সিনেমা হলের গলি

‘আমি চঞ্চল ভাইয়ের কাজে খুবই সন্তুষ্ট’

পরিচালক হিসেবে আগামীকাল অভিষেক হচ্ছে তার, প্রথম সিনেমাটাই হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে, সেখানে আবার মিসির আলিও আছেন! একেবারে অগ্নিগর্ভ অবস্থা যাকে বলে! বলছি দেবী সিনেমার পরিচালক অনম বিশ্বাসের কথা, অভিনেত্রী জয়া আহসান নিজের প্রযোজিত প্রথম সিনেমায় যার ওপরে ‘বিশ্বাস’ রেখেছেন। দেবী নিয়ে কথা বলতে অনম বিশ্বাসের মুখোমুখি হয়েছিল এগিয়ে চলো, ঘন্টাব্যাপী আড্ডায় লাজুক এই মানুষটা শোনালেন দেবীর গল্প, সেইসঙ্গে নিজের স্বপ্নের গল্পও…

** দেবী নিয়ে তুমুল প্রচারণা চলছে, জয়া আহসান থেকে চঞ্চল চৌধুরী বা শবনম ফারিয়া, ইরেশ জাকের- সবাইকেই আমরা দেখছি। কিন্ত এত প্রচারণার ভিড়ে পরিচালককে কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?

– এখানে আসলে দুটো ঘটনা আছে। প্রচারণা চলাকালে বড় একটা সসময় ধরে আমি কলকাতায় ছিলাম, পোস্ট প্রোডাকশনের কাজে। একারণে থাকা সম্ভব হয়নি। আর দ্বিতীয় কারণ যেটা, আমি আসলে একটু নার্ভাস অবস্থায় আছি, প্রথম সিনেমা তো। সেই জিনিসটা আমি প্রকাশ হতে দিতে চাইছি না, সত্যি কথা যেটা। এ কারণেই জনসমাগম থেকে একটু দূরে থাকা। দর্শকদের রি-অ্যাকশনটা দেখার আগ পর্যন্ত আমি গুহা থেকে বেরুতে চাচ্ছি না।

** যে মানুষটা এত লাজুক, এত ক্যামেরা শাই, তার ক্যারিয়ারের শুরুটা তো হয়েছিল ক্যামেরার সামনেই, ‘সিক্সটি নাইন’ বা ‘অভূতপূর্ব’ নাটকে অভিনয় দিয়ে?

– হ্যাঁ, সেটা আসলে আলাদা একটা প্রেক্ষাপট। আমাকে যদি আমার রোলটা ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আমার জন্যে কাজটা সহজ হয়ে যায়। কিন্ত প্রমোশনাল ব্যাপারগুলোতে আগে থেকে জানা যায় না যে কি করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। আগে থেকে জানলে অনেক কিছুই করা ইজি হিয়ে যায়।

** আমাদের দেশে যারা ফিল্ম বানান, তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে টিভিসি দিয়ে শুরু হয়, তারপর কয়েকটা নাটক বানিয়ে তারা সিনেমায় আসেন। আপনি অভিনয় দিয়ে শুরু করেছেন, টিভিসি বানিয়েছেন, তারপরে ডুবসাঁতার আর আয়নাবাজিতে কাজ করার পরে সরাসরি সিনেমা বানিয়ে ফেলেছেন। কোথাও কি মনে হচ্ছে যে একটু রিস্ক নেয়া হয়ে গেল?

– রিস্ক তো অবশ্যই। এই ব্যাপারে কোন সন্দেহই নেই। লম্বা একটা জিনিসের দাথে ডিল করাটা অনেক কঠিন। দেড় দুই মিনিটের একটা টিভিসি আর দুই ঘন্টার একটা ফিল্মের মধ্যে তো আকাশ পাতাল পার্থক্য। তবে শুধু নাটক বানিয়ে এলেই যে সিনেমা ভালো বানাতে পারবেন, এরকম কিন্ত কোন ফর্মূলা নেই। তাহলে অভিজ্ঞ পরিচালকদের কোন সিনেমাই কখনও ফ্লপ হতো না। সবচেয়ে ভালো লেখকের কি খারাপ কোন কবিতা নেই? সবচেয়ে ভালো পরিচালকের কি বাজে কোন সিনেমা নেই? নিশ্চয়ই আছে। সবচেয়ে ভালো অভিনেতার কি কোন খারাপ সিনেমা নেই? আছে।

** পরিচালক হবার ইচ্ছেটা কি শুরু থেকেই ছিল?

– না, সেটা শুরু থেকে ছিল না। যেহেতু আমি লেখার ব্যাপারে একটু বেশি এক্সপেরিয়েন্সড, অন্য সবকিছুর চাইতে, তাই ভাবছিলাম যে, জিনিসগুলো আমি যেভাবে ভিজ্যুয়ালাইজ করি, ডিরেক্টর সেটা একদম হুবহু অনুসরণ করে না, কারন তার ভিজ্যুয়ালাইজটা হয়তো একটু অন্যরকম। তারও তো একটা নিজস্বতা আছে। সেখান থেকেই পরিচালনা করার ইচ্ছেটা জন্ম নিলো আস্তে আস্তে।

** পরিচালক হিসেবে প্রথম সিনেমাটাই হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নিয়ে। এটা তো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটাকে কিভাবে সামলেছেন আপনি?

– হুমায়ূন আহমেদের কোন উপন্যাস যে পড়েনি, সেই লোকও দেবী’র নাম জানে। মিসির আলির নাম জানে। সেই জায়গা থেকে দেবী নিয়ে কাজ করাটা তো অবশ্যই একটা চাপ ছিল। তার ওপরে আমাদের এখানে সিনেমার স্ক্রীনপ্লে-তে খুব বেশি মনযোগ দেয়া হয় না, আর আমি উপন্যাসটার স্ক্রীনপ্লে’র পেছনেই সবচেয়ে বেশি সময় খরচ করেছি। বইয়ের পাতা থেকে উঠিয়ে এনে এটাকে সিনেমায় কিভাবে রূপ দেয়া যায়, এটা ভাবতেই সময় গেছে অনেক। আর যেহেতু এটা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস, এবং আমি তাঁর খুব বড় একজন ভক্ত, আমি কখনও চাইনি যে আমার কাজের মাধ্যমে তাঁর কোন অসম্মান হোক। গল্পটার কোন বিকৃতি ঘটুক, এটাও চাইনি আমি। তাই এই ব্যাপারগুলো খুব সাবধানে করতে হয়েছে। আর জয়া আহসান এবং চঞ্চল চৌধুরীর মতো অভিনেতাদের পাওয়ায় কাজটা একটু সহজ হয়েছে আমার জন্যে।

** আশির দশিকের একটা উপন্যাসকে এই ২০১৮ সালের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করাটা কতটুকু চ্যালেঞ্জের ছিল? এখানে নিশ্চয়ই চিঠি থাকবে না, ফেসবুক বা অন্যকিছু থাকবে…

– এই যে আশির দশক থেকে আমরা ২০১৮-তে আসবো, এই সিদ্ধান্ত নেয়াটাই সবচেয়ে বেশি সাহসের কাজ ছিল। ২০১৮-তে এলে কি হবে, না এলে কি হবে, এগুলো নিয়ে আমাদের অনেক ভাবতে হয়েছে। কিন্ত এটাকে যে আশির দশকের আঙ্গিকেই পিরিয়ডিক ফিল্ম হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, এরকম কোন শক্ত লজিকও আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

** আর আশির দশকের সেই আবহটা রাখতে গেলে বাজেটেরও একটা ব্যাপার থাকে…

– বাজেট তো অবশ্যই একটা ইস্যু ছিল। তবে আমি কখনও বাজেটের ব্যাপারে কথা বলি না, কারণ এটার ঘাড়ে দোষ চাপানোটা সবচেয়ে সহজ। তবে বাজেটের জন্যেই আমাদেরকে অনেক কিছু কনসিডার করতে হয়। কিন্ত সেটার ঘাড়ে দোষটা চাপাতে চাই না। তবে আমরা কিন্ত সেই সময়ের যে আবহটা, সেটা পুরোপুরি নষ্ট করিনি। আশির দশকে ঢাকার রাস্তায় আধমাইল দূর থেকে আইসক্রীমওয়ালার ঘন্টা শোনা যেতো, দুপুরে লোকজন খেয়েদেয়ে ভাতঘুম দিতো। এই ব্যাপারগুলো এখন নেই, কিন্ত আমরা এই আবহটা রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জটা আসলে ডিসিশান মেকিঙেই ছিল।

** দেবীর প্রযোজক হিসেবে আছেন জয়া আহসান। আমরা একটা কথা শুনি যে, প্রযোজকেরা সবসময় একটু ডমিনেট করার চেষ্টা করে। আপনি কি সেরকম কিছুর মুখোমুখি হয়েছেন, নাকি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছেন?

– পরিচালকের জায়গা থেকে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনতাই পেয়েছি। তবে পরিচালকের ভিশন আর প্রযোজকের ভিশন। দুটো তো অনেক জায়গায় আলাদা হবেই, যেহেতু মানুষ দুজন। আর যেহেতু এটা হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে একটা কাজ, মিসির আলি আছেন এখানে, খুবই সেনসেটিভ একটা ইস্যু। প্রত্যেকটা জিনিস তাই বারবার খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে কোন খুঁত না থাকে।

** প্রযোজক জয়া আহসানের কোন ব্যাপারটা আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে? যেহেতু প্রযোজক হিসেবে এটা তার প্রথম কাজ, এবং আপনিই তাকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন।

– আমি তো আগে সেভাবে প্রযোজকদের সাথে কাজ করিনি, তাই আমার জন্যে কম্পেয়ার করাটা টাফ। তবে ও খুব প্যাশনেট তার কাজ, তার প্রোজেক্টটা নিয়ে। এটা একটা বড় গুণ ওর। আর ফিল্মটা আরেকটু ভালো, আরও একটু ভালো করার জন্যে যা যা করা দরকার, সামর্থ্যের মধ্যে তিনি সবকিছুই করেন।

** ইরেশ জাকের বলেছিলেন, বারবার ডাবিং করতে করতে নাকি তিনি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। নিজের প্রথম সিনেমাতেই অনম বিশ্বাস পরিচালক হিসেবে এত খুঁতখুঁতে?

– এট আসলে প্রথম কাজ বা দ্বিতীয় কাজের কথা না। উনার ক্যারেক্টারটা খুব ক্রিটিক্যাল ছিল তো, ক্যারেক্টার ট্রান্সফর্ম হয়ে প্রেমিক থেকে সাইকো হয়ে যাচ্ছে, এই জায়গাগুলোতে ভয়েজ অ্যাক্টিংটা খুব কঠিন ছিল। সেই জায়গাটাতে আমরা সম্ভাব্য সেরা কাজটাই করতে চেয়েছি। বারবার করে খুঁত যতটা পারা যায় কমানো।

** দেবী সিনেমায় বারবার বলা হয়েছে যে, নীলু চরিত্রটি দেখতে খুব একটা সুন্দরী নয়, এবং এটা নিয়ে একটা হীনমন্ম্যতায় সে ভোগে। কিন্ত সিনেমাতে নীলু ক্যারেক্টারটি যিনি করছেন, সেই শবনম ফারিয়া তো অনেক সুন্দরী। এই বিষয়টি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

– নীলু যে সুন্দরী নয়, এটা কিন্ত তার নিজের ধারণা। একটা মানুষের নিজের চেহারা নিয়ে কনফিডেন্স থাকতে পারে, না’ও থাকতে পারে। আমার মনে হয় এটা একটা সাইকোলজিক্যাল ঘটনা। সিনেমায় আমরা আসলে এভাবে ঘটনাটা দেখাইনি, একটু অন্যভাবে দেখিয়েছি। একটু লোনলি, একটু ইন্ট্রোভার্ট, বা এ ধরণের। সেটা সিনেমা দেখলেই বোঝা যাবে, এখনই বলে দিলে মজাটা থাকবে না।

** আমাদের এখানে অনেক বিখ্যাত পরিচালকই আছেন, প্রথম সিনেমা দিয়ে বাজিমাত করেছেন, কিন্ত দ্বিতীয় বা পরের সিনেমাগুলো আসতে অনেকটা দেরী হচ্ছে। অনম বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও কি এমনটা হবে? নাকি তিনি নিয়মিত সিনেমা করে যাবেন?

– আমার মনে হয়, নিয়মিত সিনেমা বানানোর মতো পরিস্থিতি থাকলে সেটা বানানোই যায়। সবাই বানাবে।

** পরিস্থিতিটা কেন নেই বলে মনে হয় আপনার? জয়া আহসানের মতো প্রযোজক নেই বলে?

– ভালো প্রযোজক তো অবশ্যই একটা বিশাল ব্যাপার। এখন অনেকেই আসছেন, কিন্ত আমাদের অনেক বেশি সংখ্যক ভালো প্রযোজক দরকার। দিনের শেষে এটা তো একটা বিজনেস। অন্যান্য বিজনেসের মতোই এখানে টাকা লগ্নি করা এবং বাজার থেকে সেটা তুলে আনার পুরো যে প্রোসেসটা, সেখানে কাউকে ইনভলভ থাকতে হয়। আমি অবশ্যই সিনেমা বানাতে চাই, আর সিনেমা না বানালেও আমি গল্প বলে যেতে চাই। আর শুধু যে দর্শকদের ভালো লাগানোর জন্যেই যে কাজ করতে চাই এমনটা না, যে কাজটা করবো, সেটা আমারও ভালো লাগতে হবে।

** দেবীর পরে হুমায়ূন আহমেদের অন্য কোন উপন্যাস অবলম্বনে যদি ছবি বানানোর দায়িত্ব পান, কোন গল্প বা উপন্যাসটা বেছে নেবেন?

– নিশিথিনী। আর মিসির আলির বাইরের কোন চরিত্র হলে অবশ্যই হিমু। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের এই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে হিমু চরিত্রটাকে আমাদের খুব প্রয়োজন। আমার এখন অনেক উন্নত, অনেক ইন্টেলিজেন্ট। তবে স্পিচুরিয়ালি আমরা আমরা সেভাবে উন্নত না এখন। হিমুর চরিত্রটার ভেতরে অনেক ডায়মেনশন আছে, সে মহামানব হতে চায়, কখনও আবার মনে হয় যে সবকিছুই মকারি। কিন্ত তার মধ্যে সব মিলিয়ে একটা ম্যাজিক্যাল এলিমেন্ট আছে। এই কারণে আমার মনে হয় হিমুকে খুব দরকার। তবে এই চরিত্রটাকে সিনেমায় পোট্রেইট করাটা খুব কষ্টকর হবে। 

** আয়নাবাজির চিত্রনাট্যকার ছিলেন আপনি, দেবীর পরিচালকও আপনি। দুই জায়গাতেই চঞ্চল চৌধুরী আছেন। তার মধ্যে কি কি পরিবর্তন লক্ষ করেছেন?

– চঞ্চল ভাইয়ের সাথে আমাদের প্রথম কনভার্সেশন যেটা, সেটাতেই ছিল যে, এটা আয়নাবাজির কোন চরিত্র হবে না। উনিও সেটা জানতেন যে, আয়নাবাজির কোন ক্যারেক্টারের সাথেই মিসির আলির কোন মিল নেই। এটা খুবই ডায়ন্যামিক একটা ক্যারেক্টার, এবং আমি চঞ্চল ভাইয়ের কাজে খুবই সন্তুষ্ট। অনেকে বলবে, মিসির আলির দাড়ি নেই কেন। এখন চঞ্চল ভাইয়ের দাড়ি এটাই সর্বোচ্চ, আমরা চাইলে নকল দাড়ি ইউজ করতে পারতাম, আমরা সেটা করিনি, অথেনটিক রাখতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, মিসির আলির মূল জিনিসটা হচ্ছে তার এসেন্স। সেটা চঞ্চল ভাইয়ের মধ্যে পাওয়া যাবে পুরোপুরি।

** যার উপন্যাস অবলম্বনে দেবী নির্মিত হচ্ছে, সেই হুমায়ূন আহমেদ নেই। তাকে দেবী দেখাতে না পারার আক্ষেপটা কতটুকু কাজ করে?

– অবশ্যই, এটা তো থাকবেই। উনি যদি এটা দেখতে পেতেন, তারচেয়ে চমৎকার তো আর কিছু হতেই পারতো না। আমাদের জেনারেশনের সবার ভেতরেই তো তার উপস্থিতিটা আছে। জোছনা দেখা, বৃষ্টিতে ভেজা, প্রেম করা, সবকিছুই আমরা তার গল্প-উপন্যাস থেকে শিখেছি। তার ফিডব্যাকটা অবশ্যই ভালো লাগতো সেটা ভালো হোক কিংবা মন্দ।

** যারা দেবী পড়েছেন, যারা দেবী পড়েননি, এবং যারা দেবী দেখবেন, তাদের সবার উদ্দেশ্যে পরিচালক হিসেবে কি বলবেন?

– আমি একটা কথাই বলবো, সবার আগে আমি হচ্ছি হুমায়ূন আহমেদের পাঠক। পরিচালক হওয়াটা তো অনেকটা কাকতালীয় ব্যাপার। উপন্যাসটা যখন পড়েছি, তখন তো আর জানতাম না যে আমি একদিন এটা পরিচালনা করবো। যারা দেবী পড়েছেন, তাদের বলবো, আপনারা আসুন, সিনেমাটা দেখুন। আপনাদের কল্পনার সাথে কি মেলে আর কি মেলে না সেটা দেখে যান। তাহলে কথা বলার জায়গাটা থাকে। আমিও তো একজন পাঠক, একজন পাঠকের সাথে আরেকজন পাঠকের কল্পনার মিল-অমিক কতটুকু, সেটা নিয়েই কথা হোক। ভালো লাগা, খারাপ লাগা, সবকিছুকেই ওয়েলকাম। কারণ হুমায়ূন আহমেদের পাঠক হিসেবে প্রত্যেকেরই সেই অধিকারটা আছে।

আর যারা সিনেমাতে কাজ করেছে, সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। বাংলাদেশী সিনেমায় তো এরকম গল্প নিয়ে আগে কখনও কাজ হয়নি। এমনকি হুমায়ূন আহমেদ বা দেবী যারা পড়েনি, তাদেরকে আকর্ষণ করার জন্যেও যথেষ্ট রসদ এই সিনেমায় আছে। প্রত্যেকের মাথার দেবীর ভার্সনের সাথে হয়তো মিলবে না, তবে এটা এমন একটা ভার্সন, যেটা সবাইকেই হয়তো টানতে পারে।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close