১. 

১৯৪৩ সাল, কলকাতার রাস্তায় অনাহারী মানুষের ঢল। কোথাও কোন ভাগাড়ে হয়তো শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে কংকালসার মা আবর্জনা থেকে কিছু একটা খুঁজে নিয়ে খাচ্ছে, কোথাও হয়তো কংকালসার মৃতদেহ পড়ে আছে ডাস্টবিনে, কাক ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে। কোথাও আবার ছিন্নবস্ত্র মা খড়খুটো খাইয়ে দিচ্ছে রুগ্ন সন্তানকে। আমরা কেউ এসব স্বচক্ষে দেখিনি, আমাদের এসবকিছু দেখিয়েছেন একজন শিল্পাচার্য, জয়নুল আবেদীন।

তার আগের বছর ব্রিটিশ শাসিত বার্মা দখল করে নিল জাপানীরা। ঐ বছরের শীতকালে হুট করে একদিন কিছু জাপানি বিমান যেন প্রমোদভ্রমণে বেরিয়ে কলকাতায় এসে কিছু বোমা ফেলে গেল। ব্রিটিশ সরকারের টনক নড়ে উঠল, এবার বুঝি তাদের সবচেয়ে লাভজনক উপনিবেশটাই নাকবোচাদের কাছে হারাতে হয়। শহরবাসী ভাবতে শুরু করল, নেতাজীর নেতৃত্বে জাপানি বাহিনী বার্মা থেকে পূর্ববঙ্গ হয়ে পুরো ভারতবর্ষটাকেই দখল করে নেবে!

জাপানীরা আসছে, এই রব উঠল চারদিকে। বার্মা থেকে সকল চালের আমদানী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আগেই। ৪৩ সালে এসে সরকার পূর্ববঙ্গের চারটি জেলার ধানচালের সমস্ত মজুদ সরিয়ে নেয়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যে ধ্বংস করে  হাজার হাজার নৌকা। একদিকে পেটে লাথি পড়ে লাখ লাখ বাঙালীর, আর আরেকদিকে কালোবাজারীরা চালের মজুত করতে থাকে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে চালের দাম। এক বছরের মাথায় এই ঢাকাতেই এক মন চালের দাম হয়ে যায় ১০৫ টাকা! বলে রাখা ভাল, তখন এক ভরি সোনার দাম ছিল চল্লিশ টাকার কাছাকাছি।

পুরো বাংলায় দেখা দেয়, স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র দুর্ভিক্ষ, পঞ্চাশের মন্বন্তর (বাংলা ১৩৫০ সালে দুর্ভিক্ষের শুরু হয়েছিল)। বছর তিনেকের এই দুর্ভিক্ষে মারা যায় প্রায় চল্লিশ লক্ষ, অথবা তারও বেশি মানুষ।

২.

তারও প্রায় পৌনে দুইশ বছর আগের কথা, পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের জয়ের বেশ কিছুদিন পর ১৭৬৫ সালের ১ অগাস্ট দিল্লীর বাদশাহ শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি নিয়ে নেন গভর্নর লর্ড ক্লাইভ। বাংলায় শুরু হয় দ্বৈত শাসনের যুগ। নামেমাত্র শাসক থাকেন দিল্লীর বাদশাহ, আর সকল ধরণের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের অধিকার চলে যায় ব্রিটিশদের হাতে। শুরু হয় নির্বিচারে খাজনা আদায়।

পরবর্তী কয়েক বছরের খাজনার অত্যাচার আর সাথে প্রথমে অনাবৃষ্টি আর তারপর বন্যা, বাংলার কৃষকদের একেবারে নাজেহাল করে দেয়। ফলাফল বাংলার ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ানক দুর্যোগ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (বাংলা ১১৭৬ সাল, ইংরেজী ১৭৭০) ।  বাংলায় তখন জনসংখ্যা ছিল প্রায় তিনকোটি, আর দুর্ভিক্ষের শেষে বাংলায় জনসংখ্যা নেমে আসে দুই কোটির নিচে। অর্থাৎ বাংলার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ স্রেফ পেটের ক্ষুধায় মরে যায়।

তার কিছুদিন পর, ১৭৮৩-৮৪ সালে আরেকটি বড় দুর্ভিক্ষ আঘাত করে উত্তর ভারতের বিশাল এলাকায়, আবারো এক কোটির বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর এক দশকের মধ্যেই ১৭৯১-৯২ এ আরেকটি বড় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, এবার দক্ষিণ ভারতে। এই দুর্ভিক্ষেও প্রাণ দেয় এক কোটির বেশি মানুষ। ব্রিটিশ শাসিত ভারতের পুরো ইতিহাসই এমন আরও অনেক দুর্ভিক্ষের, না খেতে পেয়ে মারা গেছে লাখ লাখ মানুষ।

৩.
শুধু ভারতবর্ষের ইতিহাসই এমন দুর্ভিক্ষের থাবায় জর্জরিত, এমন না কিন্তু। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের ইতিহাসের বই খুলে বসুন, দেখবেন যে প্রতি শতাব্দীতেই একেকটা জনপদ একাধিক বড় ধরণের দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। ছোট আকারের দুর্ভিক্ষ এতটাই নিয়মিত এবং স্বাভাবিক ছিল যে, এসবের অধিকাংশই আসলে ইতিহাসের পাতায় ঠিকমতন জায়গা করে নিতে পারেনি।

সবচাইতে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীনের কথাই ধরুন না। খ্রিস্টপূর্ব ১০৫ সাল থেকে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চীনে প্রতি বছরই কোন না কোন প্রদেশে দুর্ভিক্ষ লেগেই ছিল। ধারণা করা হয়, এই সময়ে পুরো চীনে ছোটবড় ১৮২৮ টি দুর্ভিক্ষ হয়! এর মধ্যে সবচাইতে বড় দুর্যোগটার পিছনেও ব্রিটিশ উপনিবেশের হাত আছে। ব্রিটিশদের সাথে আফিম যুদ্ধ আর পরে তাইপেং বিপ্লবের ফলাফল ১৮৫০-৭৩ এই সময়ে চীনের জনসংখ্যা কমে যায় ৬ কোটি!

আজকের পৃথিবীর অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ ফ্রান্সের কথাই ধরুন। ১৬৯৩-৯৪ সালে ফ্রান্স মুখোমুখি হয় তাদের ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের। ভয়াবহতার চিত্রটা বুঝতে তৎকালীন ফ্রান্সের এক কর্মকর্তার মুখের কথা শুনুন, “শহর এখন পূর্ণ অগণিত গরীব মানুষ দিয়ে, যারা ক্ষুধায় জর্জরিত এবং খাদ্যের অভাবে ক্রমাগত মরছে, কারণ তাদের কোন কাজ নেই, রুটি কেনার টাকা নেই। বেঁচে থাকার জন্য তারা বিড়াল, মরে যাওয়া ঘোড়া এমনকি গোবরের মতন জিনিস পর্যন্ত খাচ্ছে। কেউ কেউ গরু বা ষাঁড় জবাই এর পর সেই রক্ত খাচ্ছে, অথবা ছুড়ে দেয়া উচ্ছিষ্ট। কেউ কেউ আগাছা খাচ্ছে সেদ্ধ করে।”

পুরো ফ্রান্সজুড়েই ঐ সময়টায় একই অবস্থা ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে আগের দুই বছর ফসল না হওয়ায় শস্যগুদাম ছিল পুরো খালি, এবং ধনীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। যার ফলাফল, ঐ সময়টায় প্রায় আড়াই মিলিয়ন ফ্রেঞ্চ মারা যায়, মোট জনসংখ্যার ১৫%। পরের বছর এস্তোনিয়াতে এক পঞ্চমাংশ মানুষ, তার পরের বছর ফিনল্যান্ডের এক তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায় দুর্ভিক্ষে।

৪.

এসব তো ছিল পরাধীন সময়ের দুর্ভিক্ষ। আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশকেও মুখোমুখি হতে হয়েছে তীব্র এক দুর্ভিক্ষের। যুদ্ধবিদ্ধস্থ নতুন একটি দেশ, কলকারখানা থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্র কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তার উপর বিভিন্ন রকমের কূটনৈতিক চাপ, সাথে ৭৩ এর অনাবৃষ্টি এবং ৭৪ এর বন্যা। স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সদ্য স্বাধীন দেশটি আবারো কয়েক লাখ মানুষকে হারায়।

পরের বছরগুলোতেও না খেতে পেয়ে এদেশে মানুষ মরেছে। দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গ নিয়মিত মঙ্গার প্রকোপে পড়েছে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে। অক্টোবরের দিকে যখন উত্তরবঙ্গে পানির প্রকট সঙ্কট দেখা দেয়, সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং ফলশ্রুতিতে কোন ফসলই হয় না; তখন সেই অবস্থাকে মঙ্গা বলা হত। মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাত, অপুষ্টিতে ভুগে মরতে হত অনেক মানুষের। “হত” বলছি কারণ মঙ্গা এখন আর হয় না। নিয়ম করে আর মঙ্গায় না খেয়ে মানুষের মরতে হয় না আর। এই বদলে যাওয়ার চিত্রটা পুরো পৃথিবীর জন্যেই সত্য।

৫.

আমরা প্রায় সবাইই জানি এক দুই বেলা বা দীর্ঘ একটা দিন না খেয়ে থাকার ব্যাপারটা কেমন! কিন্তু আমরা কেউই জানি না, দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে কেমন লাগে। সপ্তাহ-মাস এমনকি বছর পর্যন্ত ঠিকমতো দুবেলা না খেয়ে থাকতে কেমন লাগে, সেটা আমাদের অধিকাংশেরই বোধের বাইরের একটা বিষয়। তবে দুর্ভিক্ষ পীড়িত সেইসব সময়ে এসব প্রায় নিত্য ঘটনাই ছিল কিন্তু!

দুর্ভিক্ষগুলো আপাত দৃষ্টিতে যথেষ্ট সাধারণ কারণেই হত। ভয়ানক বন্যা, কিংবা খরা কিংবা ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মতন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কখনো কোন যুদ্ধ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কারণে।

এখনো প্রায় প্রতি বৈশাখেই আমরা শিলাবৃষ্টিতে অনেক অনেক ফসল ধ্বংস হয়ে যাবার কথা শুনি। প্রতি বর্ষাতেই কোন না কোন অঞ্চলে ধান নষ্ট হয় হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে। অভাবে পড়তে হয় কৃষকের, খুব কষ্টে সৃষ্টে চলতে হয় কিছুদিন। কিন্তু খুব কষ্টে থাকলেও তারা কি কেউ না খেয়ে মরে যাচ্ছে? না!

সেইসব কৃষকের পরিবার অপুষ্টিতে ভুগছে, পেট ভরে হয়ত খেতে পাচ্ছে না। কিন্তু না খেয়ে মরতে হচ্ছে না। চারপাশে তাকালেই আমরা আবিষ্কার করব, কেউই আসলে না খেয়ে মরে যাচ্ছে না। আমাদের মতন প্রায় তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশ, গত ৪২ বছরে আর কোন দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়নি। ৮৮ কিংবা ২০০৪ এর ভয়ানক বন্যার পরেও না। এমনকি এই বছরে যে ভয়ানক বন্যায় উত্তরবঙ্গে কয়েক কোটি মানুষ আক্রান্ত হল, তাতেও কি আমাদের দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে হবে? এর উত্তরটাও “না”।

বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে, নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন-মধ্যবিত্তের পক্ষে পছন্দমত খাওয়া দাওয়া করা হয়ত সম্ভব হবে না কিছুদিন, কিন্তু দুর্ভিক্ষ কি আর ফিরে আসবে? সম্ভবত দুর্ভিক্ষ বলতে যেটা বোঝায়, সেটা আর কখনোই এই ভূখণ্ডে ফিরে আসবে না। আমরা যদি খানিকটা খেয়াল করি তবে দেখব, এমন অসংখ্য দ্বিতীয় তৃতীয় কিংবা চতুর্থ (যদি থাকত আরকি) বিশ্বের দেশে দুর্ভিক্ষ আর ফিরে আসছে না, আসবেও না হয়ত।

৬.

এই শতাব্দীতে এখন পর্যন্ত পুরো বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ হয়েছে মাত্র তিনটি। যার কোনটাই ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে আগের শতাব্দী কিংবা তারও পুরনো দুর্ভিক্ষের কাছাকাছিও না। এই জামানায় কোন একটা অঞ্চলে দুর্যোগের কারণে খাদ্যাভাব হলে বৈশ্বিক সংগঠন থেকে শুরু করে পৃথিবীর অসংখ্য দেশ খাদ্য চিকিৎসা নিয়ে এগিয়ে আসে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত জাতিসংঘ কিংবা নানা জায়গায় চিৎকার চলতেই থাকে। হ্যাঁ, এই দুনিয়াতেও এখনো অনেক মানুষই খাদ্যের অভাবে মরে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যিতে একটা বড় অংশ অপুষ্টিতে ভোগে। সেটা মোটেই মৃত্যু নয়!

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথাই ভাবুন না! মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তাদের কাউকে কি না খেয়ে মরতে হচ্ছে? না, কাউকেই না। শরণার্থী আসা শুরু হওয়া মাত্রই, শুধু বাংলাদেশ সরকার না, ইউনিসেফ থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে।  শুধু এসবই না, আমরা এখন অনেক আগে থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস পেয়ে যাই। অনুমান করতে পারি ভবিষ্যতের বৃষ্টিপাত, আদ্রতা কিংবা তাপমাত্রার পরিমাণ, প্রায় নির্ভুলভাবেই। আগে থেকেই যেকোনো রাষ্ট্র এখন আগাম খাদ্য সঙ্কটের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারে।

৭.

আর সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে, এখন পৃথিবীতে যত মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে তার চেয়েও ঢের বেশি মানুষ বেশি ওজনের কারণে নানারকম সমস্যায় ভুগছে। ২০১৪ সালে ৮৫ কোটি অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষের বিপরীতে ছিল ২১০ কোটি ওভারওয়েট মানুষ! এই ২০১০ সালে অপুষ্টি আর দুর্ভিক্ষে মৃত ১০ লক্ষ মানুষের বিপরীতে স্থূলতায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ লক্ষ!

পৃথিবীতে মানুষের প্রায় পুরো ইতিহাসটাতেই মৃত্যুর সবচাইতে বড় কারণটা ছিল এই দুর্ভিক্ষ, সবচেয়ে বড় শত্রু। কৃষি সভ্যতা শুরুর পর থেকে সবচাইতে বেশি মানুষের মরতে হয়েছে না খেতে পেয়ে। কৃষি সভ্যতায় এসে কিছু মানুষ ধনী হল, বিরাট একটা অংশ হয়ে গেল নিম্নবিত্ত। সভ্যতার সবচাইতে বড় এই ফাঁদে পা দিয়ে মানব জাতির বিরাট বড় একটা অংশ নিজেদের এই দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। গরীব মানুষ কখনোই পেট ভরে খেতে পারেনি, আর ধনীর খাবার টেবিল উপচে পড়েছে। সে গল্প জমা থাকল আরেকদিনের জন্য।

তবে এই একুশ শতকে এসে এমন একটা অদ্ভুত সময় এসেছে, যখন গুলশানের কোন এক ডুপ্লেক্সে বসে স্বাস্থ্যসচেতন এক কোটিপতি পরিবার ডিনার করছে কেবল সালাদ দিয়ে। তখনই হয়তো কোন বস্তিতে বসে এক রিকশাওয়ালা রাতের খাবার সারছেন এক গামলা ভাত আর আলুভর্তা দিয়ে।

আপনার কাছে কেমন লেগেছে এই ফিচারটি?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-