ফিচারটি যতবার পড়া হয়েছেঃ 258

ক্রিকেটের ‘অ আ ক খ’: ক্রিকেট ম্যাচ কাকে বলে? (পর্ব ১)

Ad

প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, এই লেখা যারা কিছুটা হলেও ক্রিকেট বোঝেন, তাদের কাছে বোরিং লাগতে পারে। ভাবতে পারেন, “এসব তো একেবারে বেসিক বিষয়, এ আবার জানানোর কি আছে?” কিন্তু যারা ক্রিকেট রিলেটেড বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং খেলোয়াড়দের ফেসবুক পেইজে ঘোরাঘুরি করেছেন, তারা জানেন যে এসব বেসিক ব্যাপারও সাধারণ মানুষের কাছে কতটা অজানা রয়ে গেছে। তাই সিরিজ আকারেই ক্রিকেটের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করবো এখানে।

*

প্রথমে আসি ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কে। একটা ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে তার প্রথম শর্ত হলো সেটার টস হতে হবে। মানে ধরুন একটা ম্যাচের টস হয়ে গেল, এরপরে যদি কোনো কারণে একটা বলও না হয় তাহলেও সেই ম্যাচটা ম্যাচ হিসেবে কাউন্ট হবে এবং এই ম্যাচে যারা একাদশে ছিলেন তাদের ম্যাচ সংখ্যায় এই ম্যাচটিও যোগ হবে। সমস্ত পরিসংখ্যানেও এই ম্যাচের হিসাব থাকবে।

কিন্তু একটি বল না হলেও ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এমন ওয়ানডে ম্যাচ আছে তিনটা এবং টি টুয়েন্টি ম্যাচ আছে পাঁচটা। এসব ম্যাচে একটা বল না হলেও এগুলো খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে যোগ হবে।

রেকর্ড দেখতে পারেন এখানে –

ওয়ানডে – http://stats.espncricinfo.com/ci/content/records/284073.html

টি টুয়েন্টি – http://stats.espncricinfo.com/ci/content/records/283075.html

তবে টেস্ট ম্যাচে এখনও টস হয়েছে কিন্তু একটা বলও হয়নি এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে সবচেয়ে কম বল স্থায়ী হওয়া টেস্টের আয়ু ছিল মাত্র ১০ বল। ২০০৯ সালে এন্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে হওয়া এই ম্যাচ ১০ বল হবার পরেই বাতিল করা হয় খারাপ আউটফিল্ডের জন্য। ম্যাচ বাতিল হলেও এই ১০ বলে যা যা হয়েছে, সবই খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে। প্রথম দিনে এই ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়ায় ২ দিন পরে এন্টিগারই অন্য এক মাঠে আরেকটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা হয় এবং দুইটি ম্যাচই স্বীকৃত ম্যাচ হিসেবে রেকর্ড বুকে থেকে যায়।

সেই সিরিজের ফলাফল দেখতে পাবেন এখানেঃ http://www.espncricinfo.com/ci/engine/series/352657.html

ওয়ানডে এবং টি২০-তে জয়, পরাজয়, টাই এবং কোন ফলাফল নেই- এই চার ধরণের ফলাফল হতে পারে। টেস্টে জয়, হার, ড্র, টাই এই চার ধরণের ফলাফল হতে পারে। ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টিতে যেমন ড্র বলে কিছু নেই, তেমনি টেস্টেও ‘নো রেজাল্ট’ বলে কিছু নেই। যেমন- ওই ১০ বল খেলা হওয়া টেস্টটিও ড্র হিসেবে স্বীকৃত। আর যেসব টেস্টে টসই হয়নি, সেসব টেস্টকে পরিসংখ্যানের হিসাবেই আনা হয় না।

এই যেমন পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সিরিজ চলাকালে টেস্ট ম্যাচ শুরু হবার মাত্র ২ ঘন্টা আগে টিম হোটেলের কাছে বোমা বিস্ফোরণ হওয়ায় নিউজিল্যান্ড দল ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে যায়। এই ম্যাচটি হবার কথা ছিল ১৬০২ নম্বর টেস্ট। কিন্তু এই ম্যাচটির টস না হওয়ায় এটি ১৬০২ নম্বর টেস্ট হিসেবে ধরা হয়নি। সেই ম্যাচ রিপোর্ট দেখতে পারেন এখানেঃ http://www.espncricinfo.com/wi/engine/match/64147.html 

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ভারতের ম্যাচটি ১৬০১ নম্বর ম্যাচ হয় এবং এই ম্যাচটিকে ১৬০১a বলা হয়। সেই ম্যাচ দেখতে পারেন এখানেঃ  http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/63986.html

এছাড়া বৃষ্টির জন্য অনেক সময় টেস্ট ম্যাচে টসও বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে সব সময় যে এভাবে ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়াটা খারাপ কিছু এমনও না। এমন একটা বাতিল টেস্ট ম্যাচ থেকেই জন্ম হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের।

সেই টেস্ট-এর বিস্তারিত দেখতে পারেন এখানেঃ http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/64137.html

ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। যেমন বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ২০১০ সালে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবার কথা থাকলেও ওই সিরিজের ২য় ম্যাচে বৃষ্টির জন্য টসই হতে পারেনি। ফলে সিরিজটি ৪ ম্যাচ সিরিজে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশ ৪-০ তে জিতে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ করে। ২য় ম্যাচে যদি টস হতো এবং এরপরে একটা বলও খেলা না হতো, তাহলে বাংলাদেশ ৪-০ তে জিতলেও সেটা হোয়াইটওয়াশ বলা যেত না।

ওয়ানডেতে ম্যাচের রেজাল্ট হতে হলে উভয় ইনিংসেই কমপক্ষে ২০ ওভার খেলা হতে হবে। টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রে উভয় ইনিংসে কমপক্ষে ৫ ওভার করে খেলা হতে হবে। কোনো কারণে কোনো ইনিংসে এর কম খেলা হলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হবে, কিন্তু সেটি অবশ্যই স্বীকৃত ম্যাচ হবে এবং এর সমস্ত রেকর্ডই রেকর্ড বুকে জমা হবে।

আইসিসির আইনে ওয়ানডের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ ওভার এবং টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ওভারের কথা বলা হয়েছে। 12.4.2 এর ii আইনে এটা পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে।

ওয়ানডের ক্ষেত্রেঃ http://icc-live.s3.amazonaws.com/cms/media/about_docs/580f289f4f9ad-04]%20Standard%20ODI_2016%20-%202017%20Clean.pdf

টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রেঃ http://icc-live.s3.amazonaws.com/cms/media/about_docs/580f28b28a1f3-05]%20Standard%20T20_2016%20-%202017%20Clean.pdf

ড্র এবং টাই

ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টি ম্যাচে ড্র বলে কিছু নেই। যদি দুই দলের স্কোর সমান হয় তাহলে সেটা টাই বলা হয়। টি টুয়েন্টিতে তো টাইয়ের পরে আবার সুপার ওভারও রাখা হয়। টেস্ট ম্যাচে ব্যাপারটা আরও ইন্টারেস্টিং। টাই বললে আমরা বুঝি দুই দলের স্কোর যদি সমান হয়ে গেলে সেটাকেই টাই বলে। কিন্তু টেস্টে ব্যাপারটা সব সময় তা নয়। যদি এমন হয় যে দুই ইনিংস মিলিয়ে দুই দলের রানই সমান, কিন্তু চেজ করা দল ২য় ইনিংসে অলআউট হয়নি, তাহলে সেই ম্যাচ টাই নয়, বরং ড্র হিসেবে ধরা হবে। এমন ম্যাচ এ পর্যন্ত মাত্র দুটিই হয়েছে। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়ে বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার ১ম টেস্টে এবং ২০১১ সালে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ৩য় টেস্টে। স্কোরকার্ড এখানে-

১। http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/63734.html

২। http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/535999.html

টাই হবে তখনই যখন চেজ করতে যাওয়া দলের রান সমান হবে এবং তারা অলআউট হয়ে যাবে। এমন ঘটনাও ঘটেছে মাত্র দুইবার। একটা ১৯৬০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ১ম টেস্টে, আরেকটি ১৯৮৬ সালে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ১ম টেস্টে। স্কোরকার্ড এখানেঃ

১। http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/62888.html

২। http://www.espncricinfo.com/ci/engine/current/match/63438.html

ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রে কিন্তু উইকেট যতটাই পড়ুক, ইনিংস শেষে রান সমান হলে সেটিই টাই ধরা হবে।

অনেকেই ভাবতে পারেন, ধুর কি সব প্যাচাল পাড়ছে, এসব তো জানা কথাই। জ্বি না জনাব, সবার জানা নয়। এইতো, বছরের শুরুর এমন সময়েই ২০১৪ সালের শুরুর দিনেই কোরি এন্ডারসন যখন আফ্রিদির রেকর্ড ভেঙ্গে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করলো, তখন বলা হলো আফ্রিদির রেকর্ড নাকি আসলে ভাঙ্গেনি, কারণ এই ম্যাচ ২১ ওভারের ম্যাচ ছিল তাই এটা সহি ওয়ানডে ম্যাচ নয়! শুধু ফেসবুকের আমজনতাই নয়, রীতিমত অনলাইন নিউজসাইটেও ছাপা হয়েছিল এ ধরণের খবর। এমনই একটি নিউজঃ

লিঙ্কঃ http://rupashibanglanews.com/sport/8975-

অথচ আইসিসির আইনে পরিষ্কার ভাবে ওয়ানডের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ ওভার এবং টি টুয়েন্টির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ওভারের কথা বলা হয়েছে। এরপরেও ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এর জন্যেই ক্রিকেটের খুঁটিনাটি নিয়মকানুন গুলো সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে মানুষ এ ধরণের ভুয়া খবর থেকে রক্ষা পায়!

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (4 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Ad

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য লেখাগুলো

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন-

Ad