সিনেমা হলের গলি

হাসিনা পার্কার- মুম্বাইয়ের ‘আপা’র গল্প!

মুম্বাইতে ‘ভাই’ তো অনেকে হয়েছেন, কিন্তু ‘আপা’ একজনই। ‘হাসিনা পার্কার’ আপা। অন্ধকার জগতের সব থেকে বড় উপমহাদেশীয় ত্রাস দাউদ ইব্রাহিমের বোন হাসিনা পার্কার। একজন সৎ পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম কসকরের বারো সন্তানের মধ্যে হাসিনা ছিলেন সপ্তম। ১৯৫৯ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম হয় হাসিনার। ভাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস হলেও হাসিনাকে জীবনের প্রথম দিকে সেটা স্পর্শ করেনি। অন্য দশজনের মতোই স্বাভাবিক জীবন, সংসার ছিল তার। 

১৯৯১ সালে ভারতের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় হাসিনার স্বামী ইসমাইল পার্কারের মৃত্যুর পরেই হাসিনার জীবন বদলে যায়। শুরু হয় মুম্বাইয়ের গলিতে নতুন এক অধ্যায়। বোনের স্বামীর মৃত্যুর বদলা নেওয়ার জন্যে পাগল দাউদ সন্দেহভাজন প্রত্যেককে খুন করে নিজের হাতে। ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ের বোমা হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত দাউদ একটা সময়ে নিজের জীবন বাঁচাতে পাড়ি জমায় অপরাধীদের অভয়ারণ্য দুবাইয়ে। ফেলে যায় তার বিশাল অপরাধ জগৎ, টাকা-পয়সা আর অসীম ক্ষমতা। এখান থেকেই শুরু হয় হাসিনার ‘আপা’ হয়ে ওঠার গল্প। দাউদের বোন হওয়ার কারণে পুলিশের নজর সব সময় তার দিকে থাকলেও তত দিনে হাসিনা বুঝে গেছেন যে এই শহরে তার বাঁচার একমাত্র উপায় তার ভাইয়ের বিশাল সম্রাজ্যকে নিজে হাতে শাসন করা। মুম্বাইয়ের নাগপাড়ায় নিজের এপার্টমেন্টে বসে পুরো শহরের ক্ষমতা সামলেছে হাসিনা।

ভারত থেকে মিডলইস্টে এক টাকা লেনদেন হলেও তার হিসাব থাকতো হাসিনা পার্কারের কাছে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত দাউদ ইব্রাহিমের সব ধরনের ব্যবসা আর অপরাধের সাথে হাসিনা জড়িত ছিলেন সরাসরি। এমনকি ধারনা করা যায় তিনি নিজেই একা হাতে সামলেছেন খুন, কিডন্যাপিং থেকে শুরু করে তৎকালীন সময়ের মুম্বাইয়ের প্রত্যেকটি নির্মাণাধীন ভবনের চাঁদাবাজি। ৪ সন্তানের জননী হাসিনার জীবনে আবারো শোকের ছায়া নামে ২০০৬ সালে তার তার বড় ছেলে দানিশের মৃত্যুতে। দাউদ ইব্রাহিমের সব থেকে আদরের ভাগিনা দানিশ মারা যায় গোয়া থেকে মুম্বাইয়ে ফিরে আসার সময়,সড়ক দুর্ঘটনায়। নিজের বড় ছেলের মৃত্যু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মেনে নিতে পারেননি হাসিনা। ২০১৪ সালের রমজান মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মুম্বাই শহরে রানীর মতো দাপট করে বেড়ানো ‘আপা’।

গত বছর হাসিনা পার্কারকে নিয়ে সিনেমার ঘোষনা দেন পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া। সুরেশ নাইয়ার-এর চিত্রনাট্য আর নাহিদ খানের প্রযোজনাতে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১৮ই আগস্ট।

সিনেমাতে দাউদ আর হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করছেন বলিউডের দুই আপন ভাই-বোন সিদ্ধার্থ কাপুর এবং শ্রদ্ধা কাপুর। অভিনেতা শক্তি কাপুরের দুই ছেলে-মেয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন। হাসিনা আর দাউদের আত্মীয়দের সাথেও দেখা করেছেন তারা। সিদ্ধার্থ কাপুরকে দাউদ ইব্রাহিম হিসাবে পর্দায় মানিয়েছেও দারুণ। সম্প্রতি সিনেমার ট্রেইলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে বলিউডে। শ্রদ্ধা কাপুরের মতো কমার্শিয়াল সিনেমার নায়িকা হাসিনা পার্কারের চরিত্রটি পর্দায় কতখানি বিশ্বাসযোগ্য করে অভিনয় করতে পেরেছেন, সেটি দেখাই এখন সময়ের ব্যাপার। তবে নতুন অবতারে শ্রদ্ধাকে দেখে চমকে উঠেছে সবাই-ই!

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close