তারুণ্যপিংক এন্ড ব্লু

সাইবার স্টকিং – আপনার মানসিক অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ নয় তো?

ছুটির দিন। ঘরে শুয়ে-বসে অবসর সময় কাটছে। কিছু করার নেই। ফেসবুক নিউজফিডটাকেও কেমন যেন একঘেয়ে, বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। নতুনত্ব বলতে কিছুই যেন নেই। এশিয়া কাপ চলাকালীন মাশরাফি, সাকিব, তামিম কিংবা লিটন দাসদের নিয়ে মেতে ছিল অনলাইন জগৎ। মাঝে কদিন শোরগোল উঠেছিল এইচটুও নামের ধানমন্ডিতে অবস্থিত রেস্টুরেন্ট নিয়েও। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছুটা ঝিমিয়েই পড়েছে অনলাইন, সেরকম ট্রেন্ডিং টপিক বলতে কিছুই নেই।

তাহলে কী করা যায়? হঠাৎই মনে পড়ে গেল এক্সের কথা। আজ প্রায় দুইবছর তার কথা একটিবারের জন্যেও মনের কোণে উঁকি দিয়ে যায়নি। কিন্তু আজ কর্মহীনতার জের ধরে মনে পড়ে গেল তাকে। তার প্রতি এখন আর হয়ত বিন্দুমাত্র আবেগ নেই। বরং সেই আবেগের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে কিছু ক্রোধ আর বিদ্বেষ। কিন্তু সেসব যাই হোক, মানুষের কৌতূহল তো অদম্য। তাই জানার ইচ্ছা হতেই পারে, কী করছে, কেমন আছে আপনার সেই এক্স।

আর এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়াও তো খুব কঠিন কিছু নয়। ফেসবুকে শুধু একটি নাম সার্চ দেয়ার যা অপেক্ষা। সাথে সাথেই ঢুকে পড়া যাবে এক্সের আইডিতে। ঠিক সেটিই করলেন আপনি। ভাবলেন, শুধু একবার ঢুঁ মেরে চলে আসলেই হবে। কিন্তু শেষমেষ তা আর হলো না। প্রথমে আপনার এক্সের বর্তমান চেহারা জানতে দেখলেন তার ডিপি। সেটি দেখে মন ভরল না। মনে হলো, ডিপি দেয়ার জন্য তো বেছে বেছে সেরা ছবিটিই বেছে নিয়েছে নিশ্চয়ই। তারচেয়ে বরং সাধারণ কিছু ছবি দেখা যাক। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আধাঘন্টা বসে সব ছবি দেখলেন তার। এরপর মনে হলো, আচ্ছা, সে কি আগের মতই ন্যাকা আছে? শো অফ কিংবা অ্যাটেনশন সিকিং এর টেনডেন্সি কি এখনও একটুও বদলায়নি? জানার জন্য এবার একে একে তার সব স্ট্যাটাসই পড়তে শুরু করলেন। এভাবে কেটে গেল আরও ঘন্টাখানেক।

তবে শুধু ছবি দেখে আর স্ট্যাটাস পড়েই আশ মিটলো না আপনার। মনে মনে একটা কৌতূহল তো রয়েই গেছে, ব্রেক আপের পর আপনার এক্স কি মুভ অন করেছে? নতুন কাউকে পেয়েছে সে তার জীবনে? এগুলো জানার জন্য এবার তার ছবি ও স্ট্যাটাসের সব কমেন্ট পড়তে শুরু করলেন আপনি। যদি এমন কাউকে পাওয়া যায়, যার সাথে কমেন্টে কথাবার্তা অন্যদের চেয়ে একটু বেশি অন্তরঙ্গ, একটু বেশি রহস্যজনক। কিংবা এমন কেউ যদি থাকে, যার ব্যাপারে অন্যরা তাকে টিজ করে মজা নেয়। এভাবে কয়েকজনকে পাওয়া গেল। কিন্তু কীভাবে শিওর হবেন, এদের মধ্যে কে সেই দুর্ভাগা? সেটি জানার জন্য এবার আপনি সন্দেহভাজন প্রত্যেকের টাইমলাইনে প্রবেশ করতে শুরু করলেন। একইভাবে তাদের সকল ছবি, স্ট্যাটাস আর ওয়ালপোস্টের গতিবিধির উপরও সুতীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করলেন।

তাদের পোস্টে আপনার এক্স লাইক-কমেন্ট-রিয়্যাক্ট করে কি না, কিংবা আপনার এক্সকে ট্যাগ মেরে তারা কোনো পোস্ট দিয়েছে কি না, সেগুলো জানাই আপনার উদ্দেশ্য। এভাবে ক্রমান্বয়ে সন্দেহভাজন সকলের টাইমলাইনেই চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে ফেললেন আপনি। এবং যেহেতু এটি একটি অশেষ চক্র, তাই তাদের টাইমলাইনে ঘুরতে গিয়ে এমন আরও কয়েকজন নতুন টার্গেটের সন্ধান পেলেন আপনি, যাদের টাইমলাইনে গিয়ে নজরদারি করাকেও আপনার কাছে ফরজ বলে মনে হলো। এগুলো করতে করতে কখন যে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল, আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলো, আপনি টেরও পেলেন না। অর্থাৎ দুই বছর যেই এক্সের কথা আপনি চিন্তাও করেননি, গোটা একটি ছুটির দিন আপনি ব্যয় করলেন সেই এক্সের জন্যই। একদম তার অজান্তেই।

এই কাজ করে কি সুখ পেলেন আপনি? একটুও কি মানসিক প্রশান্তি লাভ করা গেলো? মোটেই না। বরং যত সময় গিয়েছে, আপনি একটু একটু করে অবসাদগ্রস্ত হয়েছেন। এবং এই মুহূর্তে আপনি অবসাদের চূড়ান্ত সীমানায় পৌঁছে গেছেন। প্রবল একাকীত্ব অনুভব করছেন। বুকটা হালকা হালকা লাগছে। মুখের মধ্যে কেমন একটা তিতকুটে স্বাদ অনুভব করছেন। কিচ্ছু ভালো লাগছে না, কিচ্ছু না।

এতক্ষণ আপনি যেই কাজটি করেছেন, সেটির নাম কী, জানেন? সেটি হলো সাইবার স্টকিং। এবং যেহেতু আপনার এমন স্টকিং কেবল ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ ছিল, তাই আপনি এটিকে অভিহিত করতে পারেন ফেসবুক স্টকিং নামেও। শুধু আপনিই যে এই কাজটি করেছেন বা করেন, তা কিন্তু নয়। এই কাজটি করে থাকি আমি, আমরা সকলেই। অনলাইন দুনিয়ায় এমন একটি মানুষ আপনি বের করে দেখাতে পারবেন না, যে কখনও সাইবার স্টকিং করেনি। অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে চাওয়া বা মাত্রাতিতিক্ত পরোপকারি মানুষজন তো এই কাজ করেই, এমনকি প্রচন্ড নার্সিসিস্ট বা আত্মপ্রেমী মানুষ, যাদেরকে দেখলে মনে হয় নিজেকে ছাড়া জগতে আর কারও বিষয়েই তাদের বিন্দুমাত্র ঔৎসুক্য নেই, তারাও অনলাইনে এসে নতুন অবতারে অবতীর্ণ হয়, স্টকিংয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছাড়ে না তারা কেউই।

সাইবার স্টকিং, রিলেশন, সন্দেহ, ভালোবাসা

এবং এই স্টকিং যে কেবল এক্সের টাইমলাইন ঘাঁটাতেই সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয়। সাইবার স্টকিং চলতে পারে যেকোনো ক্ষেত্রেই। ধরুন আপনার কোনো একটি বন্ধু নতুন প্রোফাইল পিকচার আপলোড করেছে। আপনি সেখানে একটি লাভ রিয়েকশন দিয়েছেন। কিন্তু তাতেই ওই ছবির প্রতি আপনার আগ্রহ শেষ হয়ে গেল না। বরং ঘন্টাখানেক পর কী মনে করে আপনি নিজেই গেলেন ওই বন্ধুর টাইমলাইনে। নতুন প্রোফাইল পিকচারটি বের করে দেখতে লাগলেন অন্য কে কী রিয়েকশন দিয়েছে, কে কী কমেন্ট করেছে। এই কাজগুলো কিন্তু একদমই নিরীহ, নির্দোষ কিছু কাজ। এতে দোষের কিছু নেই অবশ্যই। তবে জেনে রাখা ভালো, এগুলোও একপ্রকার সাইবার স্টকিংই। হুট করে আপনার চোখে পড়লো না, বরং আপনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো একটি বিষয়ে পর্যালোচনা করলে সেটিকে স্টকিংই তো বলতে হবে।

সুতরাং একটি বিষয় মোটামুটি পরিষ্কার যে অনলাইনে সাইবার স্টকার আমরা সকলেই। তবে মাত্রায় কিছুটা ভিন্নতা তো থাকবেই। কেউ বড়মাপের স্টকার, কেউ ছোট মাপের স্টকার, আর কেউ মাঝারি মাপের স্টকার। এখন প্রশ্ন হলো, সাইবার স্টকিং কি কোনো খারাপ কাজ? শাস্তিযোগ্য অপরাধ? সে কথা কিন্তু আমি একবারও বলছি না। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না, সেই একই কথা প্রযোজ্য সাইবার স্টকিংয়ের ক্ষেত্রেও। একটু আধটু স্টকিং তো অবশ্যই করবেন। নাহলে ফ্রেন্ড সার্কেলে আড্ডা দেয়ার মতো রসদ কই পাবেন! তাছাড়া কোনো একটি চিত্তাকর্ষক পোস্ট দেখলে তো মন চাইবেই কিছুক্ষণ পরপর গিয়ে সেটিতে কে কী কমেন্ট করল, তা দেখতে। এবং সত্যি সত্যিই যদি আপনি তা করেন, তাতে তো অসুবিধার কিছু নেই। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, জিনিসটা যেন কোনোক্রমেই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে না যায়।

এমন যেন না হয় যে নাওয়া-খাওয়া ভুলে সারাদিন আপনি কাউকে স্টক করতে লেগে গেছেন। কিংবা কাউকে স্টক করার পেছনে যদি নিজের জেলাসি বা ইনসিকিউরিটি কাজ করে, তাহলেও চেষ্টা করতে হবে সে কাজ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকার। জেলাসি বলতে ধরুন আপনার কোনো একজন বন্ধু খুব বড় কোনো সাফল্য অর্জন করে ফেসবুকে তা সবার সাথে শেয়ার করেছে। এখন যদি আপনি ঈর্ষাপরায়ণতার জের ধরে বারবার সেই পোস্ট চেক করতে শুরু করেন। আবার ইনসিকিউরিটি বলতে, মনে করুন আপনার প্রিয় মানুষটির পোস্টে এমন কেউ রিয়েকশন বা কমেন্ট করে বসলো কি না, যাকে মনে মনে আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন। এই ধরণের স্টকিংয়ের মাধ্যমে কোনো মানসিক শান্তিই লাভ করা যায় না, বরং মানসিকভাবে আপনার আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই চেষ্টা করবেন খুব করে মনে চাইলেও, এ ধরণের স্টকিংকে এড়িয়ে চলার।

সাইবার স্টকিং যে কেবল ইন্ডিভিজুয়াল ক্ষেত্রেই হয়, তা না। সাইবার স্টকিংয়ের বিভিন্ন ধারা আছে। মোটা দাগে সাইবার স্টকিংকে ছয় ভাগে ভাগ করা সম্ভব-

১। সম্পূর্ণ অপরিচিত কাউকে স্টকিং
২। বিপরীত লিঙ্গের কাউকে স্টকিং
৩। রোমান্টিক পার্টনার, ভালোবাসার মানুষ বা ক্রাশকে স্টকিং
৪। কোনো সেলিব্রিটি বা পাবলিক ফিগারকে স্টকিং
৫। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকে স্টকিং
৬। কর্পোরেট সেক্টরে সহকর্মী, উর্ধ্বতন বা নিম্নতন কর্মকর্তাকে স্টকিং

আমরা দৈনন্দিন জীবনে সাধারণত প্রথম চার ধরণের স্টকিং করে থাকি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ ধরণের স্টকিং একদমই বিশেষায়িত ধারার স্টকিং। কারও ক্ষতি করার জন্য স্টকিং সাধারণভাবে আমাদের উদ্দেশ্য থাকে না বটে, কিন্তু অনলাইনে সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গী কিংবা আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীরা এ ধরণের স্টকিংই করে থাকে। অর্থাৎ এ ধরণের স্টকিং সমাজের কল্যাণের স্বার্থেও হতে পারে, আবার সমাজের জন্য অকল্যাণকরও হতে পারে।

আর ষষ্ঠ ধরণের স্টকিংটি কর্পোরেট সেক্টরে চাকরি করেন বা চাকরি প্রত্যাশী, উভয় শ্রেণীর জন্যই খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে মূল্যায়ন করার জন্য তার অনলাইন কর্মকান্ড খুবই সহায়ক হতে পারে। তাই অনেক অফিসের বসেরাই আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিম্নতন চাকুরেদের স্টক করে, এবং দেখে যে তারা আদর্শবিরোধী বা কোম্পানির স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু করে কি না। অনেক সময় অনলাইনে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্যই অনেক যোগ্য কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে যেতে পারে। আবার কাউকে হায়ার করার আগেও আজকাল তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খতিয়ে দেখার রেওয়াজ তৈরী হয়েছে। কেবল সুন্দর একটি সিভি জমা দিয়েই নিশ্চিন্তে থাকলে হবে না কিন্তু। সেখানে যেহেতু আপনার সোশ্যাল মিডিয়া আইডির লিংক দিয়েছেন, তাই সেই সোশ্যাল মিডিয়া আইডিটি যেন পরিচ্ছন্ন হয়, বিতর্কিত কিছু না থাকে, সর্বোপরি আপনার একটি ক্লিন ইমেজের সাক্ষ্য দেয়, তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

এতটুকু যারা পড়ে এসেছেন, তাদের মনে একটি নার্সিসিস্টিক প্রশ্নের উদয় ঘটতেই পারে। ‘আমি কাউকে স্টক করবো না, ঠিক আছে। কিন্তু অন্য কেউ আমাকে স্টক করছে কি না, সেটি জানবো কীভাবে?’ এর জন্য আজকাল অনেক ধরণের অ্যাপসই দেখা যায়। কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই খুব বেশি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে ফেসবুক একটি কার্যকরী উপায় বের করেছে যার মাধ্যমে আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের কোন ছয় বা নয়জন বন্ধু আপনাকে সবচেয়ে বেশি স্টক করছে, তা জানা সম্ভব।

আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের যে বন্ধুরা আপনার প্রফাইলে সবচেয়ে বেশি ঢুঁ মারে, বা আপনার পোস্টে রিয়েকশন-কমেন্ট করে, বা নিছকই আপনার যেকোনো পোস্টের কমেন্টগুলো সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে, কিংবা আপনি নিজেই যাদের পোস্টে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখান, তার উপর ভিত্তি করে, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ফেসবুক আপনার টাইমলাইনে ‘টপ ৬/৯ ফ্রেন্ডস’ নির্ধারণ করে। তাই দেখবেন, অনেক সময় আপনার টপ ফ্রেন্ডসের তালিকায় এমন দুই-একটি নামও থাকে, যাদের সাথে কস্মিনকালেও আপনার প্রাইভেট মেসেজ হয়নি, বা হলেও খুব কম। এ থেকে আপনি বুঝতে পারবেন, তারাই আপনার সম্ভাব্য স্টকার। তবে যেহেতু এই তালিকায় আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের বাইরে কাউকে দেখায় না, সেজন্য ফ্রেন্ডলিস্টের বাইরের স্টকাররা অজানাই থেকে যায়।

‘সাজেস্টেড ফ্রেন্ডস’ এ অনেক সময়ই এমন কারও কারও নাম দেখায় যারা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার আপনার ফ্রেন্ড না হয়েও আপনার প্রফাইলে ঢুকেছে। তবে ‘সাজেস্টেড ফ্রেন্ডস’ এর অ্যাল্গরিদম নির্ধারণে যেহেতু প্রফাইল ভিউ ছাড়াও আরও কিছু বিষয় বিবেচ্য হয়, তাই কাউকে ‘সাজেস্টেড ফ্রেন্ডস’ এ দেখলেই ধরে নেয়া ভুল হবে যে এই লোক আপনার স্টকার।

যাইহোক, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় স্টকিং জিনিসটি মানুষের বিশেষ ‘ব্যবহার’, কোনো ‘মানসিক রোগ’ নয়। তাই কারও মধ্যে স্টকিংয়ের প্রবণতা থাকলেই যে সে মানসিকভাবে অসুস্থ, তা ঠিক নয়। তবে এ কথাও সত্য যে, কাউকে ক্রমাগত স্টক করতে থাকা কোনো সুস্থ অনুশীলন নয়। বাস্তব জীবনে হয়ত আমরা এরকমটা করার সুযোগ সচরাচর পাই না। কারণ একে তো আমরা শার্লক হোমস নই, আর দ্বিতীয়ত এভাবে প্রকাশ্যে কাউকে স্টক করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, ধরা পড়লে গনপিটুনি খাওয়ার আশঙ্কা আছে।

কিন্তু অনলাইনে যেহেতু তেমন কোনো ভয় নেই, তাই অনেকেই নির্দ্বিধায় স্টকিং করেই যায়। এভাবে অনলাইনে সাইবার স্টকিং করতে করতে যে কারও মধ্যে মানসিক বিকৃতি ঘটা খুবই সম্ভব। শুরুতে বিষয়টি কোনো মানসিক রোগ না হলেও, যখন সেটি অভ্যাসে পরিণত হবে এবং ব্যক্তিবিশেষের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে পরিণত হবে, তখন সেটিকে মানসিক অসুস্থতা বলা ছাড়া উপায় নেই। ক্রমাগত এধরণের স্টকিংয়ের ফলে মানুষ তার মানবিকতাবোধ যেমন হারাবে, তেমনি বিশ্বাস শব্দটি লোপ পাবে তার অভিধান থেকে, সে হয়ে উঠবে সন্দেহবাতিকগ্রস্ত। তাই অনলাইনে যারা ছোটোখাটো সাইবার স্টকিং চালাচ্ছেন, তারা সচেতন হয়ে উঠুন এখনই। সামান্য একটি বদভ্যাসের বীজ মহীরুহে পরিণত হয়ে আপনার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে ভেঙে তছনছ করে দিক, এমনটি নিশ্চয়ই কেউ চান না।

আরও পড়ুন-

Comments
Tags
Show More

Related Articles

Close