অভিনেত্রী তাজিন নাকি খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন শেষের দিকে। কারো সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ ছিল না তাজিনের। খুব অল্প কিছু মানুষের সঙ্গেই কথাবার্তা হতো তার, হয়তো মানুষের প্রতি কোন অভিমান কাজ করতো তার মধ্যে। 

লিনকিন পার্কের ভোকাল চেষ্টার বেনিংটনের স্ত্রী ছিল, আদরের সন্তান ছিল। তবুও তিনি একাকিত্বে ভুগতেন। ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারের রোগী ছিলেন। বেনিংটনের টাকা ছিল, পরিবার ছিল, সন্তান ছিল। কিন্তু মনে শান্তি ছিল না।

আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস যেদিন সুইসাইড করলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। কারণ এই মানুষটা আজীবন মানুষক হাসিয়েছেন। তার চেহারাতেই কেমন একটা সুখী সুখী ভাব ছিল। দেখলেই মন ভালো হয়ে যেত। তারও স্ত্রী-সন্তান ছিল। তারপরও তিনি ডিপ্রেশনে ছিলেন। বেল্টের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন।

মহেশ ভাটকে কফি উইথ করণে করণ জোহর প্রশ্ন করেছিলেন শাহরুখ খান সম্পর্কে এক লাইনে কিছু বলতে। মহেশ ভাট বলেছিলেন,

এন আউটসাইডার এন্ড লোনলি।

আবার শাহরুখও একই কথা একটি সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘এই যে আমার এত টাকা, একটা সাম্রাজ্য। এই পরিবার। কিন্তু তবুও আমার যখন খুব খারাপ লাগে, আমি বাথরুমে একা একা বসে কাঁদি। তখন মনে হয় আমার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শুন্যতা বিরাজ করছে।’

আমি এই সুপারস্টারদের এই একাকীত্ব নিয়ে অনুভূতিগুলোকে খুব ক্লোজলি অবজার্ভ করে একটা জিনিস আবিস্কার করেছি। সেটা হলো- মনের শান্তির সাথে টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি, ফেম, নাম-ধাম এসবের কোন সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ, এগুলো মূল্য রাখে। বাট এগুলো সেকেন্ডারী এলিমেন্ট।

আমি সত্যি বলতে প্রকৃত মনের শান্তি আছে এমন মানুষ দেখেছি আমার দাদাকে। ছেলে মেয়ে মানুষ করেছেন। অবসর জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। আর কোরআন শরীফ পড়তেন। এই দুইটা নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতেন। স্রষ্টার আরাধনা করাটাই তার উদ্দেশ্য ছিল। এ কারণে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উদ্দেশ্যহীন ছিলেন না। একাকী ছিলেন না। একটা লক্ষ্য ছিল তার। আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার। আবার আমার দাদা যখন মারা গেলেন, আমার দাদী এই নামাজ আর কোরআন শরীফকে আঁকড়ে ধরে বাকিটা জীবন পার করে দিলেন। একাকীত্ব, ডিপ্রেশন এসব উনাকে স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ তিনি স্পিরিচুয়ালি ডেডিকেটেড ছিলেন।

যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে, কথাটা আমরা ফান করে বলি। আসলে কথাটার ওজন অনেক। আল্লাহকে আসলেই দরকার হয়। এই টাকা-পয়সা-ধন-দৌলত-বাড়ি-গাড়ি একটা পর্যায়ে যেয়ে আর কোন মূল্য রাখে না। তখন নিজের আত্মাকে শান্তি দিতে, একটা উদ্দেশ্য দিতে বিধাতাকে দরকার হয় এবং বিধাতা আছেন। আমাদের ভেতরেই আছেন।

কথাটা সম্ভবত বাইবেলের, ম্যাথিউর। সিক ইয়া শেল ফাইন্ড। স্রষ্টাকে খুঁজো, পাবে।

লিখেছেন- ওয়ারিশ আজাদ চৌধুরী

Comments
Spread the love