# ৬ মার্চ ঢাকা অ্যাটাক রিলিজের ৫ মাস (১৫০ দিন) পূর্ণ হয়ে ষষ্ঠ মাসে পড়লো। এসপ্তাহের দেশের ৫টি হলে চলছে ঢাকা অ্যাটাক। এটা হয়েছে দর্শকদের ভালবাসার কারণেই। অনেকে পূর্বানুমান করে বলেছিল এই সিনেমা চলবে না। কিন্তু সিনেমার নতুন দর্শকের উপর ভীষন বিশ্বাস রেখে সৎভাবে আমরা ঢাকা অ্যাটাক বানিয়ে ছিলাম, তারা সেই বিশ্বাসের প্রতিদান ভালবাসা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রমাণ করে দিয়েছে নতুন ধরণের সিনেমা হলে, মানুষ কষ্ট করে হলেও সিনেমা হলে এসে সিনেমা দেখে। সিনেমাকে সফল করায়।

# ডিপজল ভাই শাহরিয়ার নাজিম জয় ভাইয়ের অনুষ্ঠানে যখন খুব জোর দিয়ে বলছিল- মিডিয়ার নির্মাতাই সিনেমার সর্বনাশ করেছে, কোথাও এতটুকু সফল হতে পারেনি। জয় ভাই অন্যান্য সফল সিনেমা গুলোর উদাহরণ দেবার সময় সব উড়িয়ে দিচ্ছিলেন, তিনিও ঢাকা অ্যাটাকের নাম শুনে খানিক থেমে বলেছিলেন, একটা হয়েছে এটাতো ব্যতিক্রম, ঢাকা অ্যাটাক দিয়ে কি উদাহরণ চলে? ডিপজল ভাই সিনেমা ব্যবসার সাথে পুরোপরি জড়িত একটা মানুষ, সত্যটা তার কাছে যায় ব্যবসার খাতিরেই।

# কলকাতার এই সময় পত্রিকার ভাস্বতী ঘোষ ঢাকা অ্যাটাক সিনেমাটিকে উদাহরণ টেনে একটি লেখায় লিখেছিলেন- যৌথ আর বিনিময়ের অনেক সম্ভাব্য সফল সিনেমা যখন ব্যর্থ হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশ দেখিয়েছে ঢাকা অ্যাটাক দিয়ে- কিভাবে সফল হতে হয়।

# কয়েকদিন আগে মনিহার সিনেমাহলে গিয়েছিলাম। ম্যানেজার কাম একাউনটেন্ট তোফাজ্জ্বল ভাই বলছিল- ভাই আমি ২১ বছর এই সিনেমা হলে। ঈদ ছাড়া কোন সিনেমা ব্যবসা যে এত হতে পারে আমি শেষ করে দেখসি, মনে করতে পারছি না। গত বছর ঢাকা অ্যাটাক আর নবাব না হলে অনেক সিনেমা হলে বন্ধ হয়ে যেত ভাই।

# কলকাতায় এক প্রযোজনা সংস্থার অফিসে বসে আছি। অপেক্ষা করেছি একজনের, তখনও পরিচয় হয়নি। আমি কখনো আগ বাড়িয়ে পরিচিত হতে পারিনা। বাংলাদেশের একটি প্রডাকশনে প্রি-প্রডাকশন মিটিং চলেছে। নাক মুখ কুচকে বলছে – বাংলাদেশের সিনেমাকে তো আমরাই স্মার্ট করলাম। বাংলাদেশের সিনেমা কী ছিল- আর আমরা কী করলাম, আমাদের নির্মাতা ছাড়া ওদের সিনেমা কি চলে? আমি বললাম, ভাই থামেন।বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলার আগে একটু জেনে কথা বললে ভাল না? যে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল- সে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল- উনি ঢাকা অ্যাটাকের পরিচালক। আরেকজন তখন বলে উঠল- ঢাকা অ্যাটাকের সফলতার কথা তো সবার জানার কথা। আমি আয়নাবাজির কথা মনে করিয়ে দিলাম। যিনি বলছিলেন- তার কী একটা জরুরী কাজ মনে পড়ে গেল- উঠে গেলেন। বলল আসছি- আরো ২৫ মিনিটি ছিলাম তিনি আর আসেননি। হা হা হা ।

# কলকাতার জিও ফিল্ম ফেয়ারে গেছি। অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে সেখানের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীর । সবাই জানে ঢাকা অ্যাটাকের কথা। বাংলাদেশের ছবি, বাংলাদেশী অভিনয় শিল্পীদের ছবি, বাংলাদেশে শ্যুটিং হওয়া ছবি; সবচেয়ে বড় ব্যাপার বাংলাদেশের পরিচালকের ছবি। কিছু কারিগরী সুবিধা ওদের ওখান থেকে নেয়া হয়েছে- তাতে ওদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। সে তো শাহরুখ খানও সিনেমা করার সময় হলিউডের হেল্প নেয়।

# ঢাকা অ্যাটাকে ব্যবসা সফলতা নিয়ে জানতে চান, আমার সাথে যোগাযোগ করুন, অনেক ফাঁক-ফোকড় আছে – কাগজ কলম নিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে। একটা কথা বলি- সেদিন বাংলাদেশের সিনেমার খুর কোর মানুষদের সাথে কথা হচ্ছিল। তারা বললের, ঢাকা অ্যাটাক প্রমাণ করে দিয়েছেন, ৬/৭ কোটি টাকা খরচ করে সিনেমা বানানোর মত দর্শক আমাদের আছে- এই সিনেমা হলে কাঠামোতেই ৭/৮ কোটি টাকা প্রডিউসারের কাছে আসা সম্ভব, আর টিকেটের দাম ভারতের মত বেশি হলে, পরিমাণটা আরো বাড়বে। দুঃখ, সেটা আমরা পাইনা, বিপনণ ব্যবস্থার নানা ফাঁকের কারণে। সেই ফাঁক গুলো সম্মিলিত ভাবে আমাদেরই দূর করতে হবে। সারা বিশ্ব সিনেমার আয় বুঝতে গ্রসটা বোঝে, শুধু আমরাই ১০০ টাকায় ১২ টাকা দেখি। ভারতের মতো আমরা যদি ১০০ টাকায় ৪০ টাকা দেখতাম, আর দুই আড়াই কোটিতে টিভি রাইটস বেচতে পারতাম (আমাজন অভিযান এই দামেই টিভি কিনেছে), তাহলে আমাদের বাজারের শক্তিটা ফিল করতে পারতাম। এটা আমরা ফিল করতে পারলেই আর সিনেমা টিকেট বিক্রির ন্যায্য টাকা টা প্রডিউসারের ঘরে আসতে পারলেই- বুকের পাটা বড় হয়ে যাবে। কারণ কর্মশিয়াল সিনেমায় ব্যবসাই বড় জোর ।

# ঢাকা অ্যাটাক সত্যিকারের সবার সিনেমা। আমি মন থেকে বলছি এর সফলতার কৃতিত্ব বাংলাদেশের, প্রবাসী বাঙ্গালিদের। সবার ভালবাসা না থাকলে ঢাকা অ্যাটাক এই পথে আসতে পারতো না। দর্শক আর মিডিয়ার ব্যপক সাপোর্ট আমাদের কিন্তু একটা সংকেত দিয়েছে দেশপ্রেম আমাদের এখনও সবচেয়ে বড় চেতনার অংশ। শুধু এই দেশেপ্রেমকে বুকে ধারণ করেই বাংলা সিনেমার নতুন দিক শুরু হতে পারে।

আমি অবনত মস্তকে সবার ঋণ স্বীকার করছি। আমি বাংলাদেশের সিনেমার জন্য অনেক পরিশ্রম করি, করে যাব। বাংলাদেশের সিনেমাকে একটা শক্ত জায়গায় নেবার জন্য ও ভবিষ্যতের নির্মাতা তৈরীর জন্য কাজ করে যাব। অন্যান্য অনেক মেধাবী নির্মাতার পাশে দাড়িয়ে আমিও আমার যথাসাধ্য দিয়ে বাংলা সিনেমার জন্য। সবার কাছে দোয়া চাইছি, আমি যেন আমার পরিবার নিয়ে ভাল থাকতে, অনেক পরিশ্রম করার মত সুস্থ থাকতে পারি, তাহলেই হবে। ইন্ডাস্ট্রী আমাকে অনেক দিয়েছে, আমি আর কিছু চাই না। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই।

-দীপঙ্কর দীপন, পরিচালক, ঢাকা অ্যাটাক।

Comments
Spread the love