপ্লেক্স সবজায়গায় এই সিনেমার একটা চাহিদা তৈরি হয়ে যায়। মাসের পর মাস দর্শকদের ঢল ছিল সিনেমাঘরে, বাংলা সিনেমাপ্রেমী অনেক মানুষ তো গর্ব করে বলেই ফেললেন যে- এরকম ৩-৪ টা সিনেমা প্রতি বছর মুক্তি পেলে তো দেশের সিনেমাই পাল্টে যায়। খুবই হক কথা, কিন্তু বাস্তব কতটা? যুগ যুগ ধরে চলে আসা এফডিসি কেন্দ্রিক সিনেমা আর ফেস্টিভ্যালকেন্দ্রিক সিনেমার মাধ্যমে আমরা পুরোপুরিই ভাগ করে ফেলেছি আমাদের দর্শকদের। তাদের জন্য মাস+ক্লাস সিনেমা তৈরি করে বছর বছর উপহার দেয়া অলীক কল্পনা তো বটেই। কিন্তু যে লেগ্যাসির শুরু আছে তার শেষটা এতো তাড়াতাড়ি দেখে নেয়া ঠিক না। আয়নাবাজি লেগ্যাসির এক বছর পরই আসলো ঢাকা অ্যাটাকের লেগ্যাসি। কী ছিল ঢাকা অ্যাটাকে যে আমি তাকে ক্লাস+মাস এর সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তকমা দিচ্ছি! কী কী মাস ফ্যাক্টর ছিল আর কী কী ছিল তার ক্লাস ফ্যাক্টর! চলুন জানা যাক…

*

মাস ফ্যাক্টর– এ ঘরানার দর্শকদের সহজবোধ্য একটা গল্পের চাহিদা রয়েছে। ঢাকা অ্যাটাক সেরকমই একটা গল্প উপহার দিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় একের পর এক বোম্ব ব্লাস্ট হচ্ছে আর তার পেছনে কে আছে সে রহস্য উদঘাটন করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে একদল নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা। এ গল্প নিয়েই ‘ঢাকা অ্যাটাক’।

ক্লাস ফ্যাক্টর– এই দর্শকদের গল্পে একটু ভিন্নতার প্রয়োজন। আর যদি গল্পে ব্যতিক্রমী কিছু না থাকে তাহলে গল্পবয়নে তারা সেই ব্যতিক্রমধর্মীতা আশা করে। ঢাকা অ্যাটাকের গল্পবয়ানে সেরকম কিছুই ছিল। বারবার দর্শকের মনে প্রশ্ন জেগে ওঠে- এটা কী করে হল? তার কিছুক্ষণ পরই ঘটনা পরিক্রমায় সে প্রশ্নের উত্তর দর্শক নিজেরাই খুঁজে পায়। এই তৃপ্তিবোধটা তাদের মুগ্ধ করে। গল্পে একটা দীর্ঘ সময় ধরে সবকিছুর পেছনে মূল হোতা কে- এই প্রশ্ন দর্শকের মনে জাগিয়ে রাখা গেছে তাই ক্লাস অডিয়েন্স এতে তুষ্ট হবে।

ঢাকা অ্যাটাক রিভিউ, ঢাকা অ্যাটাক ডাউনলোড লিংক, ঢাকা অ্যাটাক

*

মাস ফ্যাক্টর– মাস অডিয়েন্স নায়কপ্রেমী হয়। কিন্তু নায়িকা না থাকলে যেন নায়কের নায়ক হয়ে ওঠা হয় না। তাই তাদের নায়িকাও চাই। আর সেই নায়িকার সাথে একটা রোম্যান্টিক এঙ্গেল না থাকলে তো আর জমলো না ব্যাপারটা। সেদিক থেকে ঢাকা অ্যাটাক আরিফিন শুভ-মাহিয়া মাহি ও এবিএম সুমন-নওশাবার একটা রোম্যান্টিক এঙ্গেল দেখিয়ে সে অডিয়েন্সদের সন্তুষ্ট করেছে।

ক্লাস ফ্যাক্টর– এই অডিয়েন্সরা গল্প অনুযায়ী রোম্যান্টিক এঙ্গেল দেখতে ভালোবাসে। কপ থ্রিলারে রোম্যান্টিক এঙ্গেল কতোটুকু যায় এ ধরণের প্রশ্ন তাদের মনে উঁকিঝুঁকি দেয়। কিন্তু সেই রোম্যান্টিক এঙ্গেল যখন একজন পুলিশকে রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করাতে, তাদেরও যে আবেগ আছে, তারা কত বড় আত্মত্যাগ করে আসছে সেটি বোঝাতে ব্যবহার করা হয় পরে তখন ক্লাস অডিয়েন্স সেটা মেনে নিতে পারে। কিন্তু নায়কের জন্য নায়িকা লাগবেই এরকম কোন তত্ত্বে তারা বিশ্বাসী নয়। কারণ উপমহাদেশের সিনেমায় বিশেষ করে কপ থ্রিলারে খুব কমই নায়িকারা কোন মিটি রোল পেয়েছে। এখানে নায়িকা মাহিয়া মাহির সাংবাদিক হিসেবে আলাদা একটা সাবপ্লট তৈরি হওয়ায় তার থাকাকে সেটি জাস্টিফাই করেছে।

*

মাস ফ্যাক্টর– একটা নাচাগানা না থাকলে ক্যামনে কী? মাস অডিয়েন্স ৩ টা জিনিসের জন্যই একটা সিনেমা দেখতে যায়। আর তা হল- এন্টারটেইনমেন্ট, এন্টারটেইনমেন্ট এবং এন্টারটেইনমেন্ট। আর সে এন্টারটেইনমেন্টে তারা আশা করে একটা ড্যান্স নাম্বারের। যদিও এই মানসিকতা সিনেমার জন্য ভালো নয় তবুও ভালোভাবে হ্যান্ডেল করলে তা গল্পের জন্য ভালো হয়। ঢাকা অ্যাটাকে ‘টিকাটুলির মোড়ে একটা হল রয়েছে’ গানটি সেরকমই একটি ড্যান্স নাম্বার। অতি পরিচিত এই গানটি নতুন করে, নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করায় একদিকে যেমন ডাবল মিনিং গানের অশ্লীলতার এড়ানো গেছে তেমনি এক চিমটি পরিমাণ কমতি হয়নি মাস অডিয়েন্সের এন্টারটেইনমেন্টের। বরং হলজুড়ে দাপাদাপির অভাব হবে না এই গানে।

ক্লাস ফ্যাক্টর– এরকম ড্যান্স নাম্বার ক্লাস অডিয়েন্সের খুব অপছন্দের। কিন্তু ঢাকা অ্যাটাক টিম সেটি ব্যবহার করেছে খুবই চতুরতার সাথে। গল্পবয়নের মাঝেই ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে সেই গান। আর গানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে অতি পরিচিত একটি ফোক গান। তাই ক্লাস অডিয়েন্সের বিরক্ত হবার প্রশ্নই আসে না, বরং তারাও খুব উপভোগ করবে এই গানটি।

ঢাকা অ্যাটাক রিভিউ, ঢাকা অ্যাটাক ডাউনলোড লিংক, ঢাকা অ্যাটাক

*

মাস ফ্যাক্টর- বাংলাদেশে দুই নায়কের সিনেমার চর্চা তেমন একটা নেই, থাকলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকে, বন্ধু হিসেবে না। আবার থাকলে সিনিয়র, জুনিয়র হিসেবে চরিত্রে গুরুত্বের রকমফের থাকে। কিন্তু এই প্রথম দুই নায়ককে বন্ধু হিসেবে, প্রায় একই স্ক্রিন টাইম দিয়ে ও অভিনয় দিয়ে একে অপরকে কমপ্লিমেন্ট করিয়ে উপস্থাপন করা হল ঢাকা অ্যাটাকে। হয়তো প্রচারনায় আরিফিন শুভ সামনে ছিলেন, কারণ তার ফ্যান ফলোয়িং স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি এবং গল্পেও তার হাত ধরেই কেস শুরু। কিন্তু আরিফিন শুভ ওরফে আবিদ যখন নিজে থেকেই পর্দায় এবিএম সুমনকে সামনে নিয়ে আসেন তখনই বোঝা যায় এখানে সিনিয়র-জুনিয়রের কিছু নেই, কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই কাজ করতে হবে। এই পুরো ব্যাপারটি মাস অডিয়েন্সকে আকর্ষণ করবে।

ক্লাস ফ্যাক্টর– ঠিক একই ব্যাপারটি ক্লাস অডিয়েন্সকেও আকর্ষণ করবে। পাশাপাশি আবিদ-আশফাকের খুনসুটি, একসাথে অপারেশন লিড করা দুই টিমের হয়ে, দুজনে মিলেই দেশকে শত্রুমুক্ত করা সবই ক্লাস অডিয়েন্সকে চমৎকার বন্ধুত্বওবাডি কপ মুভির হালকা স্বাদ দেবে।

*

মাস ফ্যাক্টর– মুভিতে একশন তো মাস্ট থাকতেই হবে। আর কপ থ্রিলারে একশন তো থাকবেই। হ্যান্ড টু হ্যান্ড মারামারি যদিও আমাদের সিনেমায় ঢিশুমাইক মারামারি হয়ে গেছে কিন্তু এখানে অধিকাংশ সময়ই ছিল বন্দুকযুদ্ধ। সোয়াটের আধুনিক অস্ত্র আর তাদের লুক মাস অডিয়েন্সকে মুগ্ধ করবে। বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের বোম্ব নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম নতুন একটা থ্রিলিং অভিজ্ঞতা দেবে এই দর্শকদের।

ক্লাস ফ্যাক্টর– একশন যখন ওয়েল অরগানাইজড ও ওয়েল কোরিওগ্রাফড হয় তখনই এই অডিয়েন্সরা তৃপ্ত হয়। ঢাকা অ্যাটাকের সবগুলো একশন সিনই ওয়েল অরগানাইজড ছিল। ভিএফএক্সে দুর্বলতার অতৃপ্তি এই অডিয়েন্সদের কিছুটা কেটে যায় যখন বোমে কী ধরণের কেমিক্যাল ইউজ হয়েছে সেটা আবিষ্কার হয়, বোম রিমোট ডিফিউজার, রিভার্স সার্কিট- এধরনের টেকনিক্যাল জিনিস চোখের সামনে আনা হয়। যার ফলে অযাচিত মনে হয় না কিছুই। আর একশনগুলো শ্যুট করা হয়েছে অনেক যত্নের সাথে, সিনেম্যাটোগ্রাফিতেও সেসব একশন সিনে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা লোকেশন সিলেকশন দেখেই বোঝা যায়। ক্লাস অডিয়েন্সদের এসব বেশ ভালো লাগবে।

*

মাস ফ্যাক্টর– নায়ককে টক্কর দেয়ার মতো একজন ভিলেন লাগবে। কিন্তু ঢাকা অ্যাটাকে শুধু নায়ককে না বরং পুরো দেশকে ধ্বংস করার প্ল্যান নিয়ে হাজির হয় এক ভিলেন। সে ভিলেনের খোঁজ প্রথম থেকেই থাকে পুলিশের, সাথে দর্শকদেরও। কে হবে সে ভিলেন যাকে দেখে ভড়কে যাবে সবাই? অপেক্ষায় থাকে দর্শক, বলা ভালো অপেক্ষায় রাখে ঢাকা অ্যাটাক। অবশেষে আসে সেই প্রতীক্ষিত ভিলেন, যে এসেই দেখিয়ে দেয় কেন সে সুপেরিয়র বাকি সবার চেয়ে। এই ভিলেনের চালাকি আর বুদ্ধি তাক লাগিয়ে দেবে মাস অডিয়েন্সকে।

ক্লাস ফ্যাক্টর- ভিলেনদের ব্রেইন গেম ক্লাস অডিয়েন্স খুবই পছন্দ করে কারণ অন্তত বাংলা সিনেমায় এরকম কিছু দেখে নি বলতে গেলে কেউই। আর স্যাডিস্ট, সাইকোপ্যাথকে ভিলেইন হিসেবে দেখানো চাট্টিখানি কথা নয়। এক্ষেত্রে ভিলেন চরিত্রে তাসকিন ভালো কাজ করেছেন যদিও প্রথম দিকে অতিঅভিনয় মনে হচ্ছিল, কিন্তু তার স্যাডিস্ট ক্যারেক্টারের কারণে মানিয়ে যায় তা। নতুন ধরণের এই ভিলেন পছন্দ হবে নিশ্চিত ক্লাস অডিয়েন্সদেরও।

ঢাকা অ্যাটাক রিভিউ, ঢাকা অ্যাটাক ডাউনলোড লিংক, ঢাকা অ্যাটাক

*

ক্লাস আর মাসকে এন্টারটেইন করানোর মতো সিনেমা যে বানানো সম্ভব তা দেখিয়ে দিয়েছে আবারও ঢাকা অ্যাটাক। প্রয়োজন শুধু সেরকম একটা গল্পের ও তারপর প্রপার ট্রিটমেন্টের। কিন্তু আমাদের সিনেমার গল্পের লেখকরা হয় লিখছেন এমন কিছু যা মানুষ আগেও দেখেছে বারবার, নতুন মশলা যোগ করে শুধু স্বাদ পরিবর্তন করা হয়েছে আর নয়তো এমন কিছু লিখছেন যা বড় একটি অংশের দর্শকদের মাথার আধহাত ওপর দিয়ে যাচ্ছে। বাংলা সিনেমার ক্রাইসিস একটি লং টার্ম ক্রাইসিস, তাই এরকম ক্লাস ও মাস ফ্রেন্ডলি সিনেমা বছরে বেশ কয়েকটি দরকার। একদিকে যেমন তা বাংলা সিনেমার কোয়ালিটি নিশ্চিত করবে নতুন গল্প আর ভালো অভিনয় দিয়ে অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শত শত হল আবারও ফিরে পাবে তাদের পুরনো জৌলুস, দেশজুড়ে মানুষের প্রধান বিনোদন মাধ্যম হবে বাংলা সিনেমা। সেদিনের স্বপ্ন দেখার পথে নিশ্চিতভাবেই ‘ঢাকা অ্যাটাক’ অনেক বড় পদক্ষেপ। ধন্যবাদ জানবেন সানী সানোয়ার ও দীপঙ্কর দীপন; থ্রিলিং পয়েন্টের ঢাকা অ্যাটাক হয়ে ওঠার গল্প আরও মানুষ জানুক, সিনেমায় আপনাদের পাসিং শটের লিস্ট যেন আরও বড় হয়, ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিমে হোক আরও বড় কিছু-ভিন্নতা আসুক, সেই কামনাই করি। মাসের-ক্লাসের বিভেদ মিটিয়ে সিনেমা হয়ে উঠুক দর্শকের, যে সিনেমার ভাষা সকলেই একবাক্যে বোঝে। ভালো সিনেমা পাওয়া যেমন আমাদের অধিকার, তেমনি ভালো সিনেমাকে বড় সিনেমা বানানো আমাদের দায়িত্ব। চলুন সবাই হলে গিয়ে ভালো সিনেমাকে উৎসাহিত করি আর বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আবার নতুনভাবে গড়ি।

Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-